সাক্ষাত্কার

আমি ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে নিজেকে একজন নির্ভেজাল আন্তর্জাতিক মানুষ হিসেবে দেখি। - গোলাম মুরশিদ

হর্ষ দত্ত

  • বিদেশে অধ্যাপনা, বাংলা ভাষা ও বাঙালির ইতিহাস নিয়ে চর্চা, মাইকেল মধুসূদনের প্রামাণ্য জীবনীরচনা। এই সবকিছু নিয়েই কথা বললেন অধ্যাপক-ইতিহাসবিদ গোলাম মুরশিদ।  শুনলেন হর্ষ দত্ত।

    হর্ষ দত্ত: আপনি দীর্ঘদিন বিদেশে থাকেন। অধ্যাপনা ছাড়াও কাজ করেছেন বিবিসি-তে, রেডিয়ো জার্নালিস্ট হিসেবে। উত্তর-ঔপনিবেশিক জগতে এবং উত্তর-ব্রেক্সিট লন্ডনে নিজের ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? 

    গোলাম মুরশিদ: একজন মানুষের পরিচয় বা আইডেন্টিটি নিয়ে নানাবিধ চর্চা হয়েছে। হচ্ছে। আমি সোজাসুজি বলি, প্রথম থেকে শেষপর্যন্ত নিজেকে আমি একজন মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। দেখিও। এর বাইরে আমার আরও-একটা পরিচয় আছে- বাংলা আমার মাতৃভাষা এবং সেই সুবাদে আমি ‘বাঙালি’। কোনও রাষ্ট্রীয় অথবা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে আমি চিহ্নিত হতে চাই না। তার কারণ, রাষ্ট্রীয় সীমানা, রাজনৈতিক আদর্শ, ধর্মীয় বিশ্বাস-সহ বিভিন্ন মতবাদ মানুষের সঙ্গে মানুষের ভেদের দেওয়াল তুলে দেয়। আমি এসব ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে নিজেকে একজন নির্ভেজাল আন্তর্জাতিক মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। দেখতে ভালবাসি। 

    প্র: ভারতের স্বাধীনতার আগে অবিভক্ত বাংলা, মুক্তিযুদ্ধের আগে পূর্ব-পাকিস্তান ও তার পরবর্তী সময়ের ‘বাংলাদেশ’। একই দেশের এই ভিন্ন-ভিন্ন সত্তায় কী ধরনের প্রভেদ ধরা পড়ে আপনার চোখে?

    উ: বিংশ শতাব্দে একই বঙ্গভূমির পরিচয় তিন-তিনবার বদল হয়েছে। প্রথমবারের মতো বঙ্গদেশ একটা অস্থায়ী সীমারেখা দিয়ে পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গ নামে পরিচিত হয় ১৯০৫ সালে। ক’বছরের মধ্যেই সেই বিভক্ত বঙ্গদেশ জোড়া লাগলেও বিভাজনের দাগটা পুরোপুরি মুছে যায়নি। বরং ১৯৪৭ সালে সেই দাগটাই অঙ্কিত হয় স্থায়ীভাবে। সেই পরিবর্তন কেবল মানচিত্রের পরিবর্তন ছিল না, তার চেয়ে ঢের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছিল সমাজের ক্ষেত্রে। তার আগেকার সমাজ ছিল হিন্দু-মুসলমানের অসম কিন্তু মিলিত সমাজ। কিন্তু দেশবিভাগের ফলে সেই সমাজ নতুন করে বিন্যস্ত হল ধর্ম এবং অঞ্চলের ভিত্তিতে। এই বিভাজনের আগে এবং পরে পূর্ব বাংলা থেকে শিক্ষিত হিন্দুরা ব্যাপক হারে দেশত্যাগ করেন এবং তার ফলে একটা অভূতপূর্ব সমস্যা দেখা দেয়। পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে তাঁদের পড়তে হয় তীব্র জীবনসংগ্রামের মুখে। অপর পক্ষে, পূর্ব পাকিস্তানে চাকরি-বাকরি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা প্রায় লোপ পায় এবং তার ফলে তুলনামূলকভাবে অনগ্রসর মুসলমান-সমাজ অভাবিত পরিমাণে লাভবান হয়। এই পরিবেশে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার মতো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে মুসলমানরা শিক্ষা, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অসাধারণ উন্নতি করলেন। এভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক শোষণ এবং একপেশে শাসন সত্ত্বেও মাত্র পনেরো/বিশ বছরের মধ্যে পূর্ব বাংলায় একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মুসলমান সমাজ গড়ে উঠল। তাঁরা এ সময়ে আত্মানুসন্ধান আরম্ভ করেন এবং পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক শাসন সম্পর্কে সচেতন হন। এই পরিবেশে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন দেশে পরিণত হয়। স্বাধীন হওয়ার ফলে শিক্ষা, সমাজ এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতি হয় অপ্রতিহত গতিতে।

