গ্রন্থ সমালোচনা

ভারতের শিল্প-ইতিহাস

সুশোভন অধিকারী

  • চিত্রকলা
    ........................

    ভারত-শিল্প: ইতিহাস ও ঐতিহাসিক
    অশোক ভট্টাচার্য
    শ্রীভারতী প্রেস
    কল-৪৭।
    ২০০.০০
    ........................

    আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলা (উন্মেষ পর্ব)
    অসীম রেজ
    এম. সি. সরকার অ্যাণ্ড সন্‌স প্রাইভেট লিমিটেড
    কল-৭৩।
    ১০০.০০
    ........................

    ভারতীয় চিত্রকলার ইতিহাস, বিকাশ এবং শিল্প-ইতিহাসবিদ ও চিত্রকরদের নিয়ে দু’টি সাম্প্রতিক বই।

    অশোক ভট্টাচার্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের একজন কৃতী অধ্যাপক। সুদীর্ঘকাল তিনি অধ্যাপনায় বৃত ছিলেন। শুধু শিক্ষকতা নয়, প্রাচীন ভারতের ইতিহাস, পুরাতত্ত্ব বিষয়ক গবেষণা ও তার ব্যাখ্যাতা হিসেবে তাঁর বৈদগ্ধ সুবিদিত। আবার অন্যদিকে ভারতীয় কলাশিল্পের বিচিত্র পরিসরে তাঁর নিরলস গতায়াত চোখে পড়ে। এ বিষয়ে অধ্যাপক ভট্টাচার্যের বহুধা প্রসারিত চর্চার ক্ষেত্রটি শিল্পের আলোচনা ও বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছে। বাংলা এবং ইংরেজি দু’টি ভাষাতে তিনি অনেকগুলি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন। এখানেই শেষ নয়, তাঁর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ দিকটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন সমিতিতে যুক্ত থেকেছেন তিনি। দক্ষ সংগঠক হিসেবে সামলেছেন এশিয়াটিক সোসাইটি, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ বা মহাজাতি সদনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি। এমন একজন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদের সাম্প্রতিকতম গ্রন্থ ‘ভারত-শিল্প: ইতিহাস ও ঐতিহাসিক’ স্বভাবতই পাঠকের স্বতন্ত্র দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

