গ্রন্থ সমালোচনা

অতীত অনুসন্ধায়ক

সায়ম বন্দ্যোপাধ্যায়

  • অপরাধ-ভ্রান্তির ইতিহাস আড়াল করতে চায় সকলেই, ব্যক্তিই হোক বা সমাজ। কাজ়ুও ইশিগুরোর লেখা অনাকাঙ্ক্ষিত সেই অতীতকেই সামনে আনে।

    উনিশশো সাতাশি। প্রায় এক বছর হয়ে গেল সেরকম কিছু লিখতে পারেননি তিনি। গত বছর প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অ্যান আর্টিস্ট অফ দ্য ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ড’। বুকার পুরস্কারের শর্টলিস্টে উঠে আসে উপন্যাসটি, পেয়ে যায় ‘হুইটব্রেড বুক অফ দ্য ইয়ার’ সম্মানও। তার পর থেকেই খ্যাতি। সঙ্গে খ্যাতিমান হওয়ার অনুষঙ্গ— নৈশভোজ, পার্টির আমন্ত্রণ, বিদেশভ্রমণ, চিঠিপত্র পাওয়া ও সেসবের যথাযোগ্য উত্তরপ্রদান ও অন্যান্য আরও বিবিধ প্রস্তাব। এতকিছুর মাঝে পরে যা হয়নি তা হল তাঁর লেখালিখি। একটি সম্ভাব্য উপন্যাসের সূচনা-অধ্যায় লিখতে পেরেছেন মাত্র। কাজ়ুও ইশিগুরোর বয়স এখন বত্রিশ, এখনই তিনি সেলেব্রিটি লেখক। কিন্তু নিজে প্রচারের আলোয় থাকায় বড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাঁর লেখা।

    কী করবেন তিনি? ইশিগুরো জানেন, তাঁর পরিচিত কয়েকজন ঔপন্যাসিক প্রতিদিন ঘণ্টা চারেকের মতো সময় লেখার জন্য রাখেন। কারণ এর চেয়ে বেশি সময় নিয়ে লিখলে ক্লান্তি চেপে বসে। তিনিও এতদিন এই নিয়ম মেনে আসছিলেন। কিন্তু বিগত এক বছরে যেভাবে সময় অপচয় হয়েছে তাতে তাঁর মনে হচ্ছে, এবার অন্য কিছু করতে হবে। কঠোর হতে হবে। কঠিন নিয়মে বাঁধতে হবে নিজেকে।

    স্ত্রী লর্নাকে বলেন পরিকল্পনার কথা— আগামী চার সপ্তাহ, সোম থেকে শনিবার, তিনি সকাল ন’টা থেকে রাত সাড়ে দশটা অবধি লেখা ব্যতীত আর কোনও কাজ করবেন না। শুধু দুপুরে এক ঘণ্টা ও রাতে দু’ঘণ্টা বিরতি নেবেন, খাওয়ার জন্য। কারওর সঙ্গে দেখা করবেন না, ফোনের কাছে যাবেন না, উত্তর দেওয়া তো দূরস্থান, কোনও চিঠিপত্র খুলেও দেখবেন না। এই সময়ে কোনও কেউ আমন্ত্রিত থাকবেন না তাঁদের বাড়িতে। বাড়ির যাবতীয় কাজ সামলে নেবেন লর্না।

    এই পর্বটিকে ইশিগুরো নাম দিলেন ‘ক্র্যাশ’।

    বেশ সম্প্রতিই ইশিগুরো সপরিবার দক্ষিণ লন্ডনের নতুন এই বাড়িতে এসেছেন। এই প্রথম তাঁর নিজস্ব একটি স্টাডি পেয়েছেন। আগের দু’টি উপন্যাস তাঁকে লিখতে হয়েছিল ডাইনিং টেবিলে বসে! স্টাডিটি তেমন কিছু না হলেও— দরজা ছিল না কোনও— নিজের কাজ চালানোর জন্য সে-মুহূর্তে যথেষ্ট। অন্তত কাগজপত্র এলোমেলো করেই রেখে দেওয়া যায়, দিনের শেষে পরিষ্কার করে রাখতে হয় না।

