সম্পাদকীয়

যাত্রা হল শুরু

  • প্রতীক্ষারত অসংখ্য স্বপ্ন ও অগণিত প্রত্যাশা এবার বাস্তবায়িত ও সার্থক করার দায়-দায়িত্ব, নবগঠিত সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে যে-প্রতিশ্রুতির বন্যায় দেশের মানুষ ভেসে গিয়েছিল, সেই বন্যার জল যেন নিন্দার্থে ‘বেনোজল’ হয়ে না দাঁড়ায়!

     

    নতুন সরকার, নতুন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন পরে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাধিক্যের জোরে সিংহাসনে সমাসীন হল। রাজ্যে রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা আঞ্চলিক দলগুলির কিছু সহায়তা হয়তো ছিল, কিন্তু এই নিরঙ্কুশ জয় সব হিসেব তছনছ করে দিয়েছে। তবে শরিকি বাধ্যবাধকতা যেটুকু আছে, তা অনেকটা ঘেরাটোপের মতো, ভবিষ্যতে খসে পড়লেও বেআব্রু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। গত মাসের উপান্ত থেকে এই নবীন শাসনতন্ত্রের যে-যাত্রা শুরু হল, তা পাঁচ বছর পরে কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, তা এখনই বলা শক্ত। লঘু মন্তব্য করাও বাতুলতা। পাহাড়প্রমাণ কাজের সফলতা নিয়ে বলার সময় এখন নয়। বরং আমরা নতুন শাসককে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনার যাত্রাপথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য স্বপ্ন, অগণিত প্রত্যাশা। প্রতীক্ষারত স্বপ্ন ও প্রত্যাশা এবার বাস্তবায়িত ও সার্থক করার দায়-দায়িত্ব, নবগঠিত সরকারের সামনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে যে-প্রতিশ্রুতির বন্যায় দেশের মানুষ ভেসে গিয়েছে, সেই বন্যার জল যেন নিন্দার্থে ‘বেনোজল’ হয়ে না দাঁড়ায়! নির্বাচনী প্রচারে নরেন্দ্র মোদী দেশের মানুষকে বলেছিলেন, তিনি এই মন্ত্রে বিশ্বাসী: মিনিমাম গভর্নমেন্ট, ম্যাক্সিমাম গভর্ন্যান্স। ন্যূনতম সরকার মানে- সমস্ত কিছু রাষ্ট্রের ছাতার তলায় এনে সরকারের অনাবশ্যক ভারবৃদ্ধি বন্ধ করা। আরও পরিষ্কার করে বললে, সব ব্যাপারে সরকার নাক গলাবে না। বরং সমাজতান্ত্রিক ধাঁচে পরিচালিত ‘রাষ্ট্রায়ত্ত’ নামক দানসত্রের চেয়ে, দেশের আর্থিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুপরিচালিত মালিকানাধীন ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকরী ও ফলপ্রদ- এই সত্যটি স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, মোদী-মন্ত্রিসভার আয়তন সংখ্যার বিচারে বড় না ছোট, এ প্রশ্ন অবান্তর। বরং দেখতে হবে, খনিগহ্বর থেকে আকাশযান- সর্বত্র সরকারি মোড়লগিরির রাশ শক্তহাতে প্রধানমন্ত্রী ধরে রাখতে পারছেন কি না। পাশাপাশি দেশের মানুষকে গতিসম্পন্ন ও পরিচ্ছন্ন সর্বাধিক সুশাসন দেওয়াই হবে সরকারের মূল এবং অবিচল লক্ষ্য। নিজের রাজ্য গুজরাতের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী মোদী ওই মন্ত্র প্রয়োগে সফল হয়েছেন। তিনি স্বপ্নদ্রষ্টা নন- এ কথা কেউ বলবেন না। কিন্তু সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে যে-দৃঢ়তা, সংস্কারমুখিনতা, গতানুগতিকতা বর্জনের মানসিকতা ও সাহসিকতা একান্ত প্রয়োজন, তা যতদিন না প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদী স্বতন্ত্রভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেন, ততদিন দেশের মানুষ নীরবে অপেক্ষা করবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার সময়সীমা পাঁচ বছর। তারপর স্বপ্নের সওদাগর ও গির অরণ্যের সিংহ নরেন্দ্র মোদীকে ‘পুনর্মূষিকো ভব’ বলতে জনতা এতটুকু সময় নেবে না। যুগান্তর ও দৃশ্যান্তর ঘটিয়ে চমক দেখানোর অদৃশ্য জাদুদণ্ডটি আদতে জনগণের হাতেই থাকে। এই সত্যটি রাজনীতিকরা ভুলে যান। আশা করা যায়, ভারতের পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী এই ভুল করবেন না। তাঁর ওপর মানুষ ভরসা করেছে।

     

    অঙ্কন: নির্মলেন্দু মণ্ডল

     

You may like