    আলোচিত বইয়ের কথায় আসা যাক। গ্রন্থকার তাঁর বইটিকে দু’টি পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন। প্রথম পর্বের শিরোনাম ‘ইতিহাস’, সেখানে আলোচিত হয়েছে ভারতের শিল্প-ইতিহাসচর্চার সূচনা ও তার বিকাশের কথা। আর দ্বিতীয় ভাগে ‘ঐতিহাসিক’ শিরোনামে পাঁচজন অত্যন্ত জরুরি শিল্প-ইতিহাসবিদের জীবন ও কাজের উপর আলো ফেলেছেন। এই পাঁচজন শিল্প-ইতিহাসবিদের নাম যথাক্রমে ই বি হ্যাভেল, আনন্দ কুমারস্বামী, অর্ধেন্দ্রকুমার গঙ্গোপাধ্যায়, স্টেলা ক্রামরিশ এবং নীহাররঞ্জন রায়। এঁদের মধ্যে নীহাররঞ্জন বয়ঃকনিষ্ঠ। বলার অপেক্ষা রাখে না, ভারতীয় শিল্প-ইতিহাসের এই আলোকিত পঞ্চপ্রদীপটি যথেষ্ট আলোচিত বা চর্চিত। কিন্তু গ্রন্থকার তাঁর ভাবনা ও অনুসন্ধানের নতুন আলোকে এই প্রদীপকে যেন আর-একটু উসকে দিতে চেয়েছেন। ‘ঐতিহাসিক’ পর্বে এঁদের জীবনপঞ্জির দিকে তাকালে দেখি— হ্যাভেল থেকে নীহাররঞ্জন, ১৮৬১ থেকে ১৯০৯ পর্যন্ত পঞ্চাশ বছরের সময়সীমায় এঁদের জন্ম। সময়ের এই পরিসরটুকুও আমাদের মনে কিছু ভাবনা জাগিয়ে তোলে। এই পাঁচজন প্রথিতযশা ইতিহাসবিদের জন্মকালের বিন্দুগুলিকে ছুঁয়ে যদি একটি গ্রাফ-লাইন টানা যায়, তা হলে দেশের শিল্পচিন্তার বিবর্তনের প্রেক্ষাপট যেন অনেকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এঁদের মধ্যে প্রথম চারজন দেশের কলাশিল্পের সেই প্রবল দোলাচল আন্দোলিত পর্বে ভারতশিল্পের বেদিকে এক কঠিন বাঁধনে বেঁধে দিয়েছিলেন, আমাদের আর্ট-সিনারিয়োতে এঁরা এক-একটি স্বর্ণস্তম্ভবিশেষ। গ্রন্থকারের এই নির্বাচন তাৎপর্যপূর্ণ এবং যুক্তিগ্রাহ্য বলে স্বীকার করতে হয়।
    বইটির অন্দরে প্রবেশ করলে দেখা যাবে, বইয়ের প্রথম পর্বের ‘ইতিহাস’ অংশটি পরবর্তী দ্বিতীয় অংশের ভূমিকা বা গৌরচন্দ্রিকার মতো, গ্রন্থকারের মূল ফোকাস প্রধানত উপরোক্ত পাঁচজন শিল্প-ইতিহাসবিদের উপরে নিবদ্ধ। আগেই বলেছি, শুরুতে হ্যাভেলের কথা। ভারতশিল্পের পুনরুজ্জীবনে হ্যাভেলের ভূমিকা আমাদের অজানা নয়, আর তা ললিতকলার পাশাপাশি কারুকলা বা ক্র্যাফটের উন্নতিকল্পেও তাঁর প্রয়াস উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত বইগুলির মধ্যে ভারতীয় শিল্পকলা ও স্থাপত্যের বিষয় ছাড়াও ‘হ্যান্ডলুম উইভিং ইন ইন্ডিয়া’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রচনা, যা মহাত্মা গাঁধীর প্রশংসা আদায় করে। তিনিই প্রথম উদার মনের ইউরোপীয় পণ্ডিত, যিনি ভারতীয় শিল্পকে তার নিজস্ব আদর্শের নিরিখে বিচার করতে চেয়েছেন। এই জরুরি প্রসঙ্গগুলি অধ্যাপক ভট্টাচার্যের লেখনীতে স্বচ্ছ ও প্রাঞ্জল ভাষায় ধরা পড়েছে। শেষে হ্যাভেল ও তাঁর স্ত্রী লিলি হ্যাভেলের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগের প্রসঙ্গও লেখক সযত্নে আলোচনা করেছেন— জীবনের প্রান্তে কবির উদ্যোগে শান্তিনিকেতনের সঙ্গে হ্যাভেলের সেতুরচনার এই পর্বটি বিশেষ আকর্ষক। অনুরূপভাবে কুমারস্বামীর জীবন ও কাজ তাঁর আলোচনায় ছাপ রেখে যায়। তিনি কুমারস্বামীর জীবনের বিচিত্র বাঁকের দিকে পাঠককে এগিয়ে নিয়ে যান। ঠাকুরবাড়ির শিল্পীগণ এবং রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সুদীর্ঘ প্রীতিস্নিগ্ধ সম্পর্কের আলোচনায় লেখক বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। অর্ধেন্দ্রকুমার বা ও সি গাঙ্গুলির জীবনের দিকটিও গ্রন্থকার বেশ সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। অর্ধেন্দ্রকুমারের ‘ভারতের শিল্প ও আমার কথা’ শিরোনামের আত্মস্মৃতিমূলক গ্রন্থ থেকে অধ্যাপক ভট্টাচার্য সযত্নে বেছে নিয়েছেন সেই ইতিহাসবিদের জীবনের উপাদান, উদ্ধৃত করেছেন অজস্র সব দীর্ঘ ও মূল্যবান অংশ, যা এই লেখাকে আরও স্বাদু করে তুলেছে। অর্ধেন্দ্রকুমার প্রসঙ্গে লেখকের একটি জরুরি মন্তব্য এখানে উল্লেখ করি— ‘অর্ধেন্দ্রকুমার শিল্পরসজ্ঞ হিসাবে ছিলেন উদারপন্থী— কোনো মত, কোনো ধর্মবিচার, কোনো সভ্যতার বেড়াজালে তিনি বদ্ধ ছিলেন না কোনোদিন। তাই দেখা যায় যে উৎসাহে তিনি রাজপুত চিত্র অনুধাবন করেছেন, তেমন উৎসাহেই অনুধাবন করেছেন মুঘল চিত্রকলা, এমনকী ইস্লামিক ক্যালিগ্রাফিও। যে-রসদৃষ্টিতে তিনি পরমবৈষ্ণব ক্ষিতীন্দ্রনাথ মজুমদারের প্রেমভক্তি নিষিক্ত চৈতন্যজীবন অবলম্বনে অঙ্কিত ছবিগুলি দেখেছেন, সেই দৃষ্টিতেই গত মহামন্বন্তরে আঁকা জয়নুল আবেদিনের বুভুক্ষু মানুষগুলির মর্মন্তুদ স্কেচগুলিকেও— ভাবুকতা ও রূঢ় বাস্তবতা উভয়কেই তিনি গ্রহণ করেছেন যার যার সত্যে।’ মুক্তমনা অর্ধেন্দ্রকুমারের অন্তরের ছবিটি অধ্যাপকের কলমে এখানে ভাস্বর হয়ে উঠেছে। লেখকের সূত্র ধরে বলতে ইচ্ছে করে, জীবনের বোধ তথা শিল্পভাবনায় এমন উদারমনস্কতার অভাব প্রতিমুহূর্তে আজ কি আমরা অনুভব করি না? অর্ধেন্দ্রকুমারের পরে স্টেলা ক্রামরিশের অধ্যায়টিও এই গ্রন্থের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা জানি, শিল্প বিষয়ে স্টেলার আলোচনার প্রধান গুণ তাঁর বিশ্লেষণের যুক্তিগ্রাহ্যতা। হ্যাভেলের উচ্ছ্বাস হয়তো এখানে নেই, আছে তথ্য আর তত্ত্বের সুষ্ঠু সমন্বয়। তবে তার অর্থ এই নয় যে, তাঁর লেখাগুলিতে হৃদয়ের স্পর্শ নেই, সে কেবল নীরস গদ্যের স্তূপাকৃতি। একটা ছোট্ট উদাহরণ দেওয়া যাক, যেখানে স্টেলার অনুভবী কলম স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মনে পড়ে, কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথের আঁকা ফুলের ছবির প্রসঙ্গে আলোচিত স্টেলার সেই আশ্চর্য শব্দমালা। সেখানে স্টেলা বলেছিলেন, ‘রথীন্দ্রনাথ ফুলের স্টাডি করেন না, তিনি ফুলের প্রতিকৃতি আঁকেন।’ এই ছোট্ট শব্দবন্ধের মধ্যে স্টেলার শিল্পীমনের সূক্ষ্ম অনুভূতি ঠিকরে ওঠে। অধ্যাপক ভট্টাচার্যও স্টেলার জীবনের নানা অধ্যায় বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন।  একটা বিষয় এখানে উল্লেখ করতে হয়। শ্রীমতী বারবারা স্টোলার মিলার সম্পাদিত ফিলাডেলফিয়ার পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত গ্রন্থে স্টেলার জীবনবৃত্তান্তের নোট দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, বিশের দশকের সূচনায় অক্সফোর্ডে স্টেলার ‘হিন্দু মন্দির’ বিষয়ক বক্তৃতা শুনে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে শান্তিনিকেতন কলাভবনে আহ্বান করেন। বলা বাহুল্য, তখন সদ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের প্রাণের কলাভবন। অধ্যাপক ভট্টাচার্য উপরোক্ত প্রসঙ্গটি তাঁর বইয়ে জানালেও তথ্যের উৎস বিষয়ে নীরব থেকেছেন। গ্রন্থের শেষ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নীহাররঞ্জন রায়। তিনি ছিলেন পূর্ব ও পশ্চিমের শিল্পকলায় সমান সমঝদার। গ্রন্থকারের মতে, নীহাররঞ্জনের শিল্পবিচারের অভিমুখ ছিল এক সমাজবৈজ্ঞানিক ঐতিহাসিকের দৃষ্টি, যা সর্বাংশে সত্য। সব মিলিয়ে বইটি ভারত-শিল্পচর্চা ও তার অগ্রপথিকের ভূমিকাকেন্দ্রিক এক পরিচ্ছন্ন ছবি তুলে ধরেছে। অবশেষে একটু কুণ্ঠার সঙ্গে বলতে হয়, অধ্যাপক ভট্টাচার্যের বইটির দুর্বলতা— গ্রন্থে মুদ্রিত প্রতিটি নিবন্ধের শুরু প্রায় একই ধরনের।  বিভিন্ন পত্রিকায় এগুলি আগে মুদ্রিত হয়েছে, হয়তো এই কারণে। তবে গ্রন্থভুক্ত হওয়ার সময় বিষয়টি খেয়াল না করলে পাঠকের একটু একঘেয়ে বোধ হতে পারে। তা ছাড়া গ্রন্থিত নিবন্ধগুলির পারস্পরিক সামঞ্জস্য সেভাবে রক্ষিত হয়নি। ‘ঐতিহাসিক’ পর্বের প্রথম নিবন্ধ ‘ই বি হ্যাভেল’-এর শেষে কোনও গ্রন্থপঞ্জি বা তথ্যসূত্র নেই, অন্যগুলিতে থাকলেও একটু অবিন্যস্ত এবং সর্বক্ষেত্রে তার প্যারিটি রক্ষিত হয়নি। দু’-একটি ভুলও চোখে পড়ে, যেমন অর্ধেন্দ্রকুমারের বিষয়ে রচিত নিবন্ধের শেষে তথ্যসূত্র অংশে ‘ভারতের ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী’ বইটির রচয়িতার নাম মুদ্রিত হয়েছে কমলকুমার মজুমদার এবং বইটির প্রকাশকাল ১৯৪৮। প্রকৃতপক্ষে লেখকের নাম কমল সরকার ও প্রকাশকাল ১৯৮৪। আর গ্রন্থের শেষে একটি নির্দেশিকার প্রয়োজন ছিল বই কী। তবে সদ্যপ্রয়াত অধ্যাপকের কাজ নিয়ে এই ধরনের সমালোচনায় মন সায় দেয় না।

