গ্রন্থ সমালোচনা

বঙ্কিম ও কিছু রহস্যময় বিভ্রান্তি

পায়েল সেনগুপ্ত

  • ........................

    বঙ্কিমের মনন জগৎ
    রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য

    কোরক
    কল-৫৯ । ১০০.০০

    ........................

    বইটি বঙ্কিম-আগ্রহীদের অবশ্যই পাঠ্য, শুধু বঙ্কিম নন, সমকালীন প্রেক্ষাপট ও তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন কুয়াশার আস্তরণ ভেদ করার জন্য।

    বাঙালি পাঠকের কাছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নামটি একটি রহস্যজনক অধ্যায়। বাঙালি পাঠক ও বঙ্কিমচন্দ্র দুটো শব্দেরই এখানে বাচ্যার্থ পরিব্যাপ্ত, কারণ বঙ্কিমের গ্রহণযোগ্যতার উপর নির্ভর করে বাঙালি পাঠককে একটু দলবিভক্ত করাই যায়। সাধারণ পড়ুয়া বাঙালির কাছে বঙ্কিম দুরূহ নামে জনপ্রিয়। আবার বাংলাভাষার রীতি-নীতি, শরীর-মন ও স্থিতিস্থাপকতা মাথায় রেখে যাঁরা বঙ্কিম পড়েছেন, তাঁদের অনেকের কাছেই বঙ্কিম একটি প্রিয় নাম হলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য প্রণীত ‘বঙ্কিমের মনন জগৎ’ বইটিতে প্রবেশের আগে বাঙালির কাছে বঙ্কিমের গ্রহণযোগ্যতা সময়ের প্রেক্ষিতে কতখানি বদলেছে, ভাবার প্রয়োজন আছে তা নিয়েও। বঙ্কিম বাংলা গদ্যকে স্বাধীনভাবে ডানা মেলে উড়তে শিখিয়েছেন। ‘বঙ্গদর্শন’ শুধু বাংলা গদ্য নয়, সমস্ত বাঙালির মননজগতে কীভাবে আলোড়ন তুলেছিল, সেটা বোঝানোর জন্য রবীন্দ্রনাথকে একবার মনে না করলেই নয়। বিশেষ করে যখন তিনি বলছেন, ‘নতুন যুগের জোয়ার আসে, কোনও একজন বিশেষ মনীষীর মনে। নতুন বাণীর পণ্য বহন করে আনে। সমস্ত দেশের মন জেগে ওঠে চিরাভ্যস্ত জড়তা থেকে, দেখতে দেখতে তার বাণীর বদল হয়ে যায়। বাংলাদেশে তার মস্ত দৃষ্টান্ত বঙ্কিমচন্দ্র।’ আমাদের আলোচ্য বইটির কেন্দ্রবিন্দুও এখানেই নিহিত। বাংলাভাষা ও বাংলার বুদ্ধিজীবিতা বিষয়ে বঙ্কিম নব পথিকৃৎ, এ বিষয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই।

    যুগের ইতিহাস বদলানোর ক্ষেত্রে যে মনীষীর মননের উপর জোর দিচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ, সেই বঙ্কিমের মননজগতে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছেন প্রণেতা। মহতী প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে। কিন্তু সূচিপত্রের চারটি অধ্যায় দেখে প্রত্যাশা আহত হয়। বঙ্কিমের দর্শনচিন্তা: বহুগ্রাহিতার বিপদ, বঙ্কিমের ধর্মচিন্তা: অসঙ্গতির উৎসে, বেদ: বঙ্কিম: হিন্দুত্ব, বঙ্কিমের মহাভারত চর্চা: নিষ্ফল প্রয়াস, এই চারটি অধ্যায়কে ঘিরে এগিয়েছে লেখকের আলোচনা। এর মধ্যে তিনটি অধ্যায়ের শিরোনামেই বঙ্কিম সম্পর্কে একধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করার প্রবণতা ভাল লাগে না। প্রবন্ধগুলির অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে দেখা যাবে, নিরপেক্ষতার অভাব নেই লেখকের পক্ষ থেকে, কিন্তু শুধু শিরোনামই নয়, সময় বিশেষে তাঁর বাক্যগঠন ও শব্দপ্রয়োগও একটা পক্ষপাতের বাতাবরণ তৈরি করে এবং সেখানে বঙ্কিম ব্যাকফুটে। সবচেয়ে বড় কথা, বঙ্কিমের মননজগৎ বলতে যে বিস্তীর্ণ ক্ষেত্র তৈরি হয়, সেখানেও এই কয়েকটি উল্লিখিত বিষয় হতাশ করে।