    সেই স্টাডির দেওয়ালজুড়ে এখন শুধু নোটস, চার্ট। ইশিগুরো লিখছেন। আপাতত, রচনার ভাষা-বিন্যাস নিয়ে তিনি মাথা ঘামাচ্ছেন না। তিনি লিখে যাচ্ছেন কেবল। যাতে ভাবনাটা বিস্তার পায়। ভাবনা থেকে ভাবনার জন্ম হয়। যে-উপন্যাস তিনি এখন লিখছেন, তা তাঁর প্রথম দু’টি উপন্যাসের থেকে আলাদা।   

     

    দুই

    কাজ়ুও ইশিগুরোর প্রথম দু’টি উপন্যাসের— ‘আ পেল ভিউ অফ হিলস’ (১৯৮২) ও ‘অ্যান আর্টিস্ট অফ দ্য ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ড’ (১৯৮৬)— প্রেক্ষাপট জাপান। ইশিগুরো জাপান ছেড়ে এসেছেন পাঁচ বছর বয়সে। নাগাসাকিতে তাঁর জন্ম, শহরে পরমাণু বোমা পতনের প্রায় এক দশক পর। কিন্তু সময়ের হিসেবে তা বড় নয় একেবারেই, তখনও সেদেশের মননে ও চর্যায় সেই পারমাণবিক অভিঘাতের স্মৃতি সজীব। ইশিগুরো জানাচ্ছেন— ‘Nagasaki is not just a few hazy images. I remember it as a real chunk of my life.’

    ইশিগুরোর মা শিজ়ুও-ই সেই পরমাণু বিস্ফোরণের উত্তরজীবী। বাবা শিজ়ুকো ছিলেন সমুদ্রবিজ্ঞানী, শাংহাইতে বড় হওয়া মানুষ। পেশাসূত্রে ব্রিটিশ ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ওশানোগ্রাফিতে প্রাথমিকভাবে দু’বছরের একটি রিসার্চ প্রজেক্টের কাজ নিয়ে সপরিবার শিজ়ুকো চলে আসেন দক্ষিণ ইংল্যান্ডের গিল্ডফোর্ডে। সেখানে জন্ম হয় আর-এক সন্তানের, ইশিগুরোর বোন ইয়োকো-র।

    শিজ়ুকো ফিরে যাবেন জাপানে, তেমনই ঠিক ছিল প্রথম দিকে। ইংল্যান্ডেই থেকে যাবেন, এমনটা ভাবতেন না। সে-কারণেই বাড়ির ভিতর, নিজেদের মধ্যে জাতিগত দূরত্ব বজায় রাখতেন ইশিগুরো পরিবার। স্থানীয় ওয়ার্কিং গ্রামার স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন ইশিগুরো। গণিত তাঁকে টানে না। টানে কল্পনা। গুপ্তচর-কাহিনি লেখেন। মিঃ সিনিয়র নামে এক গুপ্তচর চরিত্র সৃষ্টি করেন, খানিকটা ইশিগুরোর ভীষণ প্রিয় শার্লক হোমসের আদলে। আর ভালবাসেন সংগীত, গিটার, গান লিখতে। অল্প বয়স থেকেই পরিচিত হয়ে গিয়েছেন বব ডিলান, লেনার্ড কোহেন, জন মিচেলের সংগীতের সঙ্গে। সেই থেকেই ডিলান ইশিগুরোর ‘হিরো’। ইশিগুরোর যখন পনেরো বছর বয়স, তখনই ঠিক হয়ে যায় ইশিগুরোর পরিবার আর জাপানে ফিরবে না। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো একটি প্রস্তাব নাকচ করে দেন শিজ়ুকো।

