Novel

পূর্বপুরুষ

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আজ সারাদিন ঝাঁকে ঝাঁকে বৃষ্টি। কখনও একটু থামে আবার প্রবলভাবে আসে। এমন বৃষ্টির মধ্যেও কেউ কেউ পুকুরে স্নান করতে যায়, তাও সন্ধেবেলা।

আদিনাথ চৌধুরী প্রতিদিন দু’বেলা আহ্নিক করেন, তার আগে স্নান করে নিতেই হয়। সেই সময় একবুক জলে দাঁড়িয়ে স্তব করেন প্রভাত ও সন্ধ্যা সূর্যের। মাথায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে, তবু তিনি প্রতিদিনের এ অভ্যেস ছাড়তে পারেন না।

আজ সারাদিন ঝাঁকে ঝাঁকে বৃষ্টি। কখনও একটু থামে আবার প্রবলভাবে আসে। এমন বৃষ্টির মধ্যেও কেউ কেউ পুকুরে স্নান করতে যায়, তাও সন্ধেবেলা।

আদিনাথ চৌধুরী প্রতিদিন দু’বেলা আহ্নিক করেন, তার আগে স্নান করে নিতেই হয়। সেই সময় একবুক জলে দাঁড়িয়ে স্তব করেন প্রভাত ও সন্ধ্যা সূর্যের। মাথায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে, তবু তিনি প্রতিদিনের এ অভ্যেস ছাড়তে পারেন না।

এই পুকুরটা বারোয়ারি। আকারে খুব বড় এবং চতুষ্কোণ, একে দিঘি বলাই উচিত। তিন দিকেই বসতি আছে, তাই তিনটি ঘাট। অন্য দিকটায় ফলের বাগান, সেখানে কিছু কিছু গাছ এত পুরনো আর লম্বা যে, অন্য পাড় থেকে ঘন জঙ্গল বলে প্রতীতি হয়। ওখানে কেউ লুকিয়ে থাকলে বোঝার উপায় নেই। সেরকম থাকেও।

একটি ঘাট শুধু রমণীদের জন্য নির্দিষ্ট। সে ঘাটের দু’পাশে দু’টি চালতা গাছ। পুরুষদের পক্ষে ভুল করেও সে ঘাটে যাওয়ার কথা নয়। দামাল ছেলেরা চালতা পাড়তে এলেও বকুনি খায়। একমাত্র সুরেশ্বরই এ নিয়ম মানে না, সে যখন তখন ঘাটের পইঠায় বসে থাকে। প্রথম প্রথম তাকে বকাবকি করা হলেও এখন সবাই বুঝে গেছে যে, সুরেশ্বরের খামখেয়ালিপনা অসংশোধনীয়। মানুষটা তো এমনিতে বদ নয়। মেয়েরাও রাগ করে না। বয়স্কা মহিলাদের কেউ সকৌতুকে তার কান মুলে দিয়ে বলেন, এই বোমভোলানাথ, এখন যা এখান থেকে। আমরা কাপড় ছাড়ব না?

আদিনাথ জলে দাঁড়িয়ে সংস্কৃত মন্ত্র আওড়াতে


TO READ THE REST OF THIS PIECE, SUBSCRIBE NOW

You may like