প্রবন্ধ

হিগ্স্-যজ্ঞের ভারতীয় পুরোহিত

বিকাশ সিংহ

  • সার্ন-এ ভারতীয় বিজ্ঞানীদলের যোগ্যতা আর প্রমাণের অপেক্ষায় নেই। ভারত আজ এল এইচ সিতে ভালভাবে জমিয়ে বসেছে।

     

    পিছনে ফিরে ভাবলে এই যোগাযোগে আমি বেশ কৌতুক বোধ করি যে, উনিশশো চৌষট্টিতে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান পড়ব বলে আমি যখন ইউরোপে পাড়ি দিলাম ঠিক সেই সময়েই ইউরোপে, বিশেষত ইংল্যান্ডে এবং বেলজিয়ামে, তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় একটা ঝড় উঠল। সেই ঝড়ের একটি পরিণতি হল গতবারের নোবেল পুরস্কার, পদার্থবিদ্যায়। তাতেও শেষ নয়, এর জের এখনও চলছে।

    কী ঘটেছিল সে বছর? সে বছর ২৬ জুন তারিখে ফ্রাঁসোয়া এংলের এবং রবার্ট ব্রাউট, ফিজিকাল রিভিউ লেটার্স-এ একটি মৌলিক গবেষণাপত্র পাঠিয়েছিলেন, ‘ব্রোকেন সিমেট্রি অ্যান্ড দ্য মাস অফ গেজ ভেক্টর মেসনস’। দু’মাস বাদে সেটা যেদিন ছাপা হয়ে বেরল, ঠিক সেইদিন, ৩১ আগস্ট ১৯৬৪, ওই পত্রিকাতেই এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটার হিগ্স্ একাই একটি গবেষণাপত্র পাঠালেন: ‘ব্রোকেন সিমেট্রিজ় অ্যান্ড দ্য মাসেস অফ দ্য গেজ বোসনস’। লক্ষ করুন মেসন থেকে বোসন কথাটি এসে গেছে, এবং ভেক্টর, যেটি কিনা দিক চিনিয়ে দেয়, সেই কথাটি নেই। দুই গবেষণাপত্রেই প্রতিসাম্য (সিমেট্রিজ) ভাঙার ব্যাপারটিকে নিয়েই আলোচনা রয়েছে। সেটা ছাপা হল ১৯ অক্টোবর তারিখে। ওদিকে, ১২ অক্টোবর ১৯৬৪তে, লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজের তিনজন, জেরাল্ড গুরালনিক, কার্ল হ্যাগেন এবং টম কিব্ল্, ওই ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স-এই পাঠালেন একটি মৌলিক গবেষণাপত্র, ‘গ্লোবাল কনজ়ারভেশন লজ় অ্যান্ড মাসলেস পার্টিকলস’। সেটা প্রকাশিত হয়েছিল ১৬ নভেম্বর তারিখে। আপাতদৃষ্টিতে ওই বছর আগস্ট থেকে নভেম্বর অবধি তিনটি প্রবন্ধ প্রকাশের মতো অতি নিরীহ ঘটনা। কিন্তু তাতেই পদার্থবিদ্যার মৌলিক গবেষণার জগতে যেন একটা টরনেডো এসে নামল। ঝড়ের আহ্বায়কদের একজন, পিটার হিগ্স্ লন্ডনে কিংস কলেজের ছাত্র, আমি সেখানে বেশ কয়েক বছর কাটিয়েছি। আর টম কিব্ল্-এর বাবা মাদ্রাজে এক মিশনারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। টম আমার বিশেষ বন্ধু, ওর জন্ম মাদ্রাজে।

    প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে এংলের এবং হিগ্স্ নোবেল পুরস্কার পেলেন। এই সময়ের মধ্যে পদার্থবিদ্যায় পরীক্ষানিরীক্ষার আধুনিক যন্ত্রপাতি, যেমন অ্যাকসিলারেটরের চেহারা এবং দক্ষতার অভূতপূর্ব ও আমূল পরিবর্তন হয়েছে। পিটার হিগ্স্-এর গবেষণাপত্রের লেখক তিনিই একা। আজকের সার্ন-এর লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার-এর যে মূল দু’টি ডিটেক্টরে হিগ্স্ বোসন ধরা পড়েছে, সেই অ্যাটলাস বা সি এম এস-এর কর্মীদের সংখ্যা কম করেও প্রায় এক হাজার। আবিষ্কারের নেপথ্যে সামাজিক গঠনটাও ১৯৬৪ সালের পরিপ্রেক্ষিতে চিনতে পারা কঠিন হবে।

    মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ এবং ইদানীং কলকাতার সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এর বিজ্ঞানীরা হিগ্স্ বোসনের খোঁজে  সি এম এস-এ কাজ করছেন। কলকাতার ভ্যারিয়েব্ল্ এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টার (ভি ই সি সি) এবং সাহা ইনস্টিটিউট-এর বিজ্ঞানীদল আর একটি বড় ডিটেক্টর অ্যালিস-এ অনেকদিন হল কাজে নিযুক্ত আছেন। বলা যেতে পারে, এই অ্যালিস-ই ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির আদিমুহূর্তটিকে ধরে রেখেছে। দু’টি নিউক্লিয়াসের সংঘর্ষের ফলে তৈরি হচ্ছে সৃষ্টির সেই আদিম মুহূর্ত। বিগ ব্যাং-এর এক সেকেন্ডের এক লক্ষ ভাগ পরে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যে রূপ ছিল তারই অন্বেষণ এর মূল লক্ষ্য।

    ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই হিগ্স্ বলক্ষেত্র বিরাজ করতে থাকে। তখনও ভর তৈরি হয়নি। কিন্তু শক্তি অকল্পনীয়। যে-মুহূর্তটিকে নিয়ে আমরা গবেষণা করছি অ্যালিস ডিটেক্টরকে কাজে লাগিয়ে, সেই মুহূর্তের একটু আগেই মৌলিক কণাগুলির ভর তৈরি হয়েছে হিগ্স পদ্ধতিতে, সে নিজেই বলক্ষেত্রের মাধ্যমে নিজের ভর সৃষ্টি করছে, এইটাই হিগ্স্ বোসনের বৈশিষ্ট্য। হিগ্স্ বোসন খুবই ক্ষণস্থায়ী। এতটাই যে, বোসনটি যখন মরণকালে ধরা যাক, দু’টি আলোর কণায় বিলীন হয়ে যায়, যা শনাক্ত করে আমরা হিগ্স্ বোসনের অস্তিত্ব টের পাব, তা কোনও ডিটেক্টরে ধরা খুব  কঠিন কাজ। সেইজন্যই ১৯৬৪ সাল থেকে এতদিন সময় লাগল। বোসনটি কিন্তু ভারি, প্রোটনের তুলনায় প্রায় ১২৫ গুণ। এই হিগ্স্ বলক্ষেত্র বিশ্বদুনিয়ার সব কোণে কোণে ব্যাপ্ত। এক মায়াজাল যেন, বিশ্বব্যাপী।

    মৌলিক কণার ভর কোথা থেকে এল এই প্রশ্ন মানুষকে ভাবিয়েছে সুদূর অতীত থেকে, অন্তত নিউটনের সময় থেকে। নিউটন মাধ্যাকর্ষণের তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু ভর কোথা থেকে এল সে সম্বন্ধে কোনও আলোকপাতই করতে এগিয়ে আসেননি। স্বয়ং আইনস্টাইনও প্রশ্নটা এড়িয়ে গেছেন। ১৯৬৪ সালে যখন এই মহা প্রশ্ন আবিষ্কারের দরজায় অবিশ্রাম আঘাত করছে তখনই চার মাসের মধ্যে প্রলয়। এই আবিষ্কারের পরেই পদার্থবিদ্যার জগতে যে কী ধরনের আলোড়ন ঘটেছিল, সেটা বোঝা যাবে পরবর্তী প্রায় পাঁচ দশক ধরে হিগ্স্ বোসন আবিষ্কারের জন্য মানুষের মরিয়া চেষ্টা দেখে। হাজার লোকের অক্লান্ত পরিশ্রম আছে এর পিছনে - আর তা শুধু এল এইচ সি তৈরি করা নিয়েই নয়, মরিয়া হয়ে হিগ্স্ বোসনকে খুঁজে বেড়ানো এবং পরে আবিষ্কার, কোনও কিছুই এক লহমায় ঘটেনি। শুধু মেধা এর জন্য যথেষ্ট ছিল না, তার সঙ্গে আছে একটানা গভীর ক্লান্তিহীন নিষ্ঠা।