    প্র: তার মানে আপনি কি এই দিকে ইঙ্গিত করছেন- পূর্ববঙ্গের বাঙালিরা পশ্চিমবঙ্গীয়দের পেছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন?

    উ: আমার ধারণা, পশ্চিমবঙ্গ একটা স্বাধীন দেশের অংশ মাত্র হওয়ায়, সেখানে যতটা অগ্রগতি হয়েছে, সে তুলনায় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশে অগ্রগতি হয়েছে অনেক বেশি। তার জাতীয়তাবাদী পরিচয় এবং আত্মমর্যাদাও জোরালো হয়েছে। এখন অনেকেই তাই নিজেদের ভাষিক পরিচয়ের চেয়েও রাষ্ট্রীয় পরিচয়কে বড় করে দেখেন। পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় বাংলাদেশের নারীদের সামাজিক উন্নতিও এতটাই হয়েছে যে, সে কথা আলাদা করে উল্লেখ করতে হয়। একটা স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের চর্চাও পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মনে হয় ভবিষ্যতেও তা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। অপর পক্ষে আমার আশঙ্কা, ভারতের একটা অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, সেখানে হয়তো বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সীমিত পরিমাণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষণা লাভ করবে, সেখানে বাংলা ভাষার পাশাপাশি বরং হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষার চর্চাই বৃদ্ধি পাবে!

    প্র: আপনার ছাত্রজীবন, সেই সময়টা কেমন ছিল? কারা ছিল আপনার অনুপ্রেরণা? বঙ্গীয় ইতিহাসের প্রতি ঝোঁক জন্ম নিল কীভাবে? কেন?

    উ: আমার স্কুল-জীবন কেটেছে গ্রামে। বাবা ছিলেন স্কুলের হেডমাস্টার। তাঁর কড়া শাসনে বড় হয়েছি। কিন্তু তাই বলে ছেলেবেলায় লেখাপড়ার প্রতি আমার যে-আন্তরিক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, হলফ করে সেটা বলতে পারব না। তবে ইতিহাসের একজন শিক্ষক থাকতেন আমাদের বাড়িতে- ইংরেজিতে লেখা তাঁর ইতিহাস বইগুলো তখনই পড়েছিলাম। স্কুলের পর কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়-জীবন কেটেছে ঢাকায়। লেখাপড়ায় খানিকটা স্বাদ পেতে আরম্ভ করি এম এ পড়ার সময়। তখন আমার প্রিয় অধ্যাপকরা ছিলেন মুনীর চৌধুরী, মুহাম্মদ আবদুল হাই আর আহমদ শরীফ। তবে সত্যি বলতে কী, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে যখন বের হই, তখন লেখাপড়া সামান্যই জানতাম। সে অর্থে আমি যেটুকু শিখেছি, নিজে নিজেই শিখেছি এবং তাও সামান্যই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করার সময় তপন রায়চৌধুরী সেখানকার ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশ স্টাডিজ়-এ পর পর আট-ন’টা সেমিনার দিয়েছিলেন ১৯৭৪ সালে। আধুনিক ইতিহাস সম্পর্কে সেই প্রথম জানতে পারলাম। বুঝতে পারলাম, সন-তারিখ আর ঘটনার ফিরিস্তিকে ইতিহাস বলে না। সামাজিক ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ইতিহাস, বুদ্ধিবৃত্তির ইতিহাস-সহ ইতিহাসের নানা শাখারও পরিচয় তখন। তার পর-পরই এলেন বঙ্গবিদ্যা-বিশারদ ডেভিড কফ। তাঁর সঙ্গেই আমি পিএইচডি করি ‘হিন্দু সমাজ-সংস্কার সচেতনতার ইতিহাস’ নিয়ে। এ সময়ে শিবনারায়ণ রায়ও আসেন রাজশাহীতে। পরে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও অধ্যাপক রায়ের তত্ত্বাবধানে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা করি। ডেভিড কফ আর শিবনারায়ণ রায়ের কাছ থেকেই শিখলাম ধারণাগত কাঠামো অর্থাত্‌ কনসেপচুয়াল ফ্রেমওয়ার্ক সম্পর্কে। বর্ণনামূলক রচনা নয়, বরং বিশ্লেষণাত্মক রচনাই যে আদর্শ হওয়া উচিত- সে শিক্ষাও পাই এঁদের দু’জনের কাছ থেকে। আমি তপন রায়চৌধুরীর কাছে সরাসরি লেখাপড়া শিখিনি, কিন্তু একলব্যের মতো তাঁকে দূর থেকে গুরু হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম। একলব্যের সঙ্গে আমার পার্থক্য এই যে, অক্ষমতাবশত আমি তাঁর যোগ্য শিষ্য হতে পারিনি।