    ওয়ার্কিং গ্রামার স্কুলের পাঠ শেষ করে ইশিগুরো বছরখানেক আমেরিকায় কাটান, হিচহাইকিং করে। ঘুরে ফেরেন লস এঞ্জেলিস, সান ফ্রান্সিসকো, উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া। ইংল্যান্ডে ফেরত এসে ১৯৭৪ সালে যোগ দেন কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে, ইংরেজি সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। পড়তে-পড়তেই সময় বের করে যুক্ত হন রিসেটলমেন্ট প্রকল্পের সঙ্গে, গৃহহারাদের নিয়ে কাজ করেন ইশিগুরো। ’৭৯-তে গ্র্যাজুয়েশনের পর রেসিডেন্সিয়াল রিসেটলমেন্ট কর্মী হিসেবেই কর্মজীবন শুরু করেন লন্ডনে। তিনি যেসব মানুষদের সঙ্গে, যেসব মানুষদের নিয়ে থাকেন তাদের সকলেই বাস্তুহীন, কেউ বা অসুস্থ, মানসিক ভারসাম্যহীনও। সাতের দশকের সেই আন্তর্জাতিক পরিবর্তনের আবহে ইশিগুরো ও তাঁর নবীন সহকর্মীরা আন্তরিকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, যতটুকু সাহায্য করা যায়, তা করার চেষ্টা করে যেতে থাকেন।

    একই সঙ্গে চলছে ইশিগুরোর গান লেখা, বইপত্র পড়া। সংগীতকার হওয়ার ইচ্ছে ইশিগুরোর। কিন্তু সেদিকে তেমন কোনও উত্তরণ ঘটছে না। রেকর্ডিং কোম্পানিতে যাচ্ছেন তিনি, তারা দু’-সেকেন্ড শুনেই বলছে, হবে না! ইশিগুরো লিখে ফেলেন একটি বেতার নাটক, নাটকের সময়সীমা আধ-ঘণ্টা। নাম, ‘পটেটোজ় অ্যান্ড লাভার্স’— একটি ফিস অ্যান্ড চিপস ক্যাফেতে কাজ করে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। তারা দু’জনেই টেরা, কিন্তু কেউ একে অপরের কাছে তা স্বীকার করে না, অনুচ্চারিত থেকে যায় তাদের কাছে নিজেদের এই শারীরিক বৈশিষ্ট্য। ধীরে-ধীরে তারা প্রেমে পড়ে। কাহিনির শেষে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ভালবাসা থাকলেও তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিবাহ করবে না। কারণ, ছেলেটি এক স্বপ্ন দেখেছে। স্বপ্নে, সমু্দ্র-ধার দিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে একটি পরিবার। পরিবারের সকলেই টেরা— বাবা-মা, ছেলেমেয়েরা, এমনকী পোষ্য সারমেয়টিও! এরকম এক স্বপ্নের পর বিয়ে করা আর সম্ভব নয়।

    বিবিসিতে পাঠিয়ে দেন ইশিগুরো এই বেতার নাটক। মনোনীত হয় না। ফিরে আসে। ইশিগুরো বিষণ্ণ হয়ে পড়েন। সংগীতকার হওয়া হল না, বেতার নাটকটিও ফেরত এল বিবিসি থেকে। তা হলে, কী করবেন তিনি?

    এই সময় হঠাৎই একদিন চোখে পড়ল একটি ছোট বি়জ্ঞাপন— ইস্ট অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এ এমএ কোর্সের। শিক্ষক, ম্যালকম ব্র্যাডবেরি। সেই সময় লেখা ‘শিখতে’ তেমন কেউ আগ্রহী ছিল না। নির্ধারিত সংখ্যার ছাত্র না পাওয়ায় কোর্সটি করানোই যায়নি তার আগের বছর। ইশিগুরো শুনেছিলেন কোনও এক সময় ইয়ান মিকুয়ান কোর্সটি করেছিলেন। মিকুয়ান তখন ঔপন্যাসিক হিসেবে সদ্য আত্মপ্রকাশ করেছেন। ইশিগুরোর কাছে আকর্ষণ আরও আছে— একবছরের জন্য ফের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত যাওয়া যাবে, পূর্ণ সরকারি অনুদানসহ। কোর্সের শর্তানুযায়ী তো শুধু তিরিশ পাতার আখ্যান লিখতে হবে তাঁকে!