    প্রায় ১৫ বছর লেগেছে এল এইচ সি তৈরি করতে- সার্ন-এর মতো জায়গায়, যেখানে দেশবিদেশের চোখা চোখা বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার গিজ গিজ করছে। সব মিলিয়ে খরচা হয়েছে দু’হাজার কোটি ডলার। এই খরচের ভার সারা পৃথিবীর দেশগুলি নিয়েছে। ভারতও নিয়েছে সামান্য খরচের বোঝা, কিন্তু বেশিরভাগই এসেছে ইউরোপের দেশগুলি থেকে। এক-একটি প্রোটন এল এইচ সি-র ওই ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বৃত্তাকার টানেলের চারিদিকে বাঁই বাঁই করে ঘুরছে। এক সেকেন্ডে ১১ হাজার বার পাক খাচ্ছে। বলা যায়, এল এইচ সি কারিগরি বিদ্যার শেষ সোপান। এর ভেতর তৈরি হয়েছে ব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে ঠান্ডা জায়গা। আবার এখানেই দু’টি নিউক্লিয়াসের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে যে-তাপমাত্রা উদ্ভূত হচ্ছে তা সূর্যের গভীরের তাপমাত্রার তুলনায় এক লক্ষ গুণ বেশি। এই অদ্ভুত বৈচিত্রের সাহায্য নিয়েই সৃষ্টির গভীরে থাকা বিচিত্র রহস্য অ্যালিস ডিটেক্টরে ধরা পড়েছে। তবে সৃষ্টির রূপ তো এক ঝলকে বোঝা যাবে না। আমরা দেখছি। বেশ কিছুদিন ধরেই দেখব।

    ভারতের গবেষণাকেন্দ্রগুলির সার্ন-এর সঙ্গে একজোটে কাজ করা নতুন কিছু নয়। কম করে হলেও প্রায় তিরিশ বছর আগে এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। প্রথমত টাটা ইনস্টিটিউটের দু’-একজনকে নিয়ে এবং বিশেষত প্রিন্স ম্যালহোত্রার মতো অধ্যাপকের উত্‌সাহে ও চেষ্টায়। আমাদের কলকাতায় সার্ন-এর সঙ্গে কাজ শুরু হয় ১৯৮৪ সালের মাথায়, কলকাতার ভি ই সি সি-তে। দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা দু’টি নিউক্লিয়াস যখন পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তখন তাপমাত্রা এত বেশি উঠে যায় (আগেই বলেছি, সূর্যের গভীরের তাপমাত্রার এক লক্ষ গুণ) যে, নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে যে প্রোটন-নিউট্রন বাসা বেঁধেছে সেগুলি গলতে আরম্ভ করে, আর নিউট্রন আর প্রোটনের ভেতরে যে কোয়ার্ক বিরাজ করছে, যারা কিনা গ্লুয়োন দিয়ে আবদ্ধ, তারা বেরিয়ে আসে। এই তরল পদার্থের নাম কোয়ার্ক গ্লুয়োন প্লাজমা। ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির পরেই এক সেকেন্ডের এক লক্ষ ভাগ সময়ে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এই কোয়ার্ক গ্লুয়োন প্লাজমা দিয়েই তৈরি ছিল। এইটেই এই গবেষণার মাধুর্য। অ্যালিস-এ সৃষ্টি হচ্ছে এক-একটা খুদে ব্রহ্মাণ্ড।

    ১৯৮৪ থেকে ’৮৯ সালের মধ্যে আমাদের গবেষকের দল সংখ্যায় মোটামুটি ভারি হল, সার্ন-এ যাতায়াতও বাড়তে থাকল। ফলে প্রাথমিক মোহ কাটিয়ে প্রচণ্ড নিষ্ঠার সঙ্গে আমরা কাজে নেমে পড়ি। কলকাতা-কেন্দ্রিক একটি বৈজ্ঞানিক দল হিসেবে পৃথিবীর দরবারে প্রতিষ্ঠিত হতে প্রথম দিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। বিশ্বের গবেষণাকেন্দ্রগুলি সচরাচর ভারতের বিজ্ঞানী বলতে কয়েকজন বিশেষ উঁচু মাপের বিজ্ঞানীকে চিনত। কিন্তু গবেষণাকর্মী হিসেবে একটা পুরো দল, ভারতীয় দল, এই ব্যাপারটা বিদেশিদের মাথায় ঢোকানো খুব একটা সোজা কাজ ছিল না। বিদেশিদের আর-একটা ধারণা ছিল যে, ভারতীয়রা যতই উঁচুমাপের বিজ্ঞানী হোক না কেন, হরে দরে গরিব দুঃস্থ দেশের নাগরিক; তারা আমাদের কাছে এসে কাজ করবে, আমরা সামান্য মাসিক বেতন দেব বটে, কিন্তু আমরা যা বলব তাই ওদেরকে গুছিয়ে করতে হবে।

