Film Review

রেঙ্গুন

  • পরিচালনা: বিশাল ভরদ্বাজ

    অভিনয়: শাহিদ কপূর, কঙ্গনা রানাউত, সেফ আলি খান, রিচার্ড ম্যাকেব

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘রেঙ্গুন’ একটি ত্রিকোণ প্রেমের কাহিনি। সময়টা ১৯৪৩ সাল, ব্রিটিশ মেজর জেনারেল ডেভিড হার্ডিং (রির্চাড) বোম্বাইয়ের এক চলচ্চিত্র নির্মাতা রুসি বিলিমোরিয়াকে (‌ সেফ) তাঁর প্রিয়তমা ওরফে জনপ্রিয় নায়িকা মিস জুলিয়াকে (কঙ্গনা) ইন্দো-বর্মা সীমান্তে উপস্থিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতীয় সৈনিকদের মনোরঞ্জন ও যুদ্ধ জয়ের অনুপ্রেরণা প্রদান করার জন্য পাঠাতে হুকুম দেন। জুলিয়ার সুরক্ষার দায়ভার দেওয়া হয় জমাদার নবাব মালিককে (শাহিদ)। রেঙ্গুন বা বর্মা যাত্রাপথে জাপানি সৈন্যরা তাদের হামলা করে। সেখান থেকে বেঁচে পালায় জুলিয়া ও নবাব। ধীরে ধীরে পরিণত হতে থাকে তাদের প্রেম সম্পর্ক। অতঃপর তারা হয়ে যায় ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি অংশ।

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর গঠিত ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আইএনএ)-র কথা বারবার ফিরে এসেছে ছবিতে। ব্রিটিশ সৈন্যদলে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত সৈনিকরা কীভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আইএনএ-র হয়ে কাজ করতেন সেকথাও আছে ছবিতে। আর আছে চারের দশকে চলচ্চিত্র নির্মাণের টেকনিক। হাতে ছিল অনেকগুলি বিষয় যা দিয়ে বিশাল ভরদ্বাজ একটি ‘ম্যাগনাম ওপাস’ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু ছবিটি শুধুমাত্র একটি ত্রিকোণ প্রেমের আর পাঁচটা সাধারণ বাণিজ্যিক ছবি হয়েই ধরা দিয়েছে। এমনকী, ছবির চরিত্রগুলিও ঠিকমতো গঠিত নয়। যেমন, রুসি জুলিয়াকে যদি প্রকৃতই ভালবাসে তা হলে তাকে একা সুদূর বর্মা যেতে দিল কেন? আর কেনই বা জুলিয়ার প্রতি প্রতারণার রাগ থাকা সত্ত্বেও নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে জুলিয়াকে দেওয়া কথা রাখতে উদ্যোগী হয়ে উঠল? আবার জুলিয়ার চরিত্রটি একজন স্টান্টউম্যানের বলেই সে নায়কোচিত ভঙ্গিতে নবাবকে ব্রিটিশদের থেকে উদ্ধার করতে যেভাবে এগিয়ে আসে তা অত্যন্ত হাস্যকর। একমাত্র বলিষ্ঠ চরিত্রটি নবাবের। সে যুদ্ধক্ষেত্রে যতটা অবিচলিত, প্রেমের ক্ষেত্রে ততটাই মগ্ন।

    ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবি বলে একটি বাড়তি প্রত্যাশা থেকেই যায় দর্শকের মনে, আর পরিচালকের আগের ছবির নাম যখন ‘হায়দর’ (২০১৪) তখন প্রত্যাশার পারদ ঊর্ধ্বগামী হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ছবিটি সেই তুলনায় হতাশাই বাড়ায়। বিশাল বলিউডের একজন এ-লিস্টেড পরিচালক হওয়ার পাশাপাশি একজন নামী ও সফল সুরকার। এই ছবির বারোটি গানও তাঁরই সুরারোপিত। কিন্তু বারোটি গান কেন? এতগুলি অপ্রয়োজনীয় গানের উপস্থিতে একসময় মনে হতেই পারে, কোনও ‘রাজশ্রী প্রোডাকশনস’-এর ছবি দেখছি না তো! ওই গানগুলি ছাড়াও ভারতের জাতীয় সংগীত ছবিতে তিনবার গাওয়া হয়েছে।

    ছবির কলাকুশলীদের কাজ পরিশ্রমের সঙ্গে করা, তা বোঝাই যায়। সেফ, শাহিদ ও কঙ্গনা তিনজনেই মনে রাখার মতো কাজ করেছেন। ব্রিটিশ অভিনেতা রির্চাড ম্যাকেব-কে মেজরের চরিত্রে কাস্ট করা যথাযথ হয়েছে। প্রশংসা করতেই হয় ছবিতে কঙ্গনা ও সেফের তলোয়ার চালানোর দৃশ্য ও শাহিদ-কঙ্গনার অন্তরঙ্গ দৃশ্যদু’টির। এর জন্য অবশ্য চিত্রগ্রাহক পঙ্কজ কুমারের ধন্যবাদ প্রাপ্য। ছবির শিল্প নির্দেশনাও ছবির বিষয়ের সঙ্গে পরিপূরক। শুধুমাত্র এই উপাদানগুলি নিয়ে বিশালই তাঁর নামের মর্যাদা পুরোপুরি রাখতে সক্ষম হলেন না!   

You may like