গ্রন্থ সমালোচনা

চেনা জীবনেরই ছবি

জয়শ্রী রায়

  • ........................

    গল্পসমগ্র ১
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    দে’জ পাবলিশিং
    কল-৭৩ । ৬০০.০০

    ........................

    বইটির বৈশিষ্ট্য হল, কোনও অচেনা পৃথিবীর ছবি তাতে নেই। নেই কোনও অলীক রূপকথাও। বরং আছে মানুষের ছোট-বড় সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ, চাওয়া-পাওয়ার গল্প।

    ছোটগল্প যে ঠিক কী এবং কেন, তার ব্যাখ্যায় শতাধিক বই বোধ হয় লেখা হয়ে গেছে এযাবৎ। বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবুও চকিতে কোনও ছোটগল্প পড়া শেষ করে যখন মনে হয়, আহ! চমৎকার! কী করে মনের কথাটি ঠিক একইভাবে ফুটে উঠল এই গল্পের আধারে, তখনই আরও একবার পাঠকের কাছে প্রতিভাত হয় তার আবেদন। ভিন্ন রূপে। নতুন আঙ্গিকে। মনে হয় এই যে অভিঘাত, মুহূর্ত যার আয়ুষ্কাল কিন্তু অনন্ত যার রেশটুকু, এর ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাবে কি কোথাও? শুরু হয় অন্বেষণ। মিলিয়ে দেখার পালা। তা করতে করতেই আবারও তার প্রেমে পড়া। বারবার। অনিঃশেষ। সেই প্রেমকে পাঠকের মনে জাগরূক রেখেছিলেন সুচিত্রা ভট্টাচার্য, তাঁর শক্তিশালী কলমের ধারায় সৃষ্ট অজস্র ছোটগল্পে। অকালে চলে গেছেন তিনি। কিন্তু রেখে গেছেন কিছু মণিমাণিক্য, যার দ্যুতি ধাঁধিয়ে দেয় পাঠকের চোখ। প্রতি পুনর্পাঠে তাঁর লেখার প্রতি পাঠকের যে-সমর্পণ ফুটে ওঠে মনের আয়নায়, তা আগের বারের মতো তো নয়। সেই সমর্পণ, সেই ভাললাগাকেই নতুন করে সঞ্জীবিত করে দিল সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘গল্পসমগ্র ১’।

    যে-উনসত্তরটি গল্পকে বেছে নেওয়া হয়েছে আলোচ্য সংকলনের জন্য, সেগুলির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল, কোনও অচেনা পৃথিবীর ছবি কিন্তু তাতে নেই। নেই কোনও অলীক রূপকথাও। বরং আছে মানুষের ছোট-বড় সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ, চাওয়া-পাওয়ার গল্প। কিন্তু এমনই তার বুনন আর সংলাপের গভীরতা যে, পলক না ফেলেই শেষ করি গল্প, মনেই হয় না এ গল্পকথা, উলটে নিজেদের জীবনের খাঁজ-খোঁজ মিলিয়ে নিয়ে আমরা ভাল করে বুঝে নিতে চাই জীবনের ঠিক কোন অন্ধকার বা আলোকোজ্জ্বল দিনের ছবি ধরা রয়েছে এতে। শরীরে জ্বর, কাজে যাওয়া হয়নি, সন্তানটির ভাল করে ভাত খাওয়া হয়নি চার-পাঁচদিন। শেষমেশ জ্বর নিয়েই কাজে বেরিয়ে পড়ে অছিরনবিবি, কিন্তু ট্রেনের গন্ডগোলে সেদিন বাড়ি ফেরা হয় না তার, পুঁটুলিতে বেঁধে রাখা বাবুর বাড়ির ভাতের রস ভিজিয়ে দেয় তার বুক, ওদিকে সন্তান অপেক্ষায় থাকে কখন মা আসবে তার জন্য ভাত নিয়ে। একই সঙ্গে অনুভবী এবং তীব্র হয়ে ওঠে লেখিকার বর্ণনা— ‘‘একটু এগোলে একফালি পোড়ো জমি আছে। মেয়েটা সেখানে পৌঁছতে চাইছে। যত এগোতে চায় ধানের জঙ্গল ঝাঁপিয়ে পড়ে গায়ে। পাকা ধানের শিষ খামচে দেয় মুখ গা হাত পা। খামচায়, কামড়ায়, আঁচড়ায়। পাকা ধান নয়, যেন একদল গর্ভিণী রাক্ষসী মানবশিশুকে নিয়ে হিংস্র খেলায় মেতেছে, দেখতে দেখতে ক্ষত-বিক্ষত শাকিলার শরীর। সমস্ত শক্তি দিয়ে শাকিলা সরাতে থাকে নির্দয় ধানগাছগুলোকে। সরাতেই থাকে শুধু। তারপর একসময় অন্ধকার যখন পুরোপুরি জাপটে ধরে তাকে, আলপথেই গুটিসুটি মেরে বসে পড়ে সে। পাকা ধানের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ উপোসী পেটটাকে অস্থির করে দেয়। হড়হড় করে বমি করে ফেলে শাকিলা। সে বমিতে ভিজে একাকার দুধেভরা অনন্ত ধানবন। তার মা-র আজ শহর থেকে ফেরা হবে না। তার মা তার জন্য ভাত আনতে গেছে শহর থেকে।’’ (ভাতের গল্প)