    অসীম রেজের ‘আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলা’ বইটির প্রথম পাতা খুলেই হোঁচট খেতে হল। টাইটেল-পেজ উলটে দেখি সেখানে শিরোনাম ‘আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলা’র নীচে প্রথম বন্ধনীতে ভুল বানানে মুদ্রিত হয়েছে (উণ্মেষ পর্ব) শব্দটি। অথচ ‘সূচনাপর্ব’ থেকে তা শুরু হয়েছে সঠিক বানানেই, এই ধরনের সিরিয়াস বইয়ে এমন অনবধান অমার্জনীয়। কোনও বইয়ের শুরুতে তার সাব-টাইটেল অংশের এ জাতীয় ত্রুটি পাঠকের মন সংকুচিত করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। বইটির বিষয়বিন্যাস খেয়াল করলে দেখা যাবে, সূচনাপর্ব ছাড়া মোট আটটি অধ্যায় এখানে সংযুক্ত আছে। সেগুলি যথাক্রমে— ১. রাজা রবি বর্মা ও ভারতীয় আদর্শ, ২. অবনীন্দ্রনাথ ও ভারতশিল্পের পুনর্মূল্যায়ন, ৩. পাশ্চাত্য শিল্পচর্চা ও আধুনিকতার প্রবেশ, ৪. গগনেন্দ্রনাথ ও কিউবিজম, ৫. রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলায় আধুনিকতা, ৬. নন্দলাল বসু ও ভারত আত্মার অনুসন্ধান, ৭. যামিনী রায় ও লোকশিল্পের পুনরুজ্জীবন এবং ৮. অমৃতা শের-গিল ও শিল্পে নারীসত্তার প্রকাশ।