    ভূমিকাতে তিনি যতই বলুন, ‘বঙ্কিমের উপন্যাস নিয়ে যত আলোচনা হয়, তাঁর মননধর্মী রচনার বিচার-বিশ্লেষণ সে তুলনায় অনেক কম। অথচ ভাষা নির্মাতা বঙ্কিমের আসল পরিচয় তো সেখানেই।’— এখানে একটু হলেও দ্বিমত পোষণ করতে হয়।

    বঙ্কিম বাংলা ভাষাকে সমানভাবে নির্মাণ করেছেন উপন্যাস এবং প্রবন্ধে এবং এই সৃষ্টির পিছনে তাঁর মনটাই সব। আঙ্গিকের রূপভেদ বাদ দিলে প্রতিটি সৃষ্টিতেই যা প্রতিভাত হয়েছে— তাঁর নিজস্ব মনোজগৎ। তা কখনও গ্রহণযোগ্য হয়েছে, কখনও হয়নি। নিজস্ব মনোজগতের অতি প্রকটতার কারণে তিনি অনেক সময়ই সমালোচিত, আঘাত করেছেন সৃষ্টির নিজস্ব শিল্পবোধকেও। কিন্তু মননধর্মীতার দিক থেকে তাঁর কোনও রচনাই বঞ্চিত হয়নি। উপন্যাস ও প্রবন্ধে বঙ্কিমের মানসিক টানাপড়েনের ছাপ এতটাই সুস্পষ্ট যে, তাকে পর্ব বিভক্ত করে ফেলা যায়। কিন্তু সেই পরিবর্তনের মধ্যে তাঁর শিল্পভাবনা এবং নিজস্ব জীবনভাবনাও সংলগ্ন হয়ে রয়েছে। তাই উল্লিখিত কয়েকটি বিষয়ের পরিসীমা পেরিয়ে বঙ্কিমের বৃহত্তর অন্তর্জগৎকে পর্যালোচনা করার প্রয়াস থাকলে ভাল হত।

    বঙ্কিমচন্দ্র এবং হিন্দুধর্মশাস্ত্র নিয়ে গভীর চর্চা বা আগ্রহ না থাকলে এই বই সেই পাঠকের জন্য নয়। বা পাঠককে সেই বিষয়ে আগ্রহী করে তোলারও যে পদ্ধতি, লেখক তার দিকে তেমন মনোযোগী নন। হিন্দু ষড়দর্শনের অন্যতম শাখা ও বঙ্কিম বিষয়ে শুরুতেই লেখকের মন্তব্য, ‘সাংখ্য নিয়ে বঙ্কিম এমন একটি দীর্ঘ রচনা, মোনোগ্রাফ লিখবেন, এটি কিন্তু খুব প্রত্যাশিত নয়। সাংখ্যর চর্চা বাংলায় কোনওদিনই তেমন ছিল না।’ সরাসরি বিষয়ে প্রবেশ করেছেন লেখক, তা প্রবন্ধ হিসেবে যতখানি ঘন-সন্নিবদ্ধ, বই হিসেবে ততখানি উদার নয়। যাই হোক, বাঙালির সাংখ্যর প্রতি আগ্রহ উদ্রেক করার জন্যই সম্ভবত বঙ্কিম সাংখ্য নিয়ে লিখতে প্রবৃত্ত হয়েছেন। সেক্ষেত্রে লেখক হয়তো ঠিকই অনুমান করেছেন যে, ‘সাংখ্যর সঙ্গে কোঁত-এর ধ্রুবদর্শন-এর মিল আছে। বঙ্কিম কি সেই আগ্রহে সাংখ্য পড়েছিলেন? কারণ, ১৮৭২-৭৩-এ ‘বঙ্গদর্শনে যখন সাংখ্যদর্শন বেরোচ্ছে, তখন বঙ্কিম ঘোরতর নাস্তিকই আছেন।

    এই যুগে ফ্রান্সের অগুস্ত কোঁতের (১৭৯৮-১৮৫৭) আবির্ভাব দর্শনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা। তাঁর পজ়িটিভ ফিলোসফিকে অনেকেই বাংলায় ধ্রুববাদ, প্রত্যক্ষবাদ, দৃষ্টবাদ ইত্যাদি নানা নামে অভিহিত করেছেন। এক্ষেত্রে বঙ্কিমের আগ্রহ লক্ষণীয়। ১৮৭৪ সালে ধ্রুববাদ নিয়ে যখন এদেশে বাদানুবাদ উপস্থিত হয়, তখনও তিনি বন্ধুপ্রবর রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়কে দিয়ে ‘কোমতি দর্শন’ নামে একটি সুপাঠ্য রচনা করিয়েছিলেন, শুধু তাই নয়, ‘‘কোঁতের দর্শনশাস্ত্র সম্বন্ধে আলোচনার সময় আইসে নাই, the time is not ripe for it’’ কৃষ্ণকমলের এই কথার প্রতিবাদস্বরূপই বঙ্কিম বলেছেন, ‘‘কেন? যেটা truth, তার আবার সময় অসময় কি?’’’

