গ্রন্থ সমালোচনা

পরিবেশ ভাবনার পথরেখা

যুধাজিৎ দাশগুপ্ত

  • পরিবেশ
    ........................
    পরিবেশ নিয়ে ভাবতে শেখালেন যাঁরা
    শুভেন্দু গুপ্ত
    পত্রলেখা
    কল-৯।
    ২৩০.০০ 
    ........................

    পরিবেশ সমস্যা বহুস্তরীয়। অগ্রগামীদের ভাবনাচিহ্ন আমাদের পথ দেখাতে পারে। তারই চেষ্টা এই গ্রন্থে।

     

    টাকরায় বিঁধে থাকা কাঁটার মতো একটা অস্বস্তি হয় এই ভাবনা নিয়ে যে, মানুষ যদি কয়েক হাজার বছর আগে থেকে জেনে থাকে তার জীবন চারপাশের আর-পাঁচটা উপাদানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তবে আজ পরিবেশের এই দশা কেন? প্রথম শিল্পকারখানা গড়ার মাত্র তিনশো বছরের মধ্যে দুই মেরু আর পর্বতচূড়ার বরফ গলতে শুরু করেছে দ্রুতহারে, আবর্জনার স্তূপ কেবল ডাঙা ঢাকেনি, সমুদ্রের বুকে কৃত্রিম দ্বীপের আকারে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমরা শহরে জল কিনে খাচ্ছি, শিগগিরই বাতাস কিনব হয়তো, কারণ কলকাতা শহরের বাতাসও স্বাস্থ্যনির্দেশিকা অনুযায়ী অতি বিপজ্জনক রকমে দূষিত। জিডিপি হয়তো বাড়ছে দেশে দেশে, কিন্তু পৃথিবীর সমস্ত জীবকুলের অস্তিত্ব সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সূচক, ‘লিভিং প্ল্যানেট ইনডেক্স’ ১৯৭০ সালের তুলনায় পড়েছে ৫৮ শতাংশ! তাও এটা ২০১২-র হিসেব। আমরা কোথায় চলেছি?

    সমস্যাটা এমন যে, ‘দ্যালাম ঠুকে একদলা চ্যবনপ্রাশ’ বলে নিরাময় আনার কোনও জায়গা নেই। মানুষের চাপে প্রায় টলমল ধরিত্রী আর দুরাচারী কর্পোরেট শক্তির সঙ্গত করছে মানুষের ভোগস্পৃহা আর স্বার্থপরতা, নির্বেদ আর অজ্ঞতা। বাণিজ্যিক উৎপাদনের সঙ্গে জড়ানো থাকে একটা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির টিকি, বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রক্রিয়া পরিবেশে ঘটায় নানা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন, ফলে শেষ বিচারে পরিবেশসমস্যা প্রতিকারের বল গিয়ে পড়ে রাষ্ট্রপরিচালকদের কোর্টে। হাটের মানুষ সমস্যার গভীরতা ততটা বোঝে না, পরিবেশ নিয়ে সক্রিয় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাদের সেতুটা সেভাবে গড়ে উঠতে পারে না তাই। অনেক সময়েই খুব দুঃখজনকভাবে তৈরি হয় অবিশ্বাসের বাতাবরণ। অথচ রাষ্ট্রশক্তির সংবিৎ ফেরানোর জন্য সমস্বর প্রতিবাদ না তুলে উপায় নেই। অজ্ঞতার প্রশ্নটা এখানেই বড় হয়ে ওঠে। কীভাবে বুঝব, যা বলছি ঠিক বলছি কি না!    

    সমস্যার প্রকৃতিটা বুঝতে হবে, তাকে রুখতে হবে সক্রিয়ভাবে, এবং ঠিক করে নিতে হবে, আমরা কী চাই— সে জন্য প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন আমাদের চিন্তাকাঠামোর পরিবর্তন, চাই এক নতুন দর্শন, যা ধারণ করবে আমাদের ভাবনাবিশ্বকে। শুভেন্দু গুপ্ত, একজন বরিষ্ঠ পরিবেশচিন্তক, এই বইয়ে সেই অজ্ঞতানাশের কাজটি একভাবে করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি এমন কয়েকজন মানুষের সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করাতে চেয়েছেন, যাঁদের কাজ, রচনা এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা বিষয়টিকে দেখতে পাই নানা দৃষ্টিকোণ থেকে, নানা স্তরে।

