ধারাবাহিক স্মৃতিকথা

পিওন থেকে প্রকাশক

বাদল বসু

বসন্ত কেবিনের বিষয়ে লিখতেই মনে পড়ল শিবরাম চক্রবর্তীর কথা। একদিন খুব ব্যস্ত হয়ে চলেছি। হাতে প্রুফ। বগলে ছাপা ফর্মার বান্ডিল। কাঁধের ঝোলায় ক্যালেন্ডারের মতো পাকানো প্রচ্ছদ। নানারকম কাজ নিয়ে বেরিয়েছি। হঠাত্‌ শিবরামবাবুর হাঁক শুনতে পেলাম, “এই যে বাদলবাবু, এত হন্তদন্ত হয়ে কোথায় চললেন? খুব ব্যস্ত?”

ব্যস্ততা যে ছিল তা বলাই বাহুল্য। তবু শিবরাম চক্রবর্তীর ডাক কি উপেক্ষা করা যায়?

শিবরামবাবু বললেন, “অনেকক্ষণ ধরে বইপাড়ায় টহল দিচ্ছি। চলুন বসন্ত কেবিনে। একটু চা খাওয়া যাক।”

লক্ষ করলাম, শিবরামবাবুর পরনে আধময়লা ধুতি-পাঞ্জাবি। সঙ্গে একটি মেয়ে। আমি মেয়েটিকে সেভাবে নজর করিনি। শিবরামবাবুর ভাগনে-ভাগনি পোষার গল্প আমার জানা ছিল। আসলে ওঁর নিজের কোনও ভাগনে-ভাগনি ছিল না। কিন্তু সদ্য গোঁফ ওঠা কোনও ছেলের সঙ্গে আলাপ হলেই তিনি সেই ছেলের সঙ্গে ভাগনে পাতিয়ে নিতেন। সেইভাবেই সদ্য শাড়ি পরতে শুরু করা কোনও মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হলেই মেয়েটি হয়ে যেত তাঁর ভাগনি। ওই মেয়েটিকেও আমি শিবরামবাবুর তেমনই এক ভাগনি ভেবেছিলাম।

তিনজনে মিলে গেলাম বসন্ত কেবিনে। ওখানে তখন ছোট-ছোট পরদা দেওয়া ঘর ছিল। তেমনই একটা ঘরে গিয়ে বসলাম।

শিবরামবাবু ফস করে জিজ্ঞেস করলেন, “কাটলেট চলবে তো?”

আমি কোনও জবাব দেওয়ার আগে তিনি দুটো কাটলেটের অর্ডার দিলেন। বুঝলাম, উনি খাবেন না। তারপর যোগ করলেন, “পরে চা দেবেন।”

কিছুক্ষণ পর কাটলেট এল। আমি আর শিবরামবাবুর ভাগনি টুকটুক করে কাটলেট খাচ্ছি। আর শিবরামবাবু বলে চলেছেন একের পর-এক গল্প। সব গল্পই তাঁর বই নিয়ে, বই বিক্রি নিয়ে, প্রকাশকদের টাকা মেরে দেওয়া নিয়ে। প্রতিটি প্রসঙ্গই শুরু হচ্ছিল একটাই কথা দিয়ে, “বুঝলেন বাদলবাবু...”

কাটলেট খাওয়া যখন প্রায় শেষ, হঠাত্‌ শিবরামবাবুর একটা জরুরি কথা মন


TO READ THE REST OF THIS PIECE, SUBSCRIBE NOW

You may like