    সত্যের কোনও সময়-অসময় হয় না, বঙ্কিম একথা বিশ্বাস করতেন বলেই হয়তো বঙ্কিমের মননজগৎ বলে যে বিস্তীর্ণ ক্ষেত্রটি লেখক বিশ্লেষণ করতে চেয়েছেন, তার উত্থান-পতন ও আন্দোলনের সঙ্গেও কথাটি জড়িত। খুব সোজা করে বলতে গেলে জীবনের প্রথমপর্বে বঙ্কিম ঘোরতর নাস্তিক এবং চল্লিশ-পরবর্তী সময়ে তিনি ঈশ্বরবিশ্বাসী। লেখক তাঁর এই মানসিকতার ক্রমবিবর্তনের ধারাটিকেই পর্যালোচনা করতে চেয়েছেন। সাংখ্য থেকে তাঁর ধর্মচিন্তা, বেদ-উপনিষদ ও কৃষ্ণচরিত্রে লেখক একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে চান। আর এই পুরো পরিক্রমায় দেখা যাবে, শুধু কোঁত নয়, জেরেমি বেন্থােমর হিতবাদ, জন স্টুয়ার্ট মিল বা স্পেনসার বঙ্কিমকে নানাভাবে প্রভাবিত করে গিয়েছেন। প্রথম থেকে শেষপর্যন্ত বঙ্কিম বহুগ্রাহী এবং এই বহুগ্রাহিতাই কোথাও তাঁকে স্থিত হতে দেয়নি, একাধিক প্রভাব তাঁর দার্শনিক সত্তাকে সুস্থির ও একমুখী করেনি। তাঁর চিন্তাসূত্র এক বিন্দু থেকে শুরু হয়ে ক্রমশ বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত হওয়ায়, চিন্তার ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে একাগ্রতা হারায়, লেখকের একথা মনে হয়েছে এবং তা খুবই সঙ্গত কথা। দর্শন থেকে ধর্ম সব বিষয়ে বঙ্কিমের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করার জন্য লেখক যে-পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তা প্রশংসনীয়। বইটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হল, বঙ্কিম ব্যতিরেকে হিন্দু ধর্মশাস্ত্র, বৈদিক ধর্ম ও ঈশ্বরভক্তি এবং শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে জানার আগ্রহ থাকলে বইটি যে-কোনও পাঠককে সাহায্য করবে।

    লেখকের নৈর্ব্যক্তিক বিশ্লেষণ ও দৃষ্টিভঙ্গির স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা সাহিত্যে সবসময়ই স্বাগত এবং অভিপ্রেত। কিন্তু একজন ব্যক্তি তাঁর সমগ্র জীবনকালে একাধিকবার একাধিক দর্শনে বিশ্বাসী হতে পারেন, প্রয়োজনে তা অন্যের উপর প্রোথিত করার চেষ্টাও করতে পারেন (যেমন বঙ্কিম প্রায়ই সে কাজটি করেছেন), কিন্তু সেটি তার সমসাময়িককালে যদি আলোড়ন না তোলে, তা হলে বর্তমানে তার প্রাসঙ্গিকতা কতখানি! তিনি নিজেই লিখছেন, ‘সেদিনের পাঠক অবশ্য একটা প্রশ্ন তুলতেই পারতেন, সাংখ্য নিয়ে বঙ্কিম কতটুকু আলোচনা করলেন? তাঁর বক্তব্যের বেশিরভাগই তো বেদ আর নিরীশ্বরতা নিয়ে।’ কিংবা আরও বলছেন, ‘অদ্ভুত ব্যাপার! বঙ্কিমের সমালোচকরাও তিনি বেঁচে থাকতে পাঠান্তরের ব্যাপারে তাঁর উপেক্ষার দিকটি তুলে ধরেননি। কৃষ্ণকে কীভাবে হাজির করা হয়েছে, সত্য ও মিথ্যা সম্পর্কে বঙ্কিমের মত যথার্থ কি না, রবীন্দ্রনাথ সমেত সকলে সেই নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন। বঙ্কিমের পদ্ধতিটি যে আদৌ বিজ্ঞানসম্মত নয়— এই সরল সত্যটি বোধ হয় সেকালেও কেউ বলেননি, আজও কেউ বলেন না।’