    গল্পের চরিত্র ধরে ধরে ভাল-মন্দের বিচার করেননি লেখিকা, কেবল কিছু ঘটনা এবং তার প্রেক্ষাপটকে বিস্তারিত করেছেন আমাদের সামনে। কোনটা ঠিক এবং কোনটা ভুল, সে ভার তিনি রেখেছেন পাঠকের হাতে। মূল্যবোধের শিক্ষা আসলে মানুষের অন্তরে, প্রাতিষ্ঠানিক বা সামাজিক স্বীকৃতি তার ভার বহন করতে অসমর্থ, যতই তার মোড়কটি পরিবেশনের জন্য একেবারে যুগোপযোগী হয়ে থাকুক না কেন। বহুদিন পরে শিক্ষকের সঙ্গে দেখা হয় এক কৃতী ছাত্রের, শিক্ষকের আটকে থাকা পেনশন চালু করতে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয় সে। কিন্তু তার বাড়ি গিয়েও নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় শিক্ষককে, বাড়িতে থেকেও সে দেখা করে না এককালের প্রিয় ‘স্যার’-এর সঙ্গে। স্ত্রী এবং কন্যার কাছে ছাত্রের কথা শতমুখে বলে গিয়েছিলেন স্যার, তাই ছাত্রের দেওয়া অপমান ঢাকতে আঁধারকে সঙ্গী করেন তিনি, তাঁর বাড়ি ফেরার রাতের ট্রেনে ছিনতাই করতে ওঠে একদল যুবক, কিন্তু স্যারের মুখে টর্চের আলো ফেলেই দ্বিধাগ্রস্ত তাদের মধ্যে একজন, ছিনতাইয়ের সামগ্রী ফিরিয়ে দিয়ে নেমে যায় তারা, বিরক্তির সঙ্গে ছুড়ে দেয় কয়েকটি বাক্য— ‘‘কার মুখ দেখে উঠেছিলাম মাইরি। শালা দিনটাই নষ্ট করে দিল। ধান্দার ট্রেনে কেন যে থাকে এসব লোক!’’ কী অমিত প্রশান্তি স্যারের বুক জুড়ে। সহযাত্রী যখন প্রশ্ন করে ছেলেগুলি তাঁর চেনা কি না, তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাদের পরিচয় দেন, ‘‘শিবতোষ অন্ধকারে বিমল হাসলেন। পরিষ্কার স্বরে বললেন,— আমার ছাত্র। আমাকে দেখে লজ্জা পেয়েছে।’’ (বিপ্রতীপ) অনেক গল্পই পড়ে মনে হয়, কী চেনা সব মানুষজন, প্রতিদিনের জীবনে এদেরকেই তো দেখি আমরা, চরিত্রগুলিকে দৃষ্টিসীমায় পাওয়া মাত্রই ভাগ করে নিতে থাকি পরস্পরের সুখ-দুঃখ, একাকার হয়ে যায় পাঠক আর লেখিকার দৃষ্টি— সব ছাপিয়ে জেগে থাকে জীবনের ঝড়ঝঞ্ঝা পেরিয়ে বেঁচে থাকার মুহূর্তগুলি, যা প্রতিভাত হয় ‘তৃতীয় হৃদয়’, ‘বর্ণ বিবর্ণ’, ‘আঁধার বৃত্ত’, ‘নীল পাখি’, ‘বিস্ফোরণের প্রতীক্ষায়’, ‘লাল গোলাপ’, ‘হারাণের বাঁচা-মরা’, ‘সামনে সমুদ্র’, ‘প্রতিবন্ধী’, ইন্দির ঠাকরুণেরা’, ‘নক্ষত্রের মন’ ইত্যাদি গল্পে।

