গ্রন্থলোক

পক্ষ পাঠ

  • ভবের শুক্তি ভেঙে: প্রবন্ধ সংকলন

    স্বামী সুপর্ণানন্দ

    কমলিনী । কল-৭৩

    ৫৫০.০০

    ||||||||||||||||||||||||||||||||||

     

    জীবনের গভীরতা ছুঁয়ে

     

    গ্রন্থশিরোনামে ‘প্রবন্ধ সংকলন’ কথাটি রয়েছে, এই সংকলনের বিষয়বৈচিত্র ছুঁয়ে গিয়েছে তথ্য, জ্ঞান, ভাবনার প্রায় সবক’টি বিভাগ। তবে স্বামী সুপর্ণানন্দের লেখায় নিহিত থাকে যে-মূল সুরটি, সেখানে ত্যাগ, মনের প্রসারণ, মোহমুক্তভাবে বেঁচে থাকাই প্রাধান্য পায়। স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি লেখা হয়ে ওঠে ‘মেসেজ’ধর্মী, নীতিশিক্ষামূলক। অর্থাত্‌ সেই উন্নত জীবনে কীভাবে পৌঁছনো যায়, তার কিছু ইঙ্গিত যেন দিতে চান লেখক। এখানেও রয়েছে বৈচিত্র। গ্রন্থের সারমর্ম, পত্রিকায় পঠিত কোনও নিবন্ধ সহজ রম্য বাংলায় পেশ করা হয়েছে। এভাবেই কথামৃত, পাওলো কোয়েলো, রবিন শর্মা, রাসকিন বন্ড, রিডার্স ডাইজেস্ট, উপনিষদ, স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য, মা সারদা মিলেমিশে যায় সহজেই। কোনও প্রবন্ধে রয়েছে ‘দি অ্যালকেমিস্ট’, ‘দ্য মঙ্ক হু সোল্ড হিজ় ফেরারি’ ইত্যাদি গ্রন্থের সারসংক্ষেপ, কোথাও লেখক কথোপকথনের ঢঙে আলোচনা করেছেন ‘যত মত তত পথ’, কুষ্ঠ রোগের প্রতিকার, পাতিব্রত্যের সেকাল-একাল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে লেখা প্রবন্ধও সংকলিত হয়েছে গ্রন্থে, তাতে দুই মলাটের মধ্যে একজন ব্যক্তির নানা সত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। কত ধরনের বিষয় নিয়ে যে লিখতে হয়েছে স্বামী সুপর্ণানন্দকে, কেবলমাত্র শিরোনামগুলিতে চোখ বোলালেই তার আন্দাজ পাওয়া যায়- ‘মঙ্গলগ্রহ অভিযান’, ‘বিজ্ঞানশীর্ষ আইনস্টাইন: জীবন ও সাধনা’, ‘শ্রীরামকৃষ্ণের ব্রাহ্মপ্রীতি’, ‘শ্রীশ্রীগীতার প্রেক্ষাপট’, ‘Nobel Prize নিয়ে দু-চার কথা’, ‘আমাদের রাষ্ট্রপতি’... তালিকা বাড়িয়ে তোলা যায় আরও অনেকখানি। সংকলিত প্রবন্ধের সংখ্যা ৭৮। তবে

    প্রবন্ধগুলির তর-তম প্রকট। যদিও পাঠশেষে সামগ্রিক যে-বোধটি জাগে, তা বিবেকানন্দের ভাষায়, ‘Each soul is Potentially Divine’। এই বাণীই মানুষকে দেবত্বে উন্নীত করতে পারে।

    ..................................................................................................................................

    চিত্রিত রবীন্দ্রজীবন

    রবীন্দ্রনাথ টেগোর: অ্যান ইলাস্ট্রেটেড লাইফ

    উমা দাশগুপ্ত

    অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস । নয়াদিল্লি-০১

    ২৫০.০০

    |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||

    গ্রন্থটির নামে একটি সুন্দর ‘Pun’ আছে। সেটি ইচ্ছাকৃত প্রয়োগ হতেও পারে, নাও হতে পারে। পৃষ্ঠপ্রচ্ছদে লেখা রয়েছে রবীন্দ্রনাথের এই জীবনীটি ‘Profusely illustrated with rare photographs’। দাবিটি যথার্থ। প্রায় পাতায়-পাতায় রয়েছে আলোকচিত্রে রবীন্দ্রনাথের জীবনের নানা পর্যায়। এবং শুধু রবীন্দ্রনাথের ছবি নয়, আছে কবির পরিবার ও পরিচিতজনের ছবিও। সবক’টি সাদা-কালো আলোকচিত্র হয়তো সে অর্থে ‘রেয়ার’ নয়, কিন্তু সাধারণ পাঠক ও রবীন্দ্র-গুণগ্রাহীর কাছে দুই মলাটের ভিতর এই সব ছবি (তত্‌সহ সেসব ছবি-সংক্রান্ত তথ্য) পাওয়াটা এক আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা অবশ্যই।

    অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘজীবন যে ‘ইলাস্ট্রেটেড’, তা সন্দেহাতীত। গ্রন্থের এক-একটি অধ্যায় শিরোনামই বলে দেয় এ কতটা ‘অলংকৃত’ এক জীবনের আখ্যান‘বিকামিং আ পোয়েট অ্যান্ড আ রাইটার’, ‘বিকামিং আ হিউম্যানিস্ট’, ‘ফ্রম স্কুল টু অ্যান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’, ‘রবীন্দ্রনাথ অ্যাজ় পেন্টার’ ইত্যাদি। ইংরেজিতে এ যাবত্‌ রবীন্দ্রনাথের একাধিক জীবনী লেখা হয়েছে। আলোচ্য গ্রন্থটি ব্যতীত উমা দাশগুপ্তর লেখা আর-একটি রবীন্দ্রজীবনী আছে (রবীন্দ্রনাথ টেগোর: আ বায়োগ্রাফি, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৪)।

    বর্তমান রবীন্দ্রজীবনীটি রবীন্দ্রনাথের জীবন সম্পর্কে এক সহজ প্রবেশিকার ভূমিকা নিতে পারে। রবীন্দ্র-সাহিত্য ও রবীন্দ্র-সৃজনের যে-অপার বৈচিত্র, তা এ গ্রন্থে উঠে এসেছে সাবলীল ভাষায়। তবে আলোকচিত্রের পরিচিতিগুলি আরও-একটু বিশদ হলে ভাল হত। যেমন, পৃষ্ঠা ১২১-এ যে-চিত্রটি রয়েছে, তার পরিচিতি, ‘রবীন্দ্রনাথ ইন জাপান, ১৯২৪’। কবির বাঁ দিকে দাড়িয়ে আছেন মিরা রিশার ও তাঁর স্বামী পল রিশার। তাঁদের কোনও পরিচিতি দেওয়া নেই! মিরা রিশার ভবিষ্যতের ‘দ্য মাদার’ বা শ্রীমা। এ তথ্যটি থাকা উচিত ছিল।