চিঠিপত্র

হারানো শৈশব

  • রমাপদ চৌধুরীর ‘হারানো খাতা’ পড়ে আমি আমার শৈশবকে ফিরে পেলাম। এই পত্রলেখকের গ্রামে যাওয়ার রেলস্টেশনটি ছিল মানকর। সেখানে নেমে গোরুর গাড়িতে চেপে গ্রামে যেতে হত। আজ গ্রামে পিচরাস্তা হয়েছে, বিদ্যুত্‌ পৌঁছেছে, কেব্ল টিভি দেখতে পাওয়া যায়, কিন্তু গোরুর গাড়িতে চেপে মেঠো রাস্তায় যাওয়ার উন্মাদনাই ছিল আলাদা। রমাপদবাবু সঠিক লিখেছেন, গ্রামদেশে কোনও অনুষ্ঠানে-উত্‌সবে দূর বা নিকট আত্মীয়রা আসতেন, বেশ কিছুদিন থাকতেন, তাতে যাঁরা আসতেন তাঁরাও কোনও কুণ্ঠা বোধ করতেন না, গৃহকর্তারও কোনও অসুবিধে হত না। আসলে তখন গ্রামের লোকেরা ছিল সরল এবং অকৃত্রিম। আজ গ্রামের অনেক অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে, কিন্তু সেই সহজ সরল মানুষগুলো গ্রাম থেকে হারিয়ে গিয়েছে।

    ঝাংলাই সাপের মতো আমাদের বাড়ির চারদিকে পুকুরের ধারে ধারে একটি খুব বৃহত্‌ সাপকে ঘুরতে দেখেছি। ওখানে সবাই বলত রাজ সাপ। সেই সাপটি কিন্তু কোনও দিন কাউকে কামড়ায়নি। বর্ষাকালে পচা খড় থেকে জন্ম নিত ‘ব্যাঙের ছাতা’ যেগুলোর নাম ছিল নোয়াল ছাতু। নোয়াল ছাতু রান্না হত, তার স্বাদই ছিল আলাদা, আজকাল প্যাকেটজাত মাশরুমে সে স্বাদ মেলে না। একবার বলগনায় একটা ছোট্ট মিষ্টির দোকানে রসগোল্লা খেয়েছিলাম, আজও সেই অকৃত্রিম ছানার স্বাদ মুখে লেগে আছে।

    সন্তোষকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা-৭০০০৬১

    - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -

     দুই

    গত ১৭ জুন ২০১৪ সংখ্যায় রমাপদ চৌধুরী তাঁর প্রথম ‘দেশ’-এ যাওয়ার বর্ণনায় বর্ধমান-কাটোয়া ছোট লাইনের ট্রেনের উল্লেখ করেছেন। তিনি এই লাইনকে ‘মিটার গেজ’ বলেছেন। আসলে এটি ‘ন্যারো গেজ’। মিটার গেজ লাইনের দু’টি রেললাইনের মাঝখানের তফাত এক মিটার এবং বড় লাইন অর্থাত্‌ ব্রড গেজের এই তফাত এক মিটারের বেশি। ছোট লাইন বা ন্যারো গেজ লাইনের ক্ষেত্রে তা এক মিটারের কম। ভারতে বিভিন্ন রেল কোম্পানি তাদের ব্যবসার সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন গেজের রেলপথ তৈরি করেছিল। স্বাধীনতার পরে রেলপথের জাতীয়করণ করা হয়। ক্রমে সমস্ত মিটার গেজ লাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ন্যারো গেজ লাইনের বেশির ভাগ রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেমন, কালীঘাট-ফলতা, আহমেদপুর-কাটোয়া, হাওড়া-শিয়াখালা, চণ্ডীতলা-জনাই, বড়গাছিয়া-চাঁপাডাঙা প্রভৃতি। কেবল পুরুলিয়া-লোহারদাগা, হাওড়া-আমতা ও বারাসত-বসিরহাট লাইন তিনটি ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বর্ধমান-কাটোয়া রেলপথটি প্রথম পর্যায়ে বর্ধমান থেকে বলগনা পর্যন্ত ব্রডগেজ হয়ে গেছে। পরে কাটোয়া পর্যন্ত হবে। কেবল নিউ জলপাইগুড়ি-দার্জিলিং, কালকা-সিমলা ও মহারাষ্ট্রের মহাবালেশ্বর যাওয়ার লাইন তিনটি চালু আছে। এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে মনে হয়।

    অজিত ভট্টাচার্য, হুগলি-৭১২৪০৯

You may like