    কিন্তু কেবলই কি একরকম জীবনের গল্প! না। আছে এক ভিন্ন জীবনের কথাও। জীবনের সেই অলিগলিতে মানুষ একা। নিদারুণ সে একাকিত্ব, তার ভার বইতে জীবন যেন হাঁপিয়ে ওঠে। সে ছবিকেও শিল্পীর নিপুণতায় গল্পে এঁকেছেন লেখিকা। স্বামী-স্ত্রীতে বনিবনা হচ্ছে না, মিউচুয়াল ডিভোর্সের আবেদন নিয়ে উকিলের কাছে পৌঁছেছে দু’জন, সন্তানের কাস্টডি নিয়েও চলছে লড়াই। তবু সে লড়াইয়ের মাঝে উঁকি দিয়ে যায় ফেলে আসা সময়। এতই কি সহজ তাকে মুছে ফেলা? ‘‘আশি থেকে অষ্টআশির জুন, ঠিক ঠিক হিসেব করলে পুরো সাত বছর এগারো মাস আট দিন, এতখানি লম্বা সময়টাকে কী নিপুণ দক্ষতায় দুটো মাত্র লাইনে বেঁধে ফেলল আইন! যেন এতগুলো বছর ছিল শুধুই একত্রে বসবাস করা, আর কিছুই না। অথচ এই বছরগুলোর প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘণ্টা, পল, অনুপল এখনও পর পর ধরা আছে স্মৃতির পর্দায়।’’ (সাত বছর এগারো মাস আট দিন) অথবা ‘ঘুমন্ত ভয়’ গল্পের সুপ্তি। তাকে বাড়ির কাজে সাহায্য করার জন্য গ্রাম থেকে বারো-তেরো বছর বয়সি মেয়ে ভাদুরিকে এনে দেয় আর-এক কাজের লোক নিমাইয়ের মা। দিনের বেলা দিব্যি থাকে ভাদুরি, রাত হলেই বিপদ। ঘুমের মধ্যে সে হাঁটে, ঘুরে বেড়ায় বাড়ির যত্রতত্র, ছিঁড়ে-কুটে দেয় তারই সমবয়সি তুতু-মিতুর নতুন কামিজ, ড্রয়িংখাতা, কমিকস-এর বই। রেগে ওঠে বাড়ির সকলে, ভাদুরিকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়াই সাব্যস্ত হয়। কিন্তু প্রতিবাদ করে বড় মেয়ে মিতু। সে চায় ফিরিয়ে না দিয়ে ভাদুরির চিকিৎসা করা হোক। তাকে ধমকে থামিয়ে দিলেও কী যেন একটা চোরকাঁটার মতো বিঁধে থাকে সুপ্তির অন্তরে, সংসারে শান্তির জন্য সে আপস করে, কিন্তু তার মনের অশান্তি নিবৃত্ত হয় কই? কী সূক্ষ্মতার সঙ্গে লেখিকা পাঠকের মনে প্রবেশ করিয়ে দেন ভাদুরির জন্য সহানুভূতি যখন তুতু-র খেতে না চাওয়া দুধের গ্লাসের দিকে তাকিয়ে থাকে ভাদুরি, কিন্তু পরক্ষণেই নির্মম বাস্তবে আছড়ে পড়ে পাঠক—‘‘তুতুর চোখে অনুরোধ,—আমার থেকে দেব মা? না’টা কি বেশি জোরে বলে ফেলেছিল সুপ্তি?’’