    ‘পরিবেশ দার্শনিক’, ‘পরিবেশ বিজ্ঞানী’ এবং ‘পরিবেশ আন্দোলনের পুরোধা ও সক্রিয় কর্মী’ এই তিনটি স্থূল বিভাগে বইয়ের অধ্যায়গুলো ভাগ করে প্রতি বিভাগে কয়েকজন করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় করানো হয়েছে। বৈদিক ঋষিদের রচনা ছাড়াও কুড়িজন ব্যক্তি এখানে আলোচিত— মহাত্মা গাঁধী, রবীন্দ্রনাথ থেকে ক্যারোলাস লিনিয়াস, চার্লস ডারউইন, কার্ল মার্কস, র‌্যাচেল কারসন, চিকো মেন্ডেস, বন্দনা শিব প্রমুখ।

    চিকো মেন্ডেস ছিলেন ব্রাজ়িলের একজন রবার-নিষ্কাশক শ্রমিক, অক্ষরজ্ঞান হয় যখন তাঁর কুড়ি বছর বয়স। কিন্তু মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের স্বরূপ, রবার চাষের ভেতর দিয়ে অরণ্য উৎসাদনের নিহিতার্থ পড়ে নিতে তাঁর অসুবিধা হয়নি। উনিশশো সত্তর-আশির দশকে জঙ্গল সাফ করে রবার চাষের প্রতিবাদে রবার শ্রমিকদের একত্র করে সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন চিকো। সেই আন্দোলন যখন যথেষ্ট বেগ সঞ্চয় করেছে, গোটা পৃথিবীর নজর টেনে আনছে, এমন এক সময়ে অতিষ্ঠ এক র‌্যাঞ্চ মালিকের ভাড়াটে খুনির হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি।

    চিকো মেন্ডেসের মতো আরও কয়েকটি প্রতিবাদী স্বর হিসেবে লেখক আলোচনা করেছেন ভারতের সুন্দরলাল বহুগুণা, বন্দনা শিব ও বিশনয়িদের গুরু পঞ্চদশ শতকের জাম্বোজি এবং কেনিয়ার ওয়ানগারি মুটা মাথাই-এর কথা। শেষোক্ত জন, গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট নামক গণআন্দোলনের ধাত্রী, সারা জীবন অশেষ নির্যাতন, কারাবাস সহ্য করেও তাঁর পরিবেশ আন্দোলন থেকে সরে আসেননি, বহির্জগৎ থেকে তাঁর কাজের স্বীকৃতি আসে নোবেল শান্তি পুরস্কারের রূপে।

    আগুনের লক্ষণ ধোঁয়া, কিন্তু পরিবেশ বিপাকের চিহ্ন সবসময় ওরকম সহজে পড়া যায় না। উদ্দিষ্ট যেখানে নানা জীবের আন্তঃসম্পর্ক, সেখানে তো কাজটা আরও কঠিন। নির্দিষ্ট ভূগোল আর জলবায়ুর আশ্রয়ে বেড়ে ওঠে এক-এক ধরনের জীবসমষ্টি, তাদের ভেতর চলে আদানপ্রদান সহযোগিতা-প্রতিযোগিতা, আশ্রয়দান আর উদরপূর্তি; চলে আসছে যুগ যুগ ধরে, যতক্ষণ না মানুষ জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞানতাপরবশ সে সব সম্পর্কসূত্রগুলো ছিঁড়তে থাকে। এমন একটা ব্যাপক ও অগণিত জীবসমন্বিত ইকোসিস্টেমের স্বাস্থ্য মাপব কী করে? সমস্ত জীবের সংখ্যা আর দশার সুলুক জানা তো চাট্টিখানি কথা না! গোটা ইকোসিস্টেমকে একটা শক্তিচালিত যন্ত্রের মতো গণ্য করে তাপগতিবিদ্যা আর বিদ্যুৎবর্তনী থেকে চিন্তানকশা ধার নিয়ে একটা বিশাল প্রাকৃতিক জলাশয়ের ইকোসিস্টেমের স্বাস্থ্য মাপার উদ্যোগ নিয়েছিলেন হাওয়ার্ড টমাস ওডাম, এবং সেই সূত্রে রচনা করেছিলেন একটা আগাগোড়া নতুন গবেষণা-অঙ্গন। ষাটের দশকের গোড়ায় র‌্যাচেল কারসন চিহ্নিত করেছিলেন ডিডিটি-র মারক চরিত্রকে। জীবের বিবর্তনের পথটি যে তার পরিবর্তনশীল পরিবেশই এঁকে দিচ্ছে, সেদিকে নজর টেনে জীবন ও তার বিজ্ঞানের রূপরেখাই বদলে দিয়েছিলেন ডারউইন। আর তারও আগে, গোটা জীবজগৎকে স্বচ্ছ কাঠামোর ভেতর এনে তাদের সম্পর্কে জ্ঞানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার সূচনা করেছিলেন ক্যারোলাস লিনিয়াস। জীবজগৎকে নানা শ্রেণিতে বিভাজিত করে তোলার তলায় তলায় যে বিবর্তনের চোরাস্রোত কাজ করছে, সেটা পরে ডারউইনের সূত্রেই আমরা জানব।  

