Anu Galpo

সারপ্রাইজ টেস্ট

ঋতুপর্ণা চক্রবর্তী

  • আজ স্কুলের সব চেয়ে কঠিন পরীক্ষা দিতে এসেছে সে।

    সারপ্রাইজ টেস্ট।
    জীবনের যত ধৈর্য, সাহস, শক্তি আছে, সবকিছু মিলিত করে একেবারে অন্যরকম এক পরীক্ষা। সারা ক্লাসঘর শান্ত, নিশ্চুপ। মুহূর্তরা কেবল ধরা দিচ্ছে দেওয়াল-ঘড়ির ভীরু পদক্ষেপে। নিষ্পাপ চোখ দুটো আলতো করে খুলে কিছুটা দম নিতে চাইল কিন্তু পারল না। একটা ভুলের ফল হতে পারে পরীক্ষায় হেরে যাওয়া। শুধু আম্মুর কথাগুলো মনে করতে লাগল ও, “কখনও চেষ্টা না করে হার মানবে না। যত কঠিন পরীক্ষা আসুক জীবনে, মনকে শান্ত রেখে নিজের কাজ করে যাবে।” আজ সকালেও যাদের সঙ্গে প্রার্থনা লাইনে দাঁড়িয়ে খুনসুটি করছিল সেই রোশন– সাকিব– শ্রুতি কারও কোনও সাড়া নেই চারপাশে। কেবলমাত্র দুই একটি পায়ের শব্দ বেঞ্চগুলোর চারপাশে, সেই সঙ্গে অতন্দ্র প্রহরা।

    না, একটি পায়ের আওয়াজও ওদের প্রিয় শিক্ষিকা সাবিনা কিংবা রাগী স্যার বশিরের নয়, কারণ ও নিজের চোখে দেখেছে কিছু মুহূর্ত আগেই দু’জনই ওই দুষ্টু লোকগুলোর বন্দুকের সামনে প্রাণ দিয়েছে ওদের বাঁচাতে। ও জানে ওর চারপাশের চেনা মুখগুলো রক্তাক্ত-ভূলুণ্ঠিত। শুধু মাঝে মাঝে অল্প কিছু গোঙানি আর সঙ্গে সঙ্গে বন্দুকের তীব্র আক্রোশ। আবার সব শান্ত।
    গলার কাছে কান্না দলা হয়ে আছে। আর্তনাদ চেপে সে অপেক্ষা করতে থাকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মুহূর্তটার।


    না, ওকে হারাতে পারেনি। বন্দুকের নল, রক্তাক্ত স্মৃতি কোনও কিছুই পারেনি ওকে আটকে রাখতে। ও বুঝেছে সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম হয় না, বুঝেছে ভয় দেখিয়ে শিক্ষার আলো নেভানো যায় না। আজ ও আবার স্কুলে এসেছে। কারণ অনেক অনেক লেখাপড়া করে সাবিনা আন্টি কিংবা বশির স্যারের মতো হতেই হবে ওকে। জীবনের সব পরীক্ষা উত্তীর্ণ হতে প্রস্তুত আজ ও। মৃত্যু আর ভয়, দুটোকেই আজ হারিয়ে দিয়েছে ইকবাল।

    অঙ্কন: দীপঙ্কর ভৌমিক