চিঠিপত্র

কোন স্মৃতিচারণাটি ঠিক?

  • ‘যূথিকা রায়’ শীর্ষক প্রয়াণলেখ (শিল্পসংস্কৃতি, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪) সম্পর্কে এই পত্রের অবতারণা। চন্দন বসু রায় লিখেছেন, ‘... কাছে গিয়ে প্রণাম করতেই মাথায় দু’হাত রেখে আশীর্বাদ করে লিখে জানাতে শুরু করলেন একের পর এক প্রিয় গানগুলি। ... যূথিকার জীবন সেদিন ধন্য হয়ে গিয়েছিল।’

    যূথিকা রায় তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আজও মনে পড়ে’-তে লিখছেন, ‘কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা যখন বেলেঘাটার বাড়ির গেটের সামনে পৌঁছলাম তখন শুনলাম বাপুজি তাঁর প্রাতঃভ্রমণ শেষ করে বাসায় ফিরে এসেছেন। ... আভা জানাল যে বাপুজির এক মিনিটও সময় নেই, কিন্তু আমার ভজন শোনবার জন্য উত্‌সুক, তাই ঠিক করেছেন, পাশের ঘরে যখন তিনি স্নান করবেন, তখন আমি এই ঘর থেকে পরপর বাপুজির প্রিয় ভজনগুলো যেন গেয়ে শোনাই। বাপুজি পাশের ঘরে চলে গেলেন, আমি খালি গলায় কোনও যন্ত্রের সাহায্য না নিয়ে একের পর এক ভজন শুনিয়ে গেলাম। ভজনগুলি ছিল- ‘ঘুঁঘ্যট্কা প্যট্ খোলরে, তোহে পিয়া মিলেঙ্গে’ (কবীর ভজন), ‘ম্যয়তো ওয়ারী যাউঁ রাম’ (মীরাভজন), ‘প্যারে দরশনঃ দিজো আয়’ (মীরাভজন), ‘স্থানে চাক্যর রাখোজি’ (মীরাভজন), ‘অব ম্যয় আপ্যনে রাম রিঝাউঁ’ (কবীর ভজন), ‘প্রভু লিজো মেরা পরণাম’ (ভজন) ইত্যাদি।’ লেখক ‘ঘুঙ্ঘটকে পট খোঁলু’, ‘তুঝে পিয়া মিলেঙ্গে’ এই দু’টিকে আলাদা গান বলেছেন, কিন্তু আসলে এটি একটিই গান।  

    যূথিকা আরও লিখছেন, ‘স্নান শেষ করে বাপুজি আমার সামনে দাঁড়ালেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে গান বন্ধ করে তাঁকে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করলাম। তিনি প্রাণভরা হাসি হেসে আমায় হাত তুলে আশীর্বাদ করলেন (মাথায় দু’হাত রেখে নয়)।’ (সংশ্লিষ্ট গ্রন্থের মঞ্জুভাষ সংস্করণ, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৮৯, ৯০)।

    গৌতম রায়, ভাটপাড়া, উত্তর ২৪ পরগনা