Short Story

অর্ধস্বর্ণ নকুল

হেমেন্দুশেখর জানা

নিঃশব্দ চরণে পশ্চিমের বিদায়-মণ্ডলে এসে দাঁড়ালেন দেব অংশুমালী। তবু বিদায় নেওয়ার আগে চিরাচরিত অভ্যাসে একবার তাকালেন তাঁর প্রিয় পৃথিবীর দিকে। স্নিগ্ধ একটি কিরণরেখা ঈষত্‌ তির্যক ভঙ্গিতে এসে পড়ল হস্তিনাপুরের যজ্ঞস্থলে। নিস্তব্ধ, জনশূন্য সেই যজ্ঞস্থলে তখন একাকী দাঁড়িয়েছিলেন যুধিষ্ঠির।

কয়েক দণ্ড পূর্বেই মহাযজ্ঞের যাবতীয় শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়েছে। দক্ষিণা-দান রূপে অপরিমেয় সুবর্ণ গ্রহণ করে পরিপূর্ণ অন্তরে ফিরে গিয়েছেন ব্রাহ্মণ ও ঋষিগণ। ফিরে গিয়েছেন মহর্ষি বেদব্যাস। আমন্ত্রিত রাজন্যবর্গকে যুধিষ্ঠির উপহার দিয়েছেন অগণিত অশ্ব, রথ, সর্বাঙ্গের মণিময় স্বর্ণালঙ্কার, গুণান্বিতা সুন্দরী যুবতী। অবশিষ্ট সুবর্ণ দান হিসেবে পেয়েছেন রাজন্যবর্গের পার্শ্বচর, সভাসদ ও সারথিবৃন্দ। এমনকী, কিঙ্কর-কিঙ্করীগণও বঞ্চিত হননি এই যজ্ঞে। যজ্ঞমণ্ডপ সজ্জিত হয়েছিল যেসব সুবর্ণ অলঙ্কারে, যেসব সুবর্ণ ঘট ও থালিকা মাঙ্গলিক হিসেবে রক্ষিত হয়েছিল, সেইসব তৈজস তারা পেয়েছে দুই হস্ত পূর্ণ করে। দানযজ্ঞ তখন হয়ে উঠেছিল যথার্থ আনন্দযজ্ঞ। দূরতম ছায়াচ্ছন্ন কোণেও কণামাত্র অসন্তুষ্টি পরিলক্ষিত হয়নি আজ। হীন অন্ত্যজ, অন্ধ ও আতুরগণও হর্ষচিত্তে ফিরে গিয়েছে গৃহে। এই দানযজ্ঞ তাই অদ্বিতীয় এই ভারতবর্ষে, এমনই অভিনন্দন-বাক্যে অনর্গল স্নাত হয়েছেন যুধিষ্ঠির, স্নাত হয়েছেন পুষ্পবর্ষণে।

শেষ উপায় হিসেবে এই মহাযজ্ঞেরই বিধান দিয়েছিলেন মহর্ষি বেদব্যাস, পিতামহ ব্যাসদেব। কুরুক্ষেত্রে মহাযুদ্ধের পর, রাজপদে অভিষিক্ত হওয়ার দুই পক্ষকাল পরেও শোকে-বিলাপে-অনুশোচনায় তিনি যখন উদ্ভ্রান্ত, গার্হস্থ্য-স্থিত অন্তর তাঁর ছিন্ন, যখন সন্ন্যাস-সংকল্পে তিনি অটল, যখন ভীষ্ম-কৃষ্ণসহ সমূহ প্রাজ্ঞজনের উপদেশ ও সান্ত্বনাবাক্য ব্যর্থ, তখনই ব্যাসদেব বল


TO READ THE REST OF THIS PIECE, SUBSCRIBE NOW

You may like