Short Story

মাটির গভীরে

উল্লাস মল্লিক

ধু ধু সবুজ ধানের খেতে উলুটি-পালুটি হাওয়া, কচি শীষগুলো ঢলাঢলি করছে আহ্লাদে। সবুজ চিরে শুয়ে থাকা কালো পিচ রাস্তা দিয়ে রং-চটা নীল অ্যাম্বাসাডর গাড়িটা তীব্র গতিতে ছুটছে। পেছনের সিটে শরীর এলিয়ে কো-অপারেটিভ ইনস্পেক্টর সত্যব্রত রায়। বুকের দুটো বোতাম খোলা। গাড়ির জানলা বন্ধ করলে ভ্যাপসা গুমট, খুলে রাখলে উত্তপ্ত বাতাসের ঝাপটা। ব্যাঙ্ক সুপারভাইজার হাওয়া আড়াল করে চমত্‌কার কৌশলে সিগারেট ধরিয়ে ফেলে একটা। এক ঘণ্টার মধ্যে এটা তিন নম্বর। সত্যব্রত বিরক্ত। সে নন-স্মোকার জেনেও ভদ্রলোক একটার পর একটা সিগারেট খেয়ে যাচ্ছে। দুই ভুরুর মাঝখানে বিরক্তিটা সেঁটে বাইরে তাকায় সত্যব্রত। দু’পাশে দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে সবুজ খেত আর রাস্তা-লাগোয়া খটখটে নয়ানজুলি। সবুজের মাঝে উঁচিয়ে থাকা হাই-টেনশন লাইনের রুপোলি ব্রিজগুলো রোদে ঝলকাচ্ছে। কো-অপারেটিভ ইনস্পেকটরের পদে এখনও বছর ঘোরেনি সত্যব্রতর। এতদিন বিচিত্র ডাকছাড়া ফ্যানের নীচে, মাকড়সার জাল বিছানো ঘরে নড়বড়ে চেয়ার-টেবিলে বসে ফাইল উল্টেছে। এবার ইয়ার এন্ডিং-এর ঝামেলা তাকে টেনে নামিয়েছে মাঠে। প্রচুর লোন অনাদায়ী। তাগাদা করে, চাপ দিয়ে, ভয় দেখিয়ে চাষিদের কাছ থেকে আদায় উসুল করতে হবে। ক’দিন টানা মার্চ মাসের ঠিকুর রোদে ঘুরে চাঁদি গরম। গাড়ির মধ্যে বসে মনে মনে প্রস্তুত হচ্ছে সত্যব্রত। ব্যাঙ্ক সুপারভাইজারের চোখে বাইফোকাল লেন্সের চশমা, ভদ্রলোকের মনের ভাব কখনও মুখের রেখায় ফোটে না। টাকা আদায়ে বেশ ঘুঘু। সেইজন্যেই বোধহয় নিশ্চিন্তে সিগারেট খেয়ে যাচ্ছে একটার পর একটা। সামনে ড্রাইভারের পাশে পলাশপুর কো-অপারেটিভের ম্যানেজার কিছুটা জড়োসড়ো হয়ে বসে। একটু ক্ষয়াটে চেহারা, মুখে সবসময় একটা বিগলিত হাসি। সুপারভাইজার জিজ্ঞেস করে, আমরা এখন কোথায় যাব?

ম্যানেজার বলে, বাছুরগোট গ্রামে স্যার।

আর


TO READ THE REST OF THIS PIECE, SUBSCRIBE NOW

You may like