Short Story

আগুনের উপমা

গৌতম ঘোষদস্তিদার

সন্তর্পণে দরজার ছিটকিনি খোলার মৃদু আওয়াজ পেল মন্দিরা। একটু অবাকই হল সে। ডোরবেল তো বাজেনি। ডোরবেল ছাড়া কেন বাইরের দরজা খুলল শিউলি! নাকি বেল বেজেছিল, সে শোনেনি! ঘুমিয়ে পড়েছিল নাকি!

না, তা কী করে হবে। সে তো অনেকক্ষণ ধরেই দেওয়ালের ওই পরিচিত টিকটিকিটার দিকে তাকিয়ে ছিল। টিকটিকিটা একটা ছোট্ট প্রজাপতিকে ধরার চেষ্টা করছে, আর ভয় পেয়ে প্রজাপতিটা বারবার উড়ে-উড়ে জায়গা বদল করছে। দেখতে দেখতে আতঙ্কে জড়সড় হয়ে যাচ্ছিল মন্দিরা।

শিউলি একটু আগেই, মন্দিরার খাওয়া আর ওষুধের পাট মিটিয়ে, তার বালিশটালিশ ঠিক করে, সে শুয়ে পড়লে গায়ে চাদরটা বিছিয়ে, তার ঘরের জানালা বন্ধ করে, ভারী পরদা টেনে দিয়ে গেছে। শিউলি এখন টিভি দেখবে বলে ডাইনিংয়ের দিকের দরজাটাও বন্ধ। প্রজাপতিটার বের হওয়ার কোনও পথ নেই। মন্দিরা ভাবছিল, প্রজাপতিটা এই বন্ধ ঘরে ঢুকল কোথা থেকে! বেল বাজিয়ে শিউলিকে ডাকবে কি না, ভাবছিল। তখনই টিকটিকিটা অব্যর্থ লাফ দিয়ে প্রজাপতিটাকে ধরে ফেলল। প্রজাপতিটা একবার ডানা ঝাপটাল। চোখ বুজে ফেলল মন্দিরা। চোখ খুলে টিকটিকিটাকে আর দেওয়ালে দেখেনি। তখনই ওই মৃদু, সতর্ক ছিটকিনি খোলার শব্দ টের পেল সে।

বেল যে বাজেনি, তাতে নিশ্চিত মন্দিরা। সে উত্‌কর্ণ হল। মাঝখানের দরজা বন্ধ থাকায় ওদিকের শব্দ স্পষ্ট শোনা যায় না। কান পেতে রেখেও কারও সাড়াশব্দ পেল না। টিভিতে অনুচ্চে সিরিয়াল চলছে। তাহলে তারই মনের ভুল, ভেবে আবার পাশ ফিরল মন্দিরা। কিন্তু খটকাটা যেন রয়েই গেল। বিকেলে শিউলিকে জিজ্ঞেস করবে।

সামনে পড়ে রয়েছে দীর্ঘ দুপুর। দু’চোখের পাতা এক করতে পারে না মন্দিরা। এপাশ-ওপাশ করে সময় যেন আর কাটতেই চায় না। দুপুরটা যেন ভারী পাথরের মতো বুকের ওপর উঠে আসে।

সকালে অর্পণ এই ঘরে ঢুকে জানালা খুলে দিতেই একটুকরো রোদ লুটিয়ে পড়ে মেঝের ওপর। তার আগে ঘুম ভেঙে মন্দির


TO READ THE REST OF THIS PIECE, SUBSCRIBE NOW