    অনেকদিন বিদেশে থাকার দরুন বর্তমান লেখকের কাছে এই ধরনের অভিজ্ঞতা খুব বিরল নয়। ব্যাপারটি হৃদয়ঙ্গম করার পর থেকে মনের মধ্যে একটা চাপা রাগ জন্ম নিল। শেষে একেবারে সর্বোচ্চ স্তরে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের শরণাপন্ন হয়ে লাভ হল। ভারতের ইতিহাসে সেই প্রথম আমাদের বিজ্ঞানী দলের ছেলেমেয়েদের বিদেশিদের কাছে আর হাত পাততে হল না। হয়নি আজ পর্যন্ত। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এই নতুন পদ্ধতি গোটা ভারতের পক্ষেই এক গৌরবের মালা। স্বাধীন ভারতে অতীতের ভিখিরিবৃত্তি মোটেই বরদাস্ত করা যায় না। আজ ভারত যে ভালভাবে এল এইচ সিতে জমিয়ে বসেছে এটা খুবই আনন্দের কথা।

    হিগ্স্ বোসন আবিষ্কার হওয়ার পরে অজস্র সম্ভাবনা, বহু প্রশ্ন এসে ভিড় করছে। আমরা এখন জানি যে, ব্রহ্মাণ্ডের এক চতুর্থাংশ ভরই ‘অন্ধকার জগতের’ বাসিন্দা। মানে সেই ভরের সঙ্গে জড়িত পদার্থ আমাদের চেনাজানা জগতের পদার্থে গড়া নয়। তাকে আমরা কোনওদিনই দেখতে পাব না। প্রশ্ন হল, সেখানে হিগ্স্ বোসন কী করছে, বা কী কলকাঠি নাড়ছে? আলোক-জগতের হিগ্স্ বোসন আবিষ্কার করা হয়েছে, অন্ধকার জগতেও তো হিগ্স্ বোসন থাকতে পারে, তারও যথেষ্ট ভর রয়েছে। কিন্তু সে জগতের হিগ্স্ তো ‘কালো’, অন্ধকারের বোসন। কিন্তু স্মরণ করুন- কালো তা সে যতই কালো হোক দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ। হরিণ চোখের সঙ্গে আলোর জগতের চোখ কি মিলতে পারে না! হিগ্স্ বোসন নিয়ে চর্চার মাধ্যমেই অন্ধকার জগতের সঙ্গে যোগাযোগ করার এক বিরল রাস্তা আবিষ্কার হতে চলেছে।

    প্রায়োগিক দিকেও এই আবিষ্কারের পর অবশ্যই এক নতুন অধ্যায় আসবে। প্রায়ই বিতর্ক ওঠে, দৈনন্দিন জীবনে এই সব আবিষ্কার কী কাজে লাগবে! অনর্থক অকেজো জ্ঞানের পিছনে অগাধ পয়সা নষ্ট। একেবারেই নয়। অত্যাধুনিক কম্পিউটার, সুপারকনডাক্টিভিটির প্রযুক্তি এবং সবচেয়ে বড় খবর গ্রিড কম্পিউটিং, যেটা কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আর-এক প্রান্তে মুহূর্তের মধ্যে এল এইচ সি থেকে বেরিয়ে আসা সমুদ্রপ্রমাণ পরীক্ষালব্ধ তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, কলকাতায় ও মুম্বইতেও। সেসব তথ্য হজম করা নিয়ে পৃথিবীময় বিরাট কর্মযজ্ঞ চলছে রাতদিন সাতদিন। গ্রিড কম্পিউটিং সাধারণ জগতে যখন ঢুকবে তখন ইন্টারনেটকে মনে হবে খেলার পুতুল। এর দয়ায় দূরসংযোগ জগতের গতিতে এবং কর্মদক্ষতায় এক অভূতপূর্ব আলোড়ন ঘটতে চলেছে। www বা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব-ও এই সার্ন-এই আবিষ্কার হয়েছিল।

    মানুষ জানতে চায়। সভ্যতার আদি মুহূর্ত থেকেই এই তার প্রবৃত্তি। সৃষ্টির মায়াজালে টুকি দিতে সে ভালবাসে। শুধু ভালই বাসে না, এ কাজ না করলে প্রাণে তার শক্তিও থাকে না। আবিষ্কারের অদম্য তৃষ্ণা কোনওদিনই তৃপ্ত হবে না, আর তৃপ্ত হবে না বলেই সভ্যতা যতই বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে চলুক না কেন, ওই অতৃপ্তিই সভ্যতাকে সে সব থেকে মুক্ত করে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপর্যাপ্ত শূন্যতায় প্রাণের আলোর ইন্ধন জোগাবে।

    অঙ্কন: সুব্রত চৌধুরী