    প্র: অধ্যাপনা শুরু করেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশ ছাড়লেন কেন? ইতিহাসচর্চা, জ্ঞানচর্চা দেশে থেকে করায় কি কোনও অন্তরায় ছিল?

    উ: দেশ ছাড়তে প্রায় বাধ্য হয়েছিলাম- পারিবারিক কারণে। তার জন্যে প্রথম দিকে খুব আফসোস হত। কিন্তু পিছনের দিকে তাকিয়ে এখন আর আফসোস হয় না। বরং মনে হয়, দৈবক্রমে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম। লন্ডনে না গেলে এবং দীর্ঘকাল ধরে ব্রিটিশ লাইব্রেরি-সহ অন্যান্য লাইব্রেরিতে গবেষণা করার স্বর্ণসুযোগ না পেলে কোনওদিনও ‘আশার ছলনে ভুলি’ লিখে মাইকেল মধুসূদনের জীবনী পুনর্নির্মাণ করতে পারতাম না, আঠারো শতকের বাংলা গদ্য নিয়ে অমন মৌলিক গবেষণা করতে পারতাম না, বিলেতে বাঙালির ইতিহাস, হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি, এমনকী, রেনেসন্স সম্পর্কেও লিখতে পারতাম না। বাংলা বিবর্তনমূলক অভিধানের ধারণাও মাথায় আসত কি না বলতে পারছি না।

    প্র: অর্থাত্‌, প্রবাসজীবনই তৈরি করেছে ইতিহাসবিদ গোলাম মুরশিদকে?

    উ: হ্যাঁ, তা স্বীকার করতেই হবে। প্রবাসে আড্ডা থেকে শতহস্ত দূরে থাকার দরুন লেখাপড়া এবং গবেষণার অবারিত সুযোগ পেয়েছিলাম। তা ছাড়া, পশ্চিমি মূল্যবোধও আমার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করেছিল। সত্যি বটে, দূর প্রবাসে থাকি বলেই আমি হয়তো দেশের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি তেমন পাইনি; কিন্তু বই বিক্রি যদি কোনও নির্দেশক হয়, তা হলে এই বলে সান্ত্বনা পেতে পারি যে, পাঠকদের কাছ থেকে আমি এনতার ভালবাসা লাভ করেছি।

    প্র: বিদেশে অধ্যাপনা জীবনের স্মৃতি

    উ: তুলনামূলকভাবে বললে আমার অধ্যাপনা-জীবন নাতিদীর্ঘ। আমার মনে হয়েছে যে, আমাদের দেশে উপর থেকে বাণী-বর্ষণের যে-পদ্ধতিতে পড়ানো হয়, যাতে ছাত্রদের অংশগ্রহণ থাকে সামান্যই, সেই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানপিপাসাকে উসকে দেওয়ার অনুকূল নয়। বইপত্র মুখস্থ করে, পাদটীকা সাজিয়ে কী করে ভাল ফলাফল করতে হয়, তা আমাদের দেশগুলোতে শেখানো হয়, কিন্তু মৌলিক চিন্তা করতে এবং বিশ্লেষণ করতে উত্‌সাহিত করা হয় না। ফলে তাঁদের গবেষণায় সেকেলে বর্ণমূলক তথ্য যতটা থাকে, স্বাধীন চিন্তা ততটা লক্ষ করা যায় না। আমার ছাত্ররা অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে স্বরোচিষ সরকারই সবচেয়ে বেশি গবেষণা করেছেন, ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করেছেন।

