পরিচয়

আমাদের কথা

  • পরিবর্তন প্রকৃতির সবথেকে স্থায়ী নিয়ম। সময়ের সঙ্গে বাড়ছে পরিবর্তনের গতি, আরও দ্রুত বদলে যাচ্ছে আমাদের চারপাশ-আমাদের সমাজ, আমাদের ঘর, আমাদের মন। ‘দেশ’ পত্রিকাও এই বদলের সাক্ষী। বিগত আশি বছর ধরে দেশ (প্রথম প্রকাশ ২৪ নভেম্বর ১৯৩৩) গড়ে তুলেছে বাঙালির মনন, একই সঙ্গে আত্মস্থ করেছে যুগের পরিবর্তনকে। প্রথমে সাপ্তাহিক (নভেম্বর ১৯৩৩ - অক্টোবর ১৯৯২) এবং তার পর থেকে পাক্ষিক এই পত্রিকার পাতায় পাতায় ধরা আছে সাহিত্য শিল্প বিজ্ঞান দর্শনের নানা রূপান্তরের চিহ্ন।

    আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস অনেকটাই দেশ পত্রিকার ইতিহাস। সাহিত্যের বিভিন্ন পর্বে এখানে লিখেছেন এবং লিখছেন বাংলার শ্রেষ্ঠ ও প্রবাদপ্রতিম লেখক-লেখিকা। আর রয়েছেন একালের তরুণ থেকে তরুণতর প্রজন্মের লেখক-কবিরা। প্রতি পর্বে এঁরাই এই পত্রিকার প্রধান সম্পদ। আর বড় সম্পদ রুচিবান পাঠককুল। লেখক ও পাঠক একই সঙ্গে দেশ-এ এসে মিলেছেন। এই দুই সম্পদের অহঙ্কার নিয়েই এই পত্রিকা তার একাশিতম বর্ষের সূচনালগ্নে এসে পৌঁছেছে।

    এই মহূর্তে দেশ-এর বড় সম্পদ ‘মন্তব্য’ বিভাগটি। সমসাময়িক সংবাদভিত্তিক ঘটনার বিশ্লেষণ এর মূল উপজীব্য। রাজনীতি, অর্থনীতি, বহির্বিশ্ব, সমাজ, বিজ্ঞান, জীবনযাত্রা, রাজ্য, প্রশাসন, সাহিত্য, শিক্ষা, খেলা, বাণিজ্য, বিপণন প্রভৃতি নানা বিষয়ের সংক্ষিপ্ত অথচ সূচিভেদ্য, মননধর্মী আলোচনায় ভরে থাকে ‘মন্তব্য’ বিভাগের পাতাগুলি।

    সম্পাদকের উদ্দেশে পাঠকদের চিঠি দেশ-এর গর্ব। পাঠক এই পত্রিকাকে কতদূর ভালবাসেন, কতদূর আপন করে নিয়েছেন, কতদূর নিজের পত্রিকা বলে ভাবেন তার প্রমাণ চিঠিপত্র। পাঠকের জ্ঞানের পরিধি ও চিন্তাভাবনার ঐশ্বর্য বহন করে এই বিভাগ।

    দেশ পত্রিকার পৃষ্ঠপোষণায় লালিত হয়েছে বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্র। তিরিশের দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত রচিত, বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিগুলির একটা বড় অংশ প্রকাশিত হচ্ছে দেশ-এর পাতায়। বাংলার সেরা ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, কবি এবং প্রাবন্ধিক প্রত্যেকে তাঁদের শ্রেষ্ঠ রচনাগুলি এখানেই প্রকাশের জন্যে দিয়েছেন এবং আজও সেই ধারার ব্যতিক্রম হয়নি।

    দেশ-এর অন্যতম সম্পদ গ্রন্থলোক বিভাগ। এখানে শুধু বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বই নয়, ইংরাজি ও অন্যান্য প্রধান ইউরোপীয় ভাষায় রচিত বইয়ের সমালোচনা প্রকাশিত হয়। আলোচনা করেন দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট গুণিজন। এখানে প্রকাশিত হয় সমসাময়িক শিল্পকলা এবং সংস্কৃতিজগতের তরতাজা আলোচনা। ভ্রমণ-রসিক বাঙালির জন্য থাকে ভুবন জুড়ে ভ্রমণের নানা কাহিনি। বিজ্ঞান ভাবনার প্রসারেও দেশ সবসময় সচেষ্ট। খ্যাতনামা বাঙালি বিজ্ঞানী এবং প্রখ্যাত বিজ্ঞান লেখকরা নিয়মিত লেখেন এই পত্রিকায়।

    আশিটি বসন্ত পার করেও দেশ চিরনবীন। দ্রুত বদলাতে থাকা পরিপার্শ্বকে সে আত্মস্থ করেছে স্বকীয় ভঙ্গিতে। সেই বদলের ছবিই ধরা থাকছে নতুন বিভাগ আড্ডা-য়। তরুণ প্রজন্মের কথায়, তাদের ভাবনায়, একান্ত আলাপচারিতায় উঠে আসছে এই সময়ের প্রতিচ্ছবি, যার সাক্ষী থাকছে দেশ। এছাড়াও আছে নামমাত্র এবং শেষকথা।

    গত ২০০৩ থেকে দেশ-এর অঙ্গসজ্জা ও বিষয়বস্তুর সময়োচিত পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। দেশ এখন সম্পূর্ণ রঙিন। এর প্রতিটি সংখ্যার প্রচ্ছদ শিল্পসমৃদ্ধ এবং পাঠকদের কাছে উপভোগ্য। এর অঙ্গসজ্জা আরও আকর্ষণীয়, আরও দৃষ্টিনন্দন। ভাল অঙ্গসজ্জার প্রধান বৈশিষ্ট্য, পাঠককে রচনার মধ্য দিয়ে অনায়াসে চালিত করা।

    পাঠকের সঙ্গে আমাদের সেই নিবিড় সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলতেই দেশ এবার ই-বিশ্বে। দেশ ওয়েবসাইট, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে-থাকা চিন্তাশীল পাঠকের কথা ভেবে। শুধু বাঙালি নয়, শুধু বাংলাভাষী নয়, দ্রুতগতির জীবনছন্দে পা মেলানো সব পাঠককেই আপন করে নিতে এই প্রয়াস। দেশ ওয়েবসাইট-এ আপনাদের স্বাগত।