    পরিবেশ সমস্যার স্বরূপ বুঝতে হাত ধরতে হয় বিজ্ঞানের, কিন্তু তার প্রতিকারের পথটি চিনে নেওয়ার জন্য দর্শনের আলো ছাড়া গতি নেই। কাকে শ্রেয় বলব, জীবনে কতটুকু নেব কতটুকু ছাড়ব, বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে নেব জীবনের কোন দ্যুতি থেকে? মানুষের অধিকার কতদূর? মানুষ নিজেই যদি প্রকৃতির সন্তান হয়, তবে তার সমস্ত কাজই তো প্রাকৃতিক ঘটনা, তার কি নিজেকে অপরাধী ভেবে লজ্জিত হওয়ার কোনও কারণ আছে? 

    বিভিন্ন প্রশ্ন আছে উত্তরের অপেক্ষায়। দেখতে পাই, সাড়ে তিন হাজার বছর আর অর্ধেক পৃথিবীর দূরত্বে থেকেও অথর্বসূক্ত রচয়িতা এবং সি’আহেল, উনিশ শতকে আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান নেতা, দুই পরিপূরক ভাবনাকে বাক্যে রূপ দেন। ‘এই পৃথিবীর প্রতিটি অংশই পবিত্র। প্রতিটি পাইন সূচিকার উজ্জ্বলতা, সমুদ্রবেলার প্রতিটি বালুকণিকা, গহন অরণ্যের গভীরে কুয়াশা, ঝিল্লির ধ্বনি— সবই আমাদের গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের স্মৃতিতে পবিত্র।’ বলেছিলেন সি’আহেল (যাঁর নাম থেকে আমেরিকার সিয়াট‌্ল‌্ রাজ্যের নামকরণ), তাঁদের সমগ্র বাসভূমি কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসা শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান গভর্নরকে। ওদিকে অথর্ববেদের পৃথিবীসূক্তে আছে, ‘এই পৃথিবী নানা ভাষাভাষী নানা প্রকৃতির ও নানা রীতিনীতি ও ধর্মের মানুষের পালয়িত্রী ও আশ্রয়দাত্রী। এই ধরিত্রী সকলকে তাঁর বক্ষে আশ্রয় দিয়েছেন, যেন তারা সবাই একই জীবনের অঙ্গ। অনুগত ও শান্ত গাভীগণ যেমন তাদের দুগ্ধ দিয়ে পরিবারের সকলের পোষণ করে, তেমনি হে ধরিত্রী সহস্র ধারায় তোমার সকল সম্পদ ও বিভব দিয়ে তুমি তোমার সন্তানদের পোষণ করো।’  
    কী চোখে প্রকৃতিকে দেখব আমরা? প্রকৃতি কি কেবল মানুষের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করার ক্ষেত্র? নাকি প্রকৃতির উপাদানগুলি, বৃষ্টির ফোঁটা, তার ঝিল্লিস্বর, নদীর কলধ্বনি, অরণ্যে পাতার ফাঁক দিয়ে এসে পড়া সৌররশ্মি— এ সব আমারই প্রসারিত অস্তিত্ব? আমিই সে!

