Film Review

ফিলৌরি

  • পরিচালনা: অনশাই লাল

    অভিনয়: অনুষ্কা শর্মা, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, সুরজ শর্মা, মেহরিন পিরজাদা

    পরাধীন ভারতের টুকরো ইতিহাস, প্রেম এবং কল্পনা— আপাতভাবে এই শব্দগুলি একে অপরের থেকে পৃথক হলেও এই তিন বিষয়কে একই সূত্রে বাঁধার চেষ্টা করা হয়েছে ‘ফিলৌরি’ ছবিতে। তিনটি ভিন্ন বিষয়কে দু’টি প্রেমকাহিনি (একটি অতীতের ও একটি বর্তমানের) ও একজন ‘ভাল’ ভূতের গল্প বলার মধ্যে দিয়ে দেখানো হয়েছে। মুক্তির আগেই এই ছবি ঘিরে চলেছে প্রচুর চর্চা, যার অন্যতম কারণ অনুষ্কা শর্মা। এই ছবিতে মুখ্য নারী চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্বভারও নিজের ভাই কর্ণেশ শর্মার সঙ্গে সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন অনুষ্কা। বিশেষত তাঁর প্রযোজিত প্রথম ছবি ‘এনএইচ ১০’-এর সাফল্যের জন্য এই ছবি বাড়তি প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে দর্শকের মনে। প্রথম ছবির বিষয় ছিল অনার কিলিং, তার তুলনায় এই ছবির বিষয় বেশ হালকা।

    ছবিতে দেখানো হয়েছে যে, কানন (সুরজ শর্মা) মাঙ্গলিক হওয়ার জন্য তাকে একটি গাছের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তারপর গাছটি কেটে ফেলা হয়। এরপর সেখানে বসবাসকারী ভূত শশী (অনুষ্কা শর্মা) আক্ষরিক অর্থেই কাননের ঘাড়ে চেপে বসে। না, সে কোনও অনিষ্ট করে না, কেবল কাননের সঙ্গ ছাড়ে না। এদিকে কাননের বাল্যবন্ধু অণু (মেহরিন পিরজাদা) তাদের বহু প্রতীক্ষিত বিয়ের দিন কয়েক আগে জানতে পারে কানন এই বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়। হবু বর-বধূর মধ্যে চলতে থাকে মানসিক টানাপড়েন। অন্যদিকে এই ‘বিগ ফ্যাট পঞ্জাবি ওয়েডিং’ উৎসব পালনের মধ্যেই শশী স্মৃতিচারণ করতে থাকে তার প্রেমিক ফিলৌরির (দিলজিৎ দোসাঞ্জ)। তাদের প্রেমকাহিনি পরিণতি লাভ করেনি বলে তার আত্মাও মুক্তি পায়নি। তাই শশী চেষ্টা করতে থাকে যাতে কানন-অণুর বিবাহ তথা সম্পর্ক পরিণতি লাভ করে।

    এর আগে হিন্দি ছবিতে যে কোনও বন্ধু-ভূতের গল্প বলা হয়নি তা নয়। কিন্তু যে-কায়দায় অনুষ্কা অভিনীত ভূত শশীর চরিত্রটিকে পরদায় দেখানো হয়েছে তা অভিনব, দর্শককে ইংরেজি ছবি ‘ক্যাসপার’ (১৯৯৫) ছবির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ‘ফিলৌরি’। কিন্তু এ ছবির সঙ্গে ‘ক্যাসপার’ ছবির গল্পের কোনও সাদৃশ্য নেই। ছবিটির গল্পলেখক অন্‌ভিতা দত্ত সমান অনুপাতে মিশিয়েছেন পঞ্জাবি লোককথা-লোকগীতি, ইতিহাস ও হাস্যরস। কিন্তু এত কিছুর সংমিশ্রণে আসলে কোনওটাই ঠিকমতো প্রকাশ পায়নি। ছবিটিকে স্পষ্টভাবে দু’টি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথমার্ধ কমিক এবং দ্বিতীয়ার্ধ রোম্যান্টিক। ইচ্ছা করলেই ছবির দৈর্ঘ্য আরও একটু কাটছাঁট করা যেতে পারত। তাছাড়া প্রথমার্ধে হাস্যরসের ব্যবহারেও যেন কার্পণ্য রয়েছে বলে মনে হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দেখানো শশী-ফিলৌরির প্রেমকাহিনি বড়ই অনুমেয়। দু’টি সময়কালকে পাশাপাশি দেখাতে গিয়েও হোঁচট খেয়েছেন নবাগত পরিচালক অনশাই লাল। ছবির সংলাপও বিশেষ আকর্ষক নয়। শাশ্বত সচদেব ও জসলিন রয়্যাল কৃত ছবির সংগীতে পঞ্জাবি লোকসংগীতের ব্যবহার ছবির বিষয়ের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই নির্মিত, তবে ‘দম দম...’ এবং ‘সাহিবা...’ ছাড়া অন্য গানগুলি বিশেষ মনগ্রাহী নয়।

    ‘লাইফ অফ পাই’ (২০১২) খ্যাত সুরজ শর্মার এটি প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্র। একজন অসহায়, ভিতু মানুষের চরিত্রে তিনি বেশ মানানসই। পরাধীন ভারতের গ্রাম্য পঞ্জাবি গায়ক ফিলৌরির চরিত্রটি যেন দিলজিৎ-এর কথা মাথায় রেখেই সৃষ্ট, এই চরিত্রে তাঁর মতো গায়ক-অভিনেতাই প্রয়োজন ছিল। বড় পরিবারের আহ্লাদি আবেগপ্রবণ মেয়ের চরিত্রে নবাগত মেহরিন খুবই চেষ্টা করেছেন। তাঁকে এই ছবিতে একেবারে পরির মতো সুন্দর লেগেছে। সব শেষে আসা যাক অনুষ্কার কথায়। এই ছবিটি অনুষ্কা অভিনীত চোদ্দোতম ছবি। প্রত্যেক ছবিতে তিনি যেন নিজেই নিজেকে টপকে যাচ্ছেন। দর্শকের প্রত্যাশার পারদে তিনি উত্তীর্ণ হচ্ছেন সক্ষমভাবেই। কিন্তু মনে রাখার মতো অভিনয় সত্ত্বেও, দুর্বল চিত্রনাট্য ও অনভিজ্ঞ পরিচালনা এই ছবির মোক্ষলাভের পথে বাধা হয়ে থেকে যায় কিনা সেটা জানতে অপেক্ষা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।