Film Review

ব্ল্যাকমেল

  • পরিচালনা: অভিনয় দেও

    অভিনয়: ইরফান খান, কীর্তি কুলহারি, অরুণোদয় সিংহ, দিব্যা দত্ত, ওমি বৈদ্য প্রমুখ

     

    পরকীয়া শব্দটির একটি গাঢ় (পড়ুন ডার্ক) দিক রয়েছে। সেই ডার্ক দিকটিকে হাস্যরসের মোড়কে মুড়িয়ে পরিবেশন করা হয়েছে ‘ব্ল্যাকমেল’ ছবিটিতে। মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন ইরফান খান। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ‘দিল্লি বেলি’ খ্যাত পরিচালক অভিনয় দেও। ছবির ট্রেলর দেখে কাহিনির আভাস দর্শক কিছুটা পেয়েছেন, কিন্তু এ ছবি না দেখলে বোঝার উপায় নেই, কোনও মানুষ অপর মানুষকে কোন-কোন উপায়ে ‘ব্ল্যাকমেল’ করতে পারে এবং তা কীভাবে একইসঙ্গে কমিক সিচুয়েশন তৈরি করার পাশাপাশি সফলভাবে থ্রিলিংও হতে পারে! কমিক থ্রিলার, হ্যাঁ, আপাতভাবে এই গোত্রেরই অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে ছবিটিকে, কিন্তু ডার্ক হিউমার এই ছবির সঠিক জঁর। ছোট্ট করে কাহিনিতে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক— অন্যান্য দিন গভীর রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরা দেব (ইরফান) একদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসে। উদ্দেশ্য স্ত্রী রিনাকে চমকে দেওয়া। কিন্তু সে রিনাকে আবিষ্কার করে প্রেমিক রঞ্জিতের (অরুণোদয়) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায়। হতভম্ভ দেব কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সেই মূহূর্তে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। তারপর ফিরে আসে ও পরিকল্পনা করে রঞ্জিতের ফোন নম্বর জোগাড় করে অন্য নম্বর থেকে তাকে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে। শুরু হয় ব্ল্যাকমেল-এর ধারাবাহিকতা। একটি ব্ল্যাকমেল জন্ম দেয় অন্য আর একটি ব্ল্যাকমেল-এর। পর্বটি চলতে থাকে শৃঙ্খলের মতো। জড়িয়ে পড়ে আরও অনেক চরিত্র।

    চিত্রনাট্যে টয়লেট হিউমারের ব্যবহার— টয়লেট পেপার প্রস্তুতকারক কোম্পানির প্রধানের ভূমিকায় ‘থ্রি ইডিয়টস’ খ্যাত ওমি বৈদ্যর ওপরচালাকি ও মুখ থুবড়ে পড়া দেখে ‘দিল্লি বেলি’-র কথা মনে আসতে পারে, কিংবা একটি ঘটনার সূত্রে আর এক ঘটনা ও ছবিটির একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ করা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে আটের দশকের ক্লাসিক ‘জানে ভি দো ইয়ারো’-র কথা। ছবির প্লট ও সিম্বলিজ়ম-এর ব্যবহার দুর্দান্ত। হস্তমৈথুন বোঝাতে জলের সিম্বলিজ়ম, কিংবা বিবাহিত জীবনের ছিদ্র বোঝাতে দরজার ছিদ্র দিয়ে দেবের স্ত্রীর পরকীয়া কীর্তিকলাপের প্রথম দর্শন, ভীষণ বুদ্ধিদীপ্ত। কাহিনিকার পারভেজ শেখ ও সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা হুজেফা লোখান্ডওয়ালা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখেন। সংগীত পরিচালক অমিত ত্রিবেদীকে সাধুবাদ। তাঁর পরিচালিত ‘সাটাসাট’ কিংবা ‘বাদলা’ গানগুলি ছাড়া ছবিটি অসম্পূর্ণ থাকত। গুরু রনধাওয়ার ‘পাটোলা’ গানটিও মন্দ নয়। আর যাঁর কথা না বললেই নয়, তিনি ইরফান খান। তাঁর দাপুটে উপস্থিতি ও কীর্তির যোগ্য সঙ্গত এ ছবির অমূল্য সম্পদ।             

You may like