চিঠিপত্র

গাজ়া ভূখণ্ডে অন্তহীন লড়াই

  • গাজ়ায় ইজ়রায়েলি হানায় সহস্রাধিক নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটে যাওয়ার যে-সময়কাল, তার প্রথমদিকে ইউনাইটেড নেশন্স চুপ থাকলেও পরে নড়েচড়ে বসেছে। মানবাধিকার কমিশন ইজ়রায়েলকে ঘোষণা করেছে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে। সুমিত মিত্রের লেখা ‘যে-প্রশ্নে দ্বিধাগ্রস্ত সমগ্র পৃথিবী’-র (মন্তব্য, ২ আগস্ট ২০১৪) পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠির অবতারণা।

    প্রাবন্ধিক কমিশন গঠনে ভারতের সায় দেওয়ার বিরোধিতা করলেও বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কথাও বলেননি। তাঁর মতে, ইউরোপের দেশগুলির মতো ভারতকেও ভোটদান থেকে বিরত থাকতে হত। তার কারণ, ইজ়রায়েল আমাদের সেনাদের হাতে তুলে দিয়েছে উন্নত মারণাস্ত্র, আধুনিক সামরিক সামগ্রী।

    ইউনাইটেড নেশন্স যে-কয়েকটি শ্রেণিকে ভালনারেব্ল গ্রুপের মধ্যে ফেলেছেন, সেগুলি হল- Women, Children, Migrant Workers, Refugees, Stateless Persons, Older Persons ইত্যাদি। আর এই শ্রেণিভুক্তদের অধিকার বিঘ্নিত হওয়া মানে দুর্বল শ্রেণির অধিকার হনন, যা মানবাধিকারের পরিপন্থী।

    ইজ়রায়েল আর গাজ়ার মধ্যে যে-লড়াই চলেছে, তাতে মৃতদের মধ্যে নারী আর শিশুই সর্বাধিক। সুতরাং এতে মানবাধিকার কমিশনের নাক গলানোই উচিত। তার ওপর ইজ়রায়েলের অনিয়ন্ত্রিত আক্রমণ genocide ছাড়া আর অন্য কিছু নয়। এই পরিস্থিতিতে ইউনাইটেড নেশন্স যদি কমিশন গঠন করে, মানবতার খাতিরে তাকে সমর্থন করা প্রতিটি দেশের অবশ্য কর্তব্য। ইজ়রায়েল ভারতকে অস্ত্র সরবরাহ করে বলেই তাকে সমর্থন করতে হবে, এ কেমন কথা? ইজ়রায়েল অর্থের বিনিময়ে অস্ত্র বিক্রি করে। হয়তো হামাসের অস্ত্রও ইজ়রায়েলে তৈরি। ইজ়রায়েলের ওপর ভারত যতটা নির্ভরশীল, ইজ়রায়েলও ভারতের ওপর ঠিক ততটাই, বেশি তবু কম নয়। লেখক আরও লিখেছেন, ‘...এই সব সম্পদ ভারত সংগ্রহ করেছে ইজ়রায়েল থেকে, আরব দুনিয়া থেকে নয়।’ সম্ভবত, আরব দুনিয়ার সঙ্গে ভারতের কমিশন গঠনে সায় দেওয়াকে নিবন্ধকার মেনে নিতে পারেননি। কমিশন গঠনে সায় দেওয়া যেমন ইজ়রায়েল বিরোধিতা, তেমনই নীরব থাকাটাও আরব দুনিয়ার কাছে নেতিবাচক ইঙ্গিত বহন করা। অস্ত্রের তুলনায় খনিজ তেল আরও বেশি জরুরি। তার অভাবে উন্নয়নের রথ থেমে যাবে।

    গোলাম হাক্কানী, মুর্শিদাবাদ-৭৪২২২৫  

You may like