Home >> Story >> ইঁদুর

Short Story

ইঁদুর

সায়ন্তনী ভট্টাচার্য

আটার গোলাটা মুখে দিতেই ইঁদুরটা বুঝতে পারল, ও ফাঁদে পড়ে গেছে। স্বাদটা অদ্ভুত, মিষ্টি মিষ্টি, কেমন একটা ঝিমঝিম গন্ধ। ইঁদুরের মাথাটা ঘুরে গেল। অনেকদিন ধরে খাঁচাটা পাতা। রাতে রোজই খাবার টুকরো ছড়ানো থাকে। সব বোঝে ইঁদুরটা, কিছুতেই খাবার টুকরোগুলোতে মুখ দেয় না। জানে, খাবারে বিষ দেওয়া, খেলে অবধারিত মৃত্যু। আর যদি একবার খাঁচায় গিয়ে ঢোকে, তাহলে আর দেখতে হবে না... সব ব্যবস্থাই করে রেখেছে। বাঁচার উপায়ই নেই। কিন্তু আজ যে কী হল! লোভটা সামলানো গেল না। ইঁদুর গলা দিয়ে আফসোসের শব্দ করল। জেনেশুনে ভুল করলে ভগবান ক্ষমা করেন না। সুতরাং মৃত্যু আসন্ন। মরে যাবে বুঝতে পেরে ইঁদুরের একটু দুঃখ দুঃখ হল। গলা শুকিয়ে আসছে, বিষ কাজ করতে শুরু করছে। বাড়ির বাইরে ছুটে চলে যাবে? প্রাণটা কেমন জল জল করছে। উফ্! ইঁদুরের পা টলমল করে উঠল। এখন মাঝরাত। সামনের খাটে দু’জন শোওয়া। ইঁদুর ভাবল, মরে তো যাবই, তার আগে আমার এই দাঁত দুটো দিয়ে ওদের মরণ কামড় দিই। ইঁদুর কোনওরকমে বিছানার দিকে এগোল।

গোলাপিবালা দাসী ফুলের বস্তাটা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। রাত তিনটে। স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছতে হবে। তারপর শিয়ালদার ট্রেনে দমদম নেমে আবার ডানকুনির ট্রেন ধরবে। নামবে রাজচন্দ্রপুর। বাড়ি বাড়ি ঘুরে মালা বিক্রি করবে। খরিদ্দার সব বাঁধা। বনগাঁর ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধে গড়াবে। ফিরে চোখে-মুখে জল দিয়ে একথালা ভাত খাবে গোলাপিবালা। তারপর ঘুম। ঘুম থেকে উঠতে উঠতে রাত বারোটা। উঠে দু’ঘণ্টা মালা গাঁথবে। ফের বেরিয়ে পড়বে রাত দুটোয়। আজ তিরিশ বছর ধরে গোলাপিবালার এটাই রুটিন। নাম-টাম মুছে ও এখন শুধুই ফুলমাসি।

অন্ধকারে তাড়াতাড়ি পা চালাচ্ছিল গোলাপি। কপালে চন্দনের তিলক, গলায় কণ্ঠি, আটপৌরে করে পরা ছাপা শাড়ি, ফুলভর্তি ঢাউস বস্তা নিয়ে জল-কাদা বাঁচিয়ে হাঁটছে। একটু আগে একপশলা বৃষ্টি


TO READ THE REST OF THIS PIECE, SUBSCRIBE NOW

You may like