Short Story

শিমুলগাছির গাজনতলা

উত্পল কুমার দত্ত

প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বাস জার্নির পর মাধব যখন শিমুলগাছির বাস স্ট্যান্ডে এসে নামল, তখন বেলা তেমন বেশি না হলেও, রোদ বেশ চড়ে গিয়েছে। এসব লাইনের বাসে সবসময় ব্যাপারিদের আনাগোনার জন্য ভিড় হয়ে থাকে। গরমে গায়ের জামাটা মাধবের একেবারে ভিজে জবজবে হয়ে গিয়েছে। তা হোক। সামনের ওই চায়ের দোকানের কাঠের বেঞ্চিটায় বসে খানিক জিরেন দিয়ে নিলেই আবার সব ঠিক হয়ে যাবে। এখান থেকে আর মাত্র দেড় কিলোমিটার হাঁটা দিতে পারলেই একেবারে সোজা শিমুলগাছির গাজনতলায় পৌঁছে যাবে মাধব। তখন একেবারে নিশ্চিন্ত। জীবনের মতো নিশ্চিন্ত।

ওই গাজনতলার থানে আজ দিনকয়েক হল এক সাধুবাবা নাকি এসে গেঁড়ে বসেছেন। হাটে-বাজারে, চলার পথে সকলের মুখে শুধু তাঁরই আশ্চর্য সব কাণ্ডকারখানার কথা শোনা যাচ্ছে। এই তো পরশুদিন, পঞ্চাননকাকার মুদির দোকানে বসে গনাদা বলছিল যে, এ বাবা নাকি যে সে বাবা নন। উনি এক শিশি পেচ্ছাপ করে দিয়ে নিমেষে তাকে মন্ত্র পড়ে সুগন্ধি নারকেল তেল বানিয়ে দেন। গনাদার বাড়ির মেয়েরা নাকি মাথায় সে তেল মেখেও দেখেছে। আর শুধু তা-ই নয়, ক’দিন আগেই নাকি বাবা সকলের সামনেই, পিছনের কাপড় তুলে ঘাসের ওপর খানিকটা হেগে, সেটাকে সুজির হালুয়া বানিয়ে দিয়ে সকলকে যাকে বলে একেবারে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

‘তুমি সে হালুয়া খেয়ে দেখেছিলে গনাদা?’ থাকতে না পেরে প্রশ্নটা করেই ফেলেছিল মাধব।

‘খাব না? সবাই ভক্তিভরে খাচ্ছে, আমিও তাই দু’আঙুলে একটুখানি তুলে নিয়ে খেয়ে দেখলুম বই কী!’

মাধবের গা-টা কেমন ঘিনঘিন করে উঠলেও মনে মনে সে নিজের কান দুটো জোরে মলে দিল। অচ্ছেদ্দা করলে যদি পাপ হয়! মাধব বড্ড ভয় পায়। যদি বাবা বুঝতে পেরে শাপতাপ কিছু একটা দিয়ে ফেলেন!

গনাদা আরও বলছিল সেদিন, ‘বাবা হলেন গিয়ে বাক্সিদ্ধ পুরুষ। যা চাইবে প্রাণভরে, তা যদি তিনি মুখ ফুটে একবার হাঁ বলেছেন, সে কথা নিঘ্ঘ


TO READ THE REST OF THIS PIECE, SUBSCRIBE NOW