    ‘পটেটোজ় অ্যান্ড লাভার্স’ বেতার নাটকটি আবেদনপত্রসহ ইশিগুরো পাঠিয়ে দিলেন ইস্ট অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে, ম্যালকম ব্র্যাডবেরির কাছে। ভেবেছিলেন, হবে না এখানেও। হয়তো তাবড় লেখকরা তাঁর রচনাটিকে নিয়ে কাটাছেঁড়া করবেন, তারপর নাকচ করে দেবেন। কিন্তু না, এমনটা হল না। তাঁকে বিস্মিত করে দিয়ে ডাক এল ইস্ট অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, গৃহীত হয়েছেন ইশিগুরো।

     

    তিন

    জাপান নিয়ে লিখতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন ইশিগুরো। শব্দ থেকে বাক্য, সবই চলে আসে পরপর। তবে এই জাপান অনেকটাই তাঁর ‘ভাবিত’ এক দেশ। পরিণত অবস্থায় তিনি সে-দেশ দেখেননি, কিন্তু অনুভব করেন দেশটির সঙ্গে তাঁর আবেগ যুক্ত। বহু পরে জাপানের নোবেলজয়ী সাহিত্যিক কেনজ়াবারো ওয়ে-র সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে ইশিগুরো জানিয়েছেন, ‘All the way through my childhood I couldn’t forget Japan, because I had to prepare myself for returning to it...So I grew up with a very strong image in my head of this other country... in England I was all the time building up this picture in my head of an imaginary Japan...And I think when I reached the age of perhaps twenty--three or twenty-four I realized that this Japan, which was very precious to me, actually existed only in my own imagination.’

    একটি গল্প লিখে ফেলেন তিনি। ক্লাসে পড়ে শোনান। সকলেই প্রশংসা করে, আগামীদিনে ইশিগুরোর লেখক-সম্ভাবনার প্রতি আস্থা প্রদর্শন করে। ইশিগুরো শিক্ষক হিসেবে পান আর-এক খ্যাতনামা লেখককে, এঞ্জেলা কার্টার। কার্টার ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার হিসেবে নিজের স্বাতন্ত্র্য চিনিয়ে দিয়েছেন ততদিনে। ব্র্যাডবেরি বলেছিলেন, ইশিগুরোর লেখা ‘retained, recessive, low-key, powerfully effective. As a student he was absolutely conspicuous.’ কার্টার সেই ছাত্রের লেখা সম্পর্কেই বললেন, ইশিগুরোর গদ্য ‘achieves an elegiac sobriety, and a kind of sweetness. It is very grown-up for a young lad!’

    তিনটি গল্প লিখে ফেলেছেন ইশিগুরো। একদিন সে-তিনটি নিয়েই পৌঁছে গেলেন বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ফেবার অ্যান্ড ফেবারের অফিসে। ফেবারের সেই সময় সদ্য-নিযুক্ত ফিকশন সম্পাদক রবার্ট ম্যাক্রাম পরে লিখেছেন, ‘Ish carried a guitar and a portable Olympia typewriter in a neat blue case. With ragged jeans and long hair, in thrall to Bob Dylan, he was writing songs, and it was his ambition to become a performer...But he’d already acquired the amateur spirit of the English literary tradition. Until he became a rock star, he would write fiction, to which end he had studied at UEA. It was three of his recent short stories (A Strange and Sometimes Sadness; Waiting for J; and Getting Poisoned) that he was offering to me at Faber.’

    তারপর একদিন চিঠি আসে ফেবার অ্যান্ড ফেবার থেকে। তারা তাঁর ওই তিনটি ছোটগল্প প্রকাশ করবে তাদের একটি সিরিজ়ের অন্তর্গত করে। ইশিগুরোর সঙ্গে-সঙ্গে স্মরণে আসে, ফেবার-এর এই বহুপরিচিত সিরিজ়ের মধ্যে দিয়েই আবিষ্কৃত হয়েছিলেন টম স্টপার্ডের মতো নাটককার, টেড হিউজ়ের মতো কবি!

