Film Review

প্যাডম্যান

  • পরিচালনা: আর বালকি

    অভিনয়: অক্ষয় কুমার, সোনম কপূর, রাধিকা আপ্টে প্রমুখ

    চলচ্চিত্রের মতো গণমাধ্যমের দ্বারা খুব সহজেই জনগণের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়, তাই অনেক চলচ্চিত্রের বিষয়ই হয় সামাজিক সচেতনতা। কিন্তু পরিচালক আর বালকির ‘প্যাডম্যান’ শুধুমাত্র সামাজিক বার্তাবহ ছবিই নয়, এটি এমন একজনের বায়োপিক, যাঁর জীবনের ঘটনা প্রত্যেক দর্শককেই কোথাও না কোথাও ছুঁয়ে যাবে— সে নারী হোক বা পুরুষ। নারী-পুরুষের ভেদাভেদটা এই জন্যই করা হল কারণ, জীবনীটি তামিলনাড়ুর অরুণাচলম মুরুগন্থম-এর। যাঁকে সারা বিশ্ব ‘মেন্সট্রুয়াল ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ নামে চেনে। তিনি একজন পুরুষ হয়েও নারীর শারীরিক কষ্টকে লাঘব করার জন্য যে-ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা সত্যি তারিফযোগ্য। তাঁর জীবনের অনুপ্রেরণায়, টুইঙ্কেল খন্না রচিত ‘দ্য লেজেন্ড অফ লক্ষ্মী প্রসাদ’ গ্রন্থ অবলম্বনে নির্মিত ‘প্যাডম্যান’ ছবিটি। ছবিতে পটভূমি মধ্যপ্রদেশ এবং প্রধান চরিত্রের নাম লক্ষ্মীকান্ত চৌহান।

    ঋতুস্রাব নিতান্তই মেয়েলি সমস্যা, সেখানে পুরুষদের নাক গলানো মোটেই ঠিক নয়— এমনই ধারণা বেশির ভাগ মানুষের। কিন্তু লক্ষ্মীকান্ত (অক্ষয় কুমার) তাঁর স্ত্রী গায়ত্রীকে (রাধিকা আপ্টে) ঋতুস্রাবের দিনে নোংরা কাপড় ব্যবহার করতে দেখে নাক না গলিয়ে পারেননি। স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা থেকেই হোক কিংবা নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশায়— তিনি বিনা খরচে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করে স্ত্রীকে উপহার দেন। কিন্তু পুরস্কারের বদলে ভাগ্যে জোটে গঞ্জনা ও অপমান। শেষে গ্রামছাড়া হতে হয় তাঁকে। এরপর তিনি স্যানিটারি ন্যাপকিন স্বল্পমূল্যে নির্মাণ করার যন্ত্র আবিষ্কার করে ফেলেন। এই কাজে তাঁর পাশে দাঁড়ায় এমবিএ স্নাতক তবলাবাদক পরি (‌সোনম কপূর)। এই ছবি সেই কাহিনিই ব্যাক্ত করে।

    কমেডির মোড়কে মোড়া ছবিটি চিত্তাকর্ষকও হয়ে ওঠে। অক্ষয়ের অভিনয়, রাধিকার স্ক্রিন প্রেজ়েন্স ও সোনমের নো মেকআপ লুক এবং উপস্থিতি, হাততালি দেওয়ার মতো সংলাপ— সব মিলিয়ে একটি ভাল প্যাকেজ। কিন্তু... কিছু বাড়তি জিনিস বাদ পড়লে ছবিটি আরও নিটোল হতে পারত। হয়তো মনোরঞ্জনের স্বার্থেই করা, কিন্তু কিছু জায়গা অতি নাটকীয়। ছবিটির সবচেয়ে বড় ত্রুটি হল তার সময়কাল। ছবির কাহিনি শুরু হচ্ছে ২০০১ সালে এবং শেষ হচ্ছে ২০১৬-এ লক্ষ্মীকান্তকে পদশ্রী পুরস্কার প্রদান দিয়ে (অরুণাচলম ২০১৬ সালে এই সম্মান পেয়েছিলেন)। কিন্তু ছবির চরিত্রের লুকে কোনও বয়সের ছাপ নেই! সোনমের চরিত্রটি কাল্পনিক। শুধুমাত্র ছবির স্বার্থেই তাঁর উপস্থিতি। কিন্তু তার কি খুব প্রয়োজন ছিল? বিশেষ করে তাঁদের চুম্বনদৃশ্য। কারণ, ছবির প্রথমার্ধ যতটা বাস্তবসম্মত মনে হয়, দ্বিতীয়ার্ধে সেই বাস্তবের চলচ্চিত্রায়ণ ততটা মুগ্ধ করে না। গাছের আশপাশে ঘুরে গান কিংবা মারপিটের দৃশ্য বর্জিত এই ছবি থেকে আরও একটু বাস্তবিকতা কি কাম্য ছিল না?  

    অক্ষয় কুমারের স্ত্রী টুইঙ্কেল এই ছবির সহ-প্রযোজক। কিন্তু অক্ষয় এই চরিত্রটির জন্য প্রথম পছন্দ ছিলেন না। তবে ছবি দেখার পর দর্শকদের মনে হতে পারে কাস্টিং ডিরেক্টর বোধ হয় কোনও ভুল করেননি। অক্ষয় এই ছবির প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিরাজ করছেন স্বমহিমায়। লক্ষ্মীর চরিত্রটিকে একেবারে জীবন্ত করে তুলেছেন তিনি। রাধিকা ও সোনমও নিজেদের সেরাটুকু নিঙড়ে দিয়েছেন। অসম প্রেম ও অন্যরকম গল্প নিয়ে ছবি করার জন্য খ্যাত পরিচালক আর বালকির এটি পঞ্চম ছবি (পরিচালক হিসেবে), তাই তাঁর থেকে আরও একটু পরিণত ক্লাইম্যাক্স-এর প্রত্যাশা ছিল। যাঁর জন্য (পড়ুন পরি) লক্ষ্মীর চরিত্রটি উন্নতির শিখরে পৌঁছল, তাঁকে এত সহজে কী করে ভুলে গেলেন প্যাডম্যান? অমিত ত্রিবেদীর সংগীত ও কৌসর মুনিরের লিরিকস বেশ সাদামাটা। তবে ছবির বিষয় ও উপস্থাপনে মজুত বিনোদনের উপাদান দর্শককে ১৪০ মিনিট প্রেক্ষাগৃহের আসনে বসিয়ে রাখতে সফল হয়েছে বটে!