চিঠিপত্র

শিষ্টাচার-বহির্ভূত কথাবার্তা

  • নবনীতা দেবসেন ‘শব্দ পড়ে টাপুর টুপুর’ রম্য রচনায় ‘স্বাধীনতা’, ‘কংগ্রেসী’, ‘রাজনীতি’ ইত্যাদি শব্দের রং বদল হওয়া নিয়ে সরস-বাস্তব মন্তব্য করার কালে লিখেছিলেন, ‘রাজনীতি করা ছেলে মানেই এককালে ছিল যে ছেলে দেশের উন্নতির জন্য ব্যক্তিগত জীবনের উন্নতিকে জলাঞ্জলি দিয়েছে, অথচ এখন পলিটিক্স মানেই ধান্দাবাজি!’ ‘... শব্দের ভেলায় ভেসে যেমন কোথাও উত্তীর্ণ হওয়া যায় শব্দের পাথরে রোদ্দুর লেগে তেমনি ডুবেও যাওয়া যায়।’ ‘দিশেহারা, তাই বেলাগাম মন্তব্য’, (মন্তব্য ২ ডিসেম্বর ২০১৪) শীর্ষক নিবন্ধ পড়ে কথাগুলি মনে পড়ে গেল।    

    বর্তমানে যাঁদের ওপর পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান-ভবিষ্যত্‌ নির্ভরশীল, বিজেপি-র জুজু তাঁদের এমন দিশেহারা করে দিয়েছে যে, অহরহ ভুলভাল মন্তব্য, শব্দের অপপ্রয়োগ, অপভাষা এবং শিষ্টাচার-বহির্ভূত হুটহাট মন্তব্য করতে তাঁদের বিবেকে আটকাচ্ছে না। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো শাসকদলের মন্ত্রী-সান্ত্রী-শুভানুধ্যায়ীদের ওপর ঝুলছে সারদা-কাণ্ডের খড়্গ, চতুর্দিকের নিন্দা-অপবাদে কান পাতা দায়। ক্রুদ্ধ-অসহায়-দিশেহারা মুখ্যমন্ত্রী তাই হারিয়ে ফেলছেন বাক্শিষ্টতা। একজন দায়িত্বপূর্ণ পদমর্যাদাসম্পন্ন প্রশাসকের পক্ষে এই ধরনের বেলাগাম মন্তব্য কি মাননসই?... ইতিপূর্বে খাগড়াগড় কাণ্ডের সঙ্গে ‘র’-এর যোগসাজশ সম্পর্কিত আলটপকা মন্তব্য তাঁর ২৩ বছরের সাংসদীয় অভিজ্ঞতাকেই মিথ্যে প্রতিপন্ন করে। মুশকিল হল, মুখ্যমন্ত্রী বলেন এবং ভুল শুধরে নেন। তাঁর অকথা-কুকথা-লাগামছাড়া মন্তব্য যে অতি স্নেহভাজন অভিনেতা ভাই এবং মস্তিস্কে কম অক্সিজেন যাওয়া অনুব্রতকেই উত্‌সাহিত করবে, এ সত্য তিনি বিস্মৃত হচ্ছেন। কেউ কি ভাবছেন এর প্রতিক্রিয়া কী মারাত্মক হতে পারে?

    ধ্রুবজ্যোতি বাগচী, কলকাতা-৭০০১২৫

You may like