    প্র: মধুসূদন দত্ত নিয়ে কাজ শুরু করলেন কবে থেকে? কেন? ‘আশার ছলনে ভুলি’ বাংলা জীবনীসাহিত্যে এক মাইলফলকের মতো। গ্রন্থটি রচনার সময়, গবেষণার পদ্ধতি নিয়ে কিছু বলুন।

    উ: মাইকেল মধুসূদন দত্তকে নিয়ে কাজ করতে আরম্ভ করি ১৯৮৬ সালের মে মাসে, অধ্যাপক শিবনারায়ণ রায়ের একটা কথায়। লন্ডনে তিনি আমাদের অতিথি হয়েছিলেন। ক’দিন অক্সফোর্ডে কেতকী কুশারী ডাইসন আর তপনদার বাড়িতে বেড়িয়ে এসে রাতের বেলায় খাবার টেবিলে তিনি বললেন উইলিয়ম র্যাডিচির কথা। বললেন যে, তপনদার তত্ত্বাবধানে মাইকেলের ওপর উইলিয়ম গবেষণা করছেন- কিন্তু গবেষণা করছেন মাইকেলের সাহিত্য নিয়ে, জীবনী নিয়ে নয়। বরং জীবনী নিয়ে কাজ করলে ইংল্যান্ডে নতুন কিছু পাওয়া যেতে পারত। কথা শুনে আমার মনে হল, একবার ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরিতে গিয়ে দেখলে হয়। গেলাম এবং, কী আশ্চর্য! প্রথম দিনই মাইকেলের বিবাহ এবং সন্তানদের সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য পেলাম, যা আগেকার কোনও জীবনী-গ্রন্থে পাইনি। খুবই উত্‌সাহিত বোধ করলাম। সেই যে মাইকেল নিয়ে কাজ করতে আরম্ভ করলাম, সেটা শেষ হল আট বছর পরে- ১৯৯৪ সালে। মাইকেলের এমন কোনও নিকটাত্মীয় ছিলেন না, যিনি তাঁর সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারতেন। মাইকেল এবং হেনরিয়েটা মারা যাওয়ার সময়ে তাঁদের তিন সন্তান বেঁচে ছিল, কিন্তু তারা এত ছোট ছিল যে, তাদের মায়ের বংশনামও তারা

    জানত না। অপরপক্ষে, মাইকেল-রেবেকার সন্তানরা বয়সে

    আর-একটু বড় ছিল, রেবেকা সম্পর্কে তথ্যও জানত, কিন্তু তাদের সঙ্গে জীবনী-লেখকদের কারও যোগাযোগ হয়নি। ফলে মাইকেল-জীবনী লেখা হয়েছিল বন্ধুদের কাছ থেকে শোনা কথার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আমি জাহাজের যাত্রী-তালিকা থেকে মাইকেলের চলাফেরার তথ্য পেয়েছিলাম, চার্চের কাগজপত্র থেকে তাঁর পরিবারের পরিচয় পেয়েছিলাম, অক্সফোর্ডের এক লাইব্রেরিতে কেবল বিশপস কলেজের বিস্তারিত তথ্য নয়- মাইকেলের পরীক্ষার খাতা পর্যন্ত পেয়েছিলাম! হেনরিয়েটা যে ফরাসি নন, বরং মাইকেলের এক ইংরেজ সহকর্মীর কন্যা- সে তথ্য আমি পেয়েছিলাম ফ্রান্সের ভার্সাইতে। মাইকেল সম্পর্কে এমনই অজানা অসংখ্য তথ্য পেয়েছিলাম। মাদ্রাজের পত্রপত্রিকা ছিল তথ্যের

    আর-একটা উত্‌স। যে-তথ্য সঠিকভাবে আজও খুঁজে পাইনি, তা হল, রেবেকার সঙ্গে মাইকেলের সম্পর্ক কখন এবং কেমন করে ভেঙে গেল এবং তাঁদের সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা কতটা হয়েছিল।...

     

    সম্পূর্ণ সাক্ষাত্‌কারটি পড়ার জন্য সংগ্রহ করুন ‘বইয়ের দেশ’ অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০১৭ সংখ্যা।