    আর আছে মেয়েদের জীবনকে দেখার চোখ। নিজে মেয়ে বলেই হয়তো লেখিকা একটু বেশি আদর, একটু বেশি যত্নে আলো ফেলেছেন নারীমনের চাওয়া-পাওয়ার ছোট ছোট চারাগাছগুলিতে, যার কিছু মরে যায় উদাসীনতা আর অযত্নে, বাকিগুলোকে মেরে ফেলা হয় গলা টিপে। ছেলের বিয়ের পর ভাড়াবাড়িতে স্থান সংকুলান হয় না বলে নিজেই বৃদ্ধাশ্রমে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন বিধবা চারুলতা। সেই ছেলের ফ্ল্যাটের গৃহপ্রবেশে যাওয়ার দিন কী আশায় যেন ঝোলাব্যাগে দু’-চারটে শাড়ি-ব্লাউজ় বেশি গোছান বৃদ্ধা। কিন্তু দিনের শেষে বুঝতে পারেন, তিনি সত্যিই আজ বাড়তি— ‘‘ভ্রম ঘুচে গেছে। চারুলতার জন্য কমলেশের ঘরে এক সেন্টিমিটার জায়গাও নেই।...আজ চারুলতার পাকাপাকি গৃহপ্রবেশ। এই বৃদ্ধাশ্রমে।’’ (গৃহপ্রবেশ) কী সহজতায় ফুটে উঠেছে ‘আজ সুবর্ণজয়ন্তী’ গল্পের সুহাসিনী চরিত্রটি। মাত্র দু’বছর শ্বশুরঘর করে সতেরো বছর বয়সে বাপের বাড়ি ফিরে আসা বিধবা মেয়ে। তার মন ভোলাতে বাড়ির অন্যতম সম্পদ একটি শ্বেতপাথরের টেবিলের ইতিহাস বলতে গিয়ে আজব গল্প ফাঁদতেন মেয়েটির বাবা। পরিবার ভিন্ন হয়েছে, বাবা-মা-দাদা-বউদি অনেকেই গতায়ু, কিন্তু এ টেবিল যেন অজর-অক্ষয়, এ টেবিল যেন এক সময়ের সাক্ষ্য। যৌথ পরিবারের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, ঈর্ষার ছবিকে অতীতের সঙ্গে তুলনার দাঁড়িপাল্লায় দেখতে থাকে এক একলা নারী, ওই টেবিলই যার বন্ধু ও স্মৃতির ঝাঁপি। ‘তুলির দুপুর’ গল্পে দেখা যায়, বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও প্রাক্তন প্রেমিক অরিন্দমের প্রতি তীব্র অধিকারবোধ তুলির। হঠাৎই একদিন দুপুরে তাদের ফ্ল্যাটে এসে পড়ে অরিন্দম। কথায় কথায় তাকে সুখী দাম্পত্যের কাহিনি শুনিয়ে দেয় তুলি, কিন্তু যে-মুহূর্তে জানতে পারে, অরিন্দম তার বান্ধবী মালবিকার সঙ্গে ব্যবসা শুরু করেছে, জ্বলেপুড়ে যায় তার মন— ‘‘মালবিকাকে পেয়ে অরিন্দম তুলির বিরহ ভুলে গেল? উফ্, পুরুষমানুষ জাতটা কী বেইমান!’’ গোপন সিন্দুকে যেন তুলে রেখেছিল তুলি, তার জন্য অরিন্দমের বিরহকাতরতার সুখটুকু। সে সুখপাখিকে যখন অজান্তে অরিন্দমই উড়িয়ে ফেলে দু’হাতে, তুলি আর একমুহূর্তও সহ্য করতে পারে না তাকে। ‘আজ্জান’ গল্পটিতে লেখিকার নির্ভীক উচ্চারণ, বিধবা নারীর শরীরের দাবি প্রসঙ্গে— ‘‘আশমানের বা’জান চলে যাবার পর কতগুলো শীত এল, গেল, তবু কেন পাতা ঝরল না দেহের? কত যুগ বুঝি পতিত আছে গোলজান।... সর্বাঙ্গ তার ভিজে ওঠে ঘামে। ধীরে ধীরে শোক যদি বা জুড়োল, তাপ জুড়োয় কই।’’

    প্রতিটি গল্পই ভাললাগার মতো। তবু আলাদা করে উল্লেখ করতেই হয় ‘খুরশিদ’, ‘সম্পর্ক’, ‘বাবু-কাঙালি পালা’, ‘দূরের মানুষ’, ‘অবগাহন’, ‘বিকেল ফুরিয়ে যায়’, ‘তত্ত্বতালাশ’, ‘প্রতিবন্ধী’, ‘মোহনবিল’, ‘কালো ছায়া সাদা ছায়া’ গল্পগুলির। অনুযোগের কথাও আছে, এমন চমৎকার সব গল্পের সংকলনের সম্পাদনায় এমন অযত্ন কেন? সংকলিত গল্পগুলির প্রুফ ভাল করে দেখা হয়নি— ‘কলতলায়’ হয়ে গেছে ‘কলকাতায়’ (আজ সুবর্ণজয়ন্তী), গল্প চলার মাঝেই ‘শোভনা’ হয়ে গেছে ‘শোভন’ (‌শেষবেলায়), এক লাইনে একই শব্দ— ‘বাথরুম থেকে বেরিয়ে’ পরপর দু’বার লেখা হয়েছে (বর্ণ বিবর্ণ)— পুরো বই জুড়েই ছড়িয়ে আছে এমন সব ত্রুটি। পরবর্তী সংস্করণে এগুলির সংশোধন জরুরি। আর বইটির শুরুতেই প্রকাশক জানিয়েছেন, সুচিত্রা ভট্টাচার্যের সমস্ত গল্পকে কয়েকটি খণ্ডে একত্রিত করার পরিকল্পনা তাঁদের। খুব ভাল কথা। কিন্তু সংকলিত গল্পগুলিতে প্রকাশকাল, প্রকাশস্থান কিছুরই উল্লেখ পাওয়া গেল না। যে-কোনও রচনারই আবহ নির্মাণে তার সৃষ্টির সময়কালের এক ছাপ থাকে। সেটির স্বাদ নেওয়া কি পাঠকের কাছে জরুরি নয়? লেখকের রচনাকৌশল, অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির রং-রূপ তো বদলায়ই, সময়ের ও স্থানের ভিন্নতায়। পাঠকের কাছে সেই বর্ণপরিবর্তনও কম আকর্ষণীয় নয়। আশা করা যায়, আগামী সংকলনগুলিতে পাঠক তা থেকে বঞ্চিত হবে না।

     

You may like