     

    শিরোনামগুলির মাধ্যমেই বোঝা যায় গ্রন্থকার রবি বর্মা থেকে আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলা পর্যন্ত একটি রেখা টেনে নিতে আগ্রহী। বিষয়ের দিক থেকে বহুচর্চিত হলেও তা উল্লেখযোগ্য এই কারণে যে, এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় চিত্রকলার বিবর্তনের একটি ছবি ফুটে ওঠে। তবে বইয়ের পরিসর বিস্তৃত হলেও উপস্থাপনার ভঙ্গি অনেকটা পাঠ্যপুস্তকের আদলে। গ্রন্থে বর্ণিত কিছু তথ্যের উৎস ও তার সত্যতা বিষয়ে কখনও-বা সংশয় থেকে যায়। যেমন, ‘সূচনাপর্ব’-তে লিখিত ‘১৯২১ সালে বার্লিনে আয়োজিত বেঙ্গল স্কুলের শিল্পীদের প্রদর্শনীর বিনিময়ে পরের বছর সোসাইটি কলকাতার জার্মানির “বাউহাউস” (Bauhaus) গোষ্ঠীর শিল্পীদের ড্রইং, ওয়াটার-কালার এবং গ্রাফিক্সের কাজগুলি জনসমক্ষে তুলে ধরে’— এই তথ্য ঠিক নয়। কলকাতায় বাউহাউসের প্রদর্শনীর আয়োজন অন্য কোনও এগজ়িবিশনের ‘বিনিময়ে’ হয়নি, এর নেপথ্যে রবীন্দ্রনাথ ও স্টেলার ভূমিকা সুবিদিত। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে বইটির প্রেক্ষাপট আকর্ষক, বহু বিচিত্র খবরাখবর এখানে একত্রিত করা হয়েছে, তবে তা আরও সযত্ন পরিমার্জনা দাবি করে। শেষে মুদ্রিত দীর্ঘ গ্রন্থসূচি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কিন্তু তা অত্যন্ত এলোমেলোভাবে সাজানো। এ ছাড়া গ্রন্থসূচির কোথাও প্রকাশনার নাম চোখে পড়ে না আর কয়েকটি ক্ষেত্রে গ্রন্থ রচয়িতার নামগুলি সঠিকভাবে মুদ্রিত নয়। সে ব্যাপারেও নিঃসন্দেহে সতর্কতা জরুরি।

     

     

You may like