    পরিবেশ আন্দোলনের সাফল্য ব্যর্থতা অনেকটাই প্রকৃতির প্রতিটা অংশের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়ানো, আর মূল্যবোধ জড়ানো আমাদের নৈতিক চেতনার সঙ্গে। লেখক ভগবান বুদ্ধের পরিবেশ ভাবনার উল্লেখ করেছেন এবং জানাচ্ছেন, বৌদ্ধ পরিবেশবাদীরা পারস্পরিক নির্ভরতা ও কার্যকারণ সম্পর্কের মধ্যে আধুনিক বাস্তুতন্ত্রীয় ধারণার প্রতিফলন দেখেছেন। এক অখণ্ড কর্মসমবায়ে সকলেই সকলের সহযোগী সহযাত্রী। নির্ভরতা ও সহযোগিতা মানবজাতি, জীবজন্তু, উদ্ভিদ ও মৃত্তিকার ক্ষেত্রেও প্রসারিত। এই ধারাতেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথ ও গাঁধী, তাঁদের অন্তর্গত সামান্য কিন্তু স্পষ্ট ব্যবধান সত্ত্বেও।

    গাঁধীর চিন্তার বীজ থেকে পরিবেশ ভাবনার সতেজ অঙ্কুর জন্ম নিয়েছে পাশ্চাত্যের একাধিক প্রান্তে। তেমনই একজন আলোকযাত্রী ছিলেন নরওয়ের মানুষ আর্নে নেস (Arne Naess)। তিনি সত্যাগ্রহকে যেমন তাঁর আন্দোলনের হাতিয়ার করে তুলেছিলেন, তেমনই মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কটিকে দেখাতে চেয়েছিলেন এক ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। তিনি বলেছিলেন, প্রকৃতির সকল জীবের বাঁচার ও পূর্ণতা লাভের অধিকার সমান। মানুষের জীবন সর্বভূতে লীন হয়ে আছে। গাঁধী ও বেদান্ত উভয়ের কাছে নেস-এর এই ভাবনা ঋণী।


    আজকের দিনের বিপণিবেষ্টিত নাগরিক মানুষের কাছে এইসব কথা ধোঁয়াটে লাগতে পারে। কথাগুলি তাই আরও বেশি করে, আরও নানাভাবে চর্চার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে আজ। লেখককে সে কারণে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। তবে, উদ্যোগটাতে যে সম্ভাবনা ছিল তার সবটুকু বিকশিত হতে পারে না উপস্থাপনার দোষে। লেখক প্রারম্ভে জানিয়েছেন, এই বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হতে পারত আরও অনেকের কথা, তবে সঙ্গত কারণেই সীমিত আয়তনের গ্রন্থে তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু নির্বাচনের পিছনে কোনও ভাবনা কাজ করেছিল কি না বোঝা গেল না। যদি কোনও ভাবনা থেকেই থাকে তবে সেটাকে প্রথমে বলে নিলে সুবিধে মিলত এই যে, সেই ভাবনাটাই গোটা বইয়ের তলায় তলায় যোগসূত্রের কাজ করত। তার অভাবে অধ্যায়গুলো অসংযুক্ত হয়ে ঝুলে থাকে।

    আলোচিত ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত আর তাঁদের ভাবনার পরিবেশন সবক্ষেত্রে সমতা রাখতে পারেনি। এই বইয়ে আমরা ব্যক্তির জীবনটি ততটুকুই চাই, যতটুকু তাঁর ভাবনা ও কাজ অনুসরণ করার জন্য আমাদের দরকার।

    সবচেয়ে বড় অস্বস্তি ঘটায় কোনও কোনও অধ্যায়ের মধ্যবর্তী অনন্বয়। পড়তে পড়তে কখনও এমনও মনে হয়, এ যেন কোনও রচনা লেখার প্রস্তুতি হিসেবে নানা উৎস থেকে খুঁটে আনা উদ্ধৃতিমালা, যা পরে সুবিন্যস্ত ও মসৃণ হয়ে একটা সংহত প্রবন্ধ গড়ে তুলবে। কিন্তু পরের কাজটি যেন করা হয়নি, বা সে কাজে আরও যত্ন প্রত্যাশিত রয়ে গেছে। ভাবনাগুলো কাঙ্ক্ষিত শরীর পায় না, বহু ক্ষেত্রে সেসব কেবল কয়েকটা বিচ্ছিন্ন উদ্ধৃতি হয়ে— তারও বেশির ভাগ ইংরেজিতে (এমনকী ভগবান বুদ্ধের বচনও)— রয়ে যায়। পারিভাষিক শব্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দিয়ে সাধারণের মননে আনার মতো অবয়ব তাকে দিতে পারেননি লেখক, ফলে সেগুলো ধোঁয়াটে ঠেকা স্বাভাবিক। তবু বলব, পরিবেশ নিয়ে ভাবনাপ্রসারী লেখালেখির খরার মাঝখানে এ বইটি কিছু আশার মেঘসঞ্চার করে।