    আরও চমক অপেক্ষা করে থাকে ইশিগুরোর জন্য। ফেবার জানতে চায়, তাঁর কাছে দীর্ঘ কোনও রচনা আছে কিনা। ইশিগুরো এজেন্টসূত্রে পাঠিয়ে দেন, ‘আ পেল ভিউ অফ হিলস’-এর প্রথম একশো পাতা। প্রকাশক তৎক্ষণাৎ দিয়ে দেন অগ্রিম এক হাজার পাউন্ড, উপন্যাসটি শেষ করার জন্য!

    সেই শুরু। প্রথম থেকেই খ্যাতির আলোয় কাজ়ুও ইশিগুরো। পাঠকের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রথম উপন্যাসের প্রকাশ থেকেই। ‘আ পেল ভিউ অফ হিলস’-এর কেন্দ্রে এক জাপানি মহিলা এৎসুকো। এৎসুকো বিধবা, তার বর্তমান দেশ ইংল্যান্ড। কিন্তু সম্প্রতি তার বড় মেয়ে কিকোর আত্মহত্যা তাকে রোমন্থনে বাধ্য করে। সে ফিরে যায় যুদ্ধোত্তর নাগাসাকি শহরে তার জীবনে। উত্তম পুরুষে লেখা এই উপন্যাসের কথক এৎসুকো-ই। কিন্তু পাঠক দেখতে পান, এৎসুকো মেয়ের আত্মহত্যা নিয়ে কোনও কথা না বলে বলে চলেছে তার অতীতের কথা। ইশিগুরো তাঁর প্রথম উপন্যাসেই বুঝিয়ে দিলেন, তিনি জাপানি বংশোদ্ভূত, ইংল্যান্ডে অভিবাসী, কিন্তু তাঁর সৃষ্ট সাহিত্য পরিচিত ‘ইমিগ্র্যান্ট লিটরেচার’-এর আর-এক ধরন হবে না।

    তখনও ইশিগুরো ব্রিটিশ নাগরিক নন। ১৯৮৩ সালের সেরা যুব ব্রিটিশ লেখকদের তালিকাভুক্ত হন ইশিগুরো। তালিকায় অন্যান্যরা উত্তরকালে এক-একজন খ্যাতনামা— সলমন রুশদি, জুলিয়ান বার্নস, ইয়ান মিকুয়ান, মার্টিন আমিস, গ্রাহাম সুইফট, বুচি এমেচিতা, শিভা নায়পল প্রমুখ। এঁদের মধ্যে তখন কনিষ্ঠতম ইশিগুরো। সে-বছরই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন ইশিগুরো। সিদ্ধান্তটি তাঁর দিক থেকে ছিল যথার্থ— ‘I couldn’t speak Japanese very well…I felt British and my future was in Britain.’

    নানারকম প্রস্তাব আসতে থাকে ইশিগুরোর কাছে— চ্যানেল ফোর, বিবিসি-র জন্য চিত্রনাট্য লেখা, মার্চেন্ট আইভরি প্রোডাকশনের জন্য চিত্রনাট্য লেখা। রিসেটলমেন্ট কর্মীর কাজ ছেড়ে দেন ইশিগুরো। এবার থেকে তিনি পূর্ণ সময়ে লেখক। চার বছরের মাথায় প্রকাশিত হল তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস, ‘অ্যান আর্টিস্ট অফ দ্য ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ড’। এটিও উত্তম পুরুষে লেখা। কেন্দ্রীয় চরিত্র বার্ধক্যে উপনীত বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মাসুজি ওনো। জীবনের উপান্তে এসে ওনো-ও ফেরে অতীতে, বুঝতে পারে তার অতীতই নির্মাণ করেছে তার চিত্রকর্ম, নির্মাণ করেছে তাকে। তার অতীত কিন্তু নিষ্কলুষ নয়। তাকে দায় নিতে হয় তার ব্যক্তিগত ইতিহাসের। সমালোচক-প্রশংসিত ‘অ্যান আর্টিস্ট অফ দ্য ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ড’ বুকার পুরস্কারে শর্টলিস্টেড হয়, পায় হুউটব্রেড সম্মানও।...

     

    সম্পূর্ণ প্রবন্ধটি পড়তে আজই সংগ্রহ করুন বইয়ের দেশ ‘অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০১৭’ সংখ্যা

     

     

You may like