    সময় থাকতে যেখানে প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি, সেখানে হয়তো বঙ্কিম সম্পর্কে আর-একটু উদারতা লেখক দেখাতে পারতেন। বঙ্কিম স্ববিরোধী সংশয়াতীতভাবেই। কিন্তু সেই পারম্পরিক স্ববিরেধিতার প্রতি লেখক কোথাও যেন কড়া মনোভাবাপন্ন, সময় বিশেষে কিছুটা তির্যকও বটে। তিনি নিজেই বলছেন, ‘দয়া করে কেউ আমাকে ভুল বুঝবেন না, ব্যক্তি বঙ্কিমকে ছোট করে দেখানোর কোনও মতলব আমার নেই। প্রশ্নটি ব্যক্তি নিয়ে নয়, পদ্ধতি নিয়ে।’ এখানে লেখক নিজেও কি কোথাও স্ববিরোধী নন? মননজগতের বিশ্লেষণে ব্যক্তিত্বই তো প্রধান কেন্দ্র হওয়া উচিত। কারও ব্যক্তিজীবনের কার্যাবলী দিয়েই তো মননকে ধরে ফেলা যাবে, বিশেষত তিনি যদি সমসাময়িক কেউ না হন। আর লেখকের কথা অনুযায়ী ব্যক্তি যদি গুরুত্বপূর্ণ না হন, তা হলে তিনি কেনই-বা লিখবেন, ‘বঙ্কিমের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হল: আমলাগিরি আর সাহিত্যরচনা ছাড়া তাঁর জীবনে আর কোনও প্রয়োগের ক্ষেত্র ছিল না। ব্যক্তির আত্মোন্নতির বাইরে আর কিছুই তিনি শেষ পর্যন্ত দেখতে পান না। ফলে তাঁর তত্ত্বটাও হয়ে দাঁড়ায় দরবেশের তাপ্পিমারা আলখাল্লার মতো। তিনি ভেবেছিলেন: ওই তাপ্পিগুলোই হিন্দুধর্মের নব সংস্কার! ফলে সীলীর খ্রিস্ট-র মতোই বঙ্কিমের কৃষ্ণও আজ আমাদের অলস কৌতূহলের বিষয়।’ সত্যিই এখনও অলস কৌতূহলের বিষয় কি না, বা প্রয়োগের ক্ষেত্র না থাকলেই একজনের ‘মনোভাব’কে (যদি তাকে ‘দর্শন’ বলে অভিহিত না করা যায়) নস্যাৎ করে দেওয়া যাবে কি না, সেটাও তর্কের বিষয়।

    বঙ্কিমের স্ববিরোধিতা তাঁর নিজের লেখনীতেই একাধিকবার স্পষ্টভাষায় স্বীকৃত। তাঁর ‘অতি তরুণ অবস্থা’ থেকেই প্রশ্ন ‘এ জীবন লইয়া কী করিব’। সেই প্রশ্নেরই উত্তর হয়তো নাস্তিক অবস্থায় ইউরোপীয় দর্শন ও হিন্দুশাস্ত্র ও সমাজ মেলানোর চেষ্টা এবং প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছে ঈশ্বরভক্তিতে আত্মনিবেদন। ‘ইউরোপিয়’ বঙ্কিমের জীবনজিজ্ঞাসার অন্তর্মুখী হয়ে হিন্দুশােস্ত্রর দিকে যাত্রা অনেক যুক্তিপূর্ণ বাঙালির কাছেই দুর্জ্ঞেয়, রহস্যময়। বঙ্কিম নিজস্ব কোনও জীবনদর্শন তৈরি করতে পারেননি, লেখকের এই অভিযোগের উত্তরে এমন কথা কি বলা যায় না যে, বঙ্কিমের এই সরব উচ্চকিত স্ববিরোধিতা মানুষের স্বাভাবিক জীবনদর্শনেরই প্রতিফলন?

    লেখক তাঁর পাণ্ডিত্য ও ক্ষুরধার যুক্তি দিয়ে এই জগৎকে বোঝার একটা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু খুব যে আলোয় পৌঁছতে পেরেছেন তা নয়। বরং বঙ্কিম সম্পর্কে বাঙালি আরও কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারে। তথ্যের ভিড়ে অনেক প্রশ্নের উত্তরই হারিয়ে গিয়েছে। কিন্তু তবুও তথ্যসমৃদ্ধ এই বইটি বঙ্কিম-আগ্রহীদের অবশ্যই পড়া উচিত, শুধু বঙ্কিম নন, সমকালীন প্রেক্ষাপট ও তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন কুয়াশার আস্তরণ ভেদ